বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও মাসিক বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘স্কুল-কলেজ সব বন্ধ। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে আছে। এ সময় ফিজিক্স অলিম্পিয়াড আয়োজন একটা বেশ ভালো উদ্যোগ। এটি শিক্ষার্থীদের ঘরবন্দী এ সময়েও পদার্থবিজ্ঞান চর্চায় আগ্রহী করে তুলেছে, অনুপ্রেরণা দিয়েছে।’

প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি দারুণ হচ্ছে। এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু অনেক সুখবরের মধ্যে দুঃসংবাদও আছে। স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি ইত্যাদির খবর আমরা দেখি। আমার মনে হয়, এর পেছনে আমাদের অদক্ষতাও দায়ী। সেজন্য আমার কথা হচ্ছে, স্বাস্থ্যখাত ইত্যাদি খাতের পাশাপাশি শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। মানবসম্পদের ওপর আরও বেশি বিনিয়োগ করে দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তুললে এটি আমাদের আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি বলেন, ‘পদার্থবিজ্ঞানের যত আবিষ্কার, তা নিঃসন্দেহে সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছে। আমাদের দেশে পদার্থবিজ্ঞান চর্চাকে উৎসাহিত করতে ফিজিক্স অলিম্পিয়াড কমিটি যে কাজ করে যাচ্ছে, সেজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। এক সময় আমরা অভ্যস্ত ছিলাম, পাঠ্যবইতে কিছু জিনিস থাকবে, সেগুলো মুখস্ত করে পরীক্ষা দেব, ভালো ফলাফল করব, বাবা-মা সেটা নিয়ে গর্বিত হবেন। এটার বাইরে বেরিয়ে এসে, পড়াশোনায় যে আনন্দ আছে, সেটা যে তারা শিক্ষার্থীদেরকে বুঝিয়েছেন, এর পেছনে অলিম্পিয়াডগুলোর বিশেষ ভূমিকা আছে। শিক্ষাব্যবস্থায় নানা সমস্যাও তারা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। জিপিএ ৫ নিয়ে আমাদের দেশে যে উন্মাদনা, একটু কম পেলেই কবরের নিস্তব্দতা নেমে আছে, এটা কিন্তু শিক্ষার্থীদের ওপর প্রচণ্ড চাপ ফেলে। পরীক্ষায় আমরা ভালো ফলাফল করার চেষ্টা অবশ্যই করব। কিন্তু পরীক্ষা-ই যে সব নয়, পড়াশোনায় আনন্দ পাওয়াটাও যে গুরুত্বপূর্ণ, সেটাও আমাদের বুঝতে হবে।’

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা সবাই আগ্রহী, সবাই উৎসাহী। ফিজিক্স অলিম্পিয়াড আমার খুবই প্রিয় একটি অলিম্পিয়াড। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের আমরা এ অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ করে দিতে পারছি। এখন আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশে গবেষণা করতে চলে যায়, কারণ, দেশে তাদেরকে গবেষণা করার মতো যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ দেওয়া যায় না। যদি সেটা আমরা করতে পারি, বাংলাদেশ গবেষণায় এত এগিয়ে যাবে, যা আমি মনে করি কেউ কখনো দেখিনি। আমি স্বপ্নে দেখি, আমরা সেটা করতে পারব। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গবেষণাগারটি আমরা একদিন বাংলাদেশে গড়ে তুলব।’

ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেন, ‘এই করোনাকালীন দুঃসময়েও আমরা ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের সঙ্গে আমরা ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। উপস্থিত অতিথিদের অনেকে যেরকম বললেন, আমরা মনে করি, মানবসম্পদ গড়ে তোলায় আরও বেশি বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। গত ১৮ বছর যাবত আমরা গণিত অলিম্পিয়াডের সঙ্গে আছি, ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের সঙ্গে আছে গত ৯ বছর ধরে। মানবসম্পদ উন্নয়নে যতটুকু করা সম্ভব, সেটুকু আমরা ভবিষ্যতেও করে যাব, এমনটাই আমাদের ইচ্ছা।’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রতিটি ক্যাটাগরির সম্মিলিত প্রথম ও মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারকারীদের নাম ঘোষণা করা হয় ও তাদের লাইভে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়।

সি ক্যাটাগরিতে সম্মিলিতভাবে প্রথম হয়েছে ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের গোলাম ইশতিয়াক। আর মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছে চট্টগ্রামের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের আতিকা হাসান। বি ক্যাটাগরিতে সম্মিলিতভাবে এবং মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছে ঝিনাইদহের মহেশপুর সরকারি পাইলট মডেল হাইস্কুলের আফরিন সুলতানা। সম্মিলিতভাবে এ ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে আমতলী এম. ইউ. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চিন্ময় হাওলাদার। মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছে স্কলাস্টিকা স্কুলের নুসাইবা নাশিতা রহমান।

এ বছর ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে প্রায় ৯ হাজার ৮ শ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্য থেকে বাছাই পর্ব থেকে উত্তীর্ণ হয়ে ২ হাজার ৯ শ জন শিক্ষর্থী আঞ্চলিক পর্বে অংশ নেয়। আঞ্চলিক পর্বে বিজয়ী ১ হাজার ১ শ ৬৪ জনকে নিয়ে ১২ মে আয়োজিত হয় জাতীয় পর্ব। জাতীয় পর্বে ৯৫ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

জাতীয় পর্বে বিজয়ীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৫ জনকে নিয়ে আন্তর্জাতিক ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের জন্য বাংলাদেশ গঠন করা হবে। এই দলটিই লিথুনিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ৫১ তম ফিজিক্স অলিম্পয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।

বিজ্ঞানচিন্তা প্রতিবেদক

ইভেন্ট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন