বিজ্ঞানরম্য

অ্যাকোয়া থার্মাল কন্ডিশন

বিজ্ঞাপন

এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে ফোন করতেই ওপাশ থেকে বন্ধু বলল, এখন কথা বলতে পারব না। ব্যস্ত আছি।

কিসের ব্যস্ততা?

আমি ডিজাস্টার এনভায়রনমেন্টে অ্যালুমিনিয়াম আর সিরামিকসের ওপর অ্যাকোয়া থারমাল ইমপি–মেন্টে ব্যস্ত আছি। ফোন করা বন্ধু তো টাসকি খেয়ে গেল। বিজ্ঞানের এত জটিল গবেষণায় তার এই বন্ধু কবে নামল? যদ্দুর মনে পড়ে, সে ছিল আর্টসের ছাত্র।

আসলে বিষয়টা অন্য। নারীবাদী স্ত্রীর হুমকিতে পারিবারিক সম-অধিকার আইনের আওতায় ঘরোয়া স্বামী ডেকচি-পাঁতিল, থালাবাসন গরম পানি দিয়ে ধুচ্ছিলেন।

বিজ্ঞানের ভাষা কখনো কখনো এমনই...যেন ধোঁয়াশা তৈরি করে। বুঝি বুঝি করেও ঠিক যেন বোঝা হয়ে ওঠে না, বলেই আমরা সবাই কিন্তু বিজ্ঞানী না, কেউ কেউ ‘বিজ্ঞানমনস্ক!’

ঘরের ভেতর অ্যাকোয়া থার্মাল ইমপি–মেন্ট থেকে এবার ঘরের বাইরে মহাকাশের দিকে যাই না কেন। মানুষ সব সময় মহাবিশ্বে বুদ্ধিমান প্রাণের সন্ধান করে চলেছে। নাসা ঘোষণা দিয়েছে ২০২৫ সালের ভেতর তারা ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমর্থ হবে...আবার শনি গ্রহের বলয়ের কোনো একটি উপগ্রহে নাকি ইতিমধ্যে বুদ্ধিমান প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব নিয়ে একজন বিশেষ চিন্তিত। সে রাত তিনটায় তার আরেক বন্ধুকে ফোন দিল।

দোস, আমি যেটা বুঝলাম, এই মহাবিশ্বে আসলে কোনো বুদ্ধিমান প্রাণী নেই।

ওপাশে সদ্য ঘুমভাঙা বিরক্ত বন্ধু বলল, ‘আমার মনে হয় শুধু মহাবিশ্বে কেন এই পৃথিবীতেও কোনো বুদ্ধিমান প্রাণী নেই!’

মানে কী বলছিস তুই?

তুই রাত তিনটায় ফোন দিলি বলেই কথাটা মাথায় এল।

তবে সত্যিই যদি ভিনগ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণীরা থেকে থাকে এবং তারা যদি পৃথিবীর মাটিতে নেমে আসে, তাহলে কী হবে? ধরা যাক তারা সসারে করে নেমে এসেছে এবং একজন কিম্ভূতদর্শন এলিয়েন বের হয়ে একজন পৃথিবীর মানুষকে পেল, তার প্রথম কথা হলো—

তোমাদের লিডারের কাছে আমাকে নিয়ে চলো। পৃথিবীর মানুষটি একটুক্ষণ যেন চিন্তা করল তারপর বলল, লিডারের কাছে পরে, আগে চলো তোমাকে একজন প্লাস্টিক সার্জনের কাছে নিয়ে যাই...তোমার চেহারার যে অবস্থা!

‘বিজ্ঞানী না হোন, বিজ্ঞানমনস্ক হওয়া কিন্তু অতীব জরুরি’—এটা আমার বাক্য নয়, কোনো বিশিষ্টজনের বাক্যই হবে সম্ভবত। তবে বেশি বিজ্ঞানমনস্ক হওয়ার কিন্তু আবার বিপদ আছে। যেমন এক তরুণ আরেক তরুণীর প্রেমে পড়ে অ্যাকোয়া থার্মাল কন্ডিশনে হাবুডুবু খাচ্ছে। একদিন আর না পেরে ‘আঙুল কাটিয়া কলমও বানাইয়া’ চিঠি দিল। মানে কলমের কালির বদলে রক্ত দিয়ে চিঠি লিখে পাঠাল (তখনো মোবাইল এসএমএস, ফেসবুক এসবের যুগ শুরু হয়নি)। দুদিন পর চিঠির উত্তর এল। উত্তেজিত প্রেমিক খাম খুলে দেখে তাতে লেখা, ‘আপনার রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ। ধন্যবাদ।’

আবারও বলি, বিজ্ঞানী না হই, ‘বিজ্ঞানমনস্কচেতন’ হতে বাধা কোথায়?

লেখক: রম্য লেখক।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন