বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনা পরিস্থিতির কারণে ইউআরসি ২০২১-এর গোটা আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় অনলাইনে। এবারের চ্যালেঞ্জ মুল বিষয় ছিল পরবর্তী প্রজন্মের এমন মার্স রোভার ডিজাইন করা ও বানানো, যা মানুষের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে পারবে। বাছাই পর্ব পেরিয়ে ৩-৫ জুন পাঁচটি দেশের ১৩টি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মঙ্গলগ্রহবিষয়ক আন্তজার্তিক ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান মার্স সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্স রোভার দল অংশ নেয়। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের পরে দুই ধাপে চলে বাছাই প্রক্রিয়া। প্রথম ধাপে দলগুলোর নিজেদের ডিজাইন করা রোভারের ডিজাইন যাচাই করা হয় এবং দ্বিতীয় ধাপে করা হয় সিস্টেম অ্যাকসেপ্টেন্স রিভিউ। দুই ধাপ পেরিয়ে ১৩টি দল মূল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এর মধ্যে বাংলাদেশের দল ছিল দুটি। কিন্তু সবাইকে টপকে বিজয়ী হয় মঙ্গল বার্তা।

মূল প্রতিযোগিতায় ছিল তিনটি পর্ব- ইকুইপমেন্ট সার্ভিসিং মিশন, অটোনোমাস নেভিগেশন মিশন, এক্সট্রিম রিট্রিভাল অ্যান্ড ডেলিভারি মিশন। ইকুইপমেন্ট সার্ভিসিং মিশন পর্বে প্রতিযোগী দলগুলোর রোভারকে এমন কিছু কাজ করতে দেওয়া হয়, যেগুলো মানুষ করতে পারে। এ পর্বে এমআইএসটি মঙ্গল বার্তা পেয়েছে ১০০-তে ১০০, ব্র্যাকইউ মঙ্গল-তরী পেয়েছে ৪১।

অটোনোমাস নেভিগেশন মিশন পর্বে রোভারকে কিছু মার্কার অনুসরণ করে নির্দিষ্ট পথ ধরে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়। এ কাজটি রোভারকে করতে হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এ পর্বে সবচেয়ে ভালো করেছে ব্র্যাকইউ মঙ্গল-তরী। তাদের অর্জিত স্কোর ৩০। মিশরের ফারাওস টিম ১০ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে। এমআইএসটি মঙ্গল বার্তাসহ বেশিরভাগ দলই এ পর্ব থেকে কোনো স্কোর তুলতে পারেনি।

এক্সট্রিম রিট্রিভাল অ্যন্ড ডেলিভারি মিশন পর্বে মঙ্গলের বন্ধুর পথ ধরে ছুটতে হয় রোভারকে। খুঁজতে হয় বিভিন্ন সাপ্লাই, পৌঁছে দিতে হয় সঙ্গী নভোচারীকে। এই পর্বটি সঠিকভাবে আয়োজন করা যায়নি। তবে বিচারকরা নভোচারীকে সাপ্লাই পৌঁছে দিতে কাজে লাগবে, এমন বিভিন্ন কাজ ঠিক করে দিয়েছেন। যেমন, ছোট-বড় প্যাকেট নিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ছুটে যাওয়া, খাড়া পথ ধরে ওপরে ওঠা ইত্যাদি। এ পর্বে সবচেয়ে ভালো করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হাস্কি রোবোটিকস দল। ৮০ পয়েন্ট পেয়ে এ পর্বে দ্বিতীয় এমআইএসটি মঙ্গল বার্তা। ব্র্যাকইউ মঙ্গল-তরী পেয়েছে ৫২।

সব মিলিয়ে ১৮০ পয়েন্ট পেয়ে এমআইএসটি মঙ্গল বার্তা প্রথম হয়েছে, মিশরের ফারাওস টিম ১৬০ পেয়ে হয়েছে দ্বিতীয়, হাস্কি রোবোটিকস ১৪২ পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে এবং ১২৩ পেয়ে চতুর্থ হয়েছে ব্র্যাকইউ মঙ্গল-তরী।

বিজয়ী দলগুলো ইন্টারন্যাশনাল মার্স সোসাইটি কনভেনশনে নিজেদের রোভার প্রদর্শনের সুযোগ পাবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

সূত্র : ইউআরসি মার্স সোসাইটি ডট অর্গ

ইভেন্ট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন