এ পর্যন্ত মোট ১২ জন নভোচারী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অ্যাপোলো মিশনে চাঁদের মাটিতে নেমেছেন। সেখানে হেঁটে চলাফেরার সময় চাঁদের মাটি সংগ্রহ করে পৃথিবীতে নিয়ে এসেছেন। স্পেস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী তাঁদের প্রত্যেকেই বলেছেন, চাঁদের মাটির গন্ধ পোড়া বারুদের (স্পেন্ট গানপাউডার) মতো। টুডে আই ফাউন্ড আউট অনলাইন পত্রিকা উল্লেখ করেছে, অ্যাপোলো-১৬-এর নভোচারী চার্লি ডিউক জানিয়েছেন, শুধু গন্ধ নয়, স্বাদও বারুদের মতোই।

প্রকৃতপক্ষে চাঁদের মাটি আর বারুদের উপাদানগুলো তো এক রকম নয়। তাহলে পোড়া বারুদের গন্ধ পাই কেন? এর দুটি কারণ থাকতে পারে। চাঁদের ধুলাবালু মূলত সিলিকন ডাই-অক্সাইডের চূর্ণবিচূর্ণ কণা। এর সঙ্গে কিছু লোহা, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামচূর্ণ রয়েছে। চাঁদে বাতাস বা আর্দ্রতা না থাকায় এর গন্ধ অনেকটা শুষ্ক বাতাসে মরুভূমির বালুকণার মতো।

বৃষ্টি হলেই মরুভূমির বালুর গন্ধ অন্য রকম হয়ে যায়। চাঁদের ধূলিকণার ক্ষেত্রেও অনেকটা সে রকম ব্যাপার ঘটে। চাঁদের ধূলিকণা পৃথিবীতে এনে সিল করা পাত্র থেকে বের করলেই আর্দ্র বাতাসের সংস্পর্শে আসে এবং এর স্বাদ-গন্ধ বদলে যায়।

আরেকটি কারণ হতে পারে, পৃথিবীর বাতাসের সংস্পর্শে এসে অক্সিডেশন হয়। অক্সিডেশন এক অর্থে প্রজ্বলন বা সহজ কথায় পুড়ে যাওয়ার মতো ব্যাপার। তবে এ প্রজ্বলন ঘটে ধীরগতিতে। ফলে, পোড়া বারুদের মতো গন্ধ পাওয়া যায়।

চাঁদে বাতাস নেই, জলীয় বাষ্প নেই। প্রায় ৪৫০ কোটি বছর ধরে চাঁদের ধুলাবালু এ অবস্থায় রয়েছে। ফলে, চাঁদের মাটিতে অবস্থানকালে চাঁদের ধুলাবালুর গন্ধ বা স্বাদ যে রকম থাকে, পৃথিবীর আর্দ্র বায়ুমণ্ডলের পরিবেশে সেটা একই রকম থাকার কথা নয়।

পৃথিবীর পরিবেশে এ পরিবর্তন হয় বলে চাঁদের মাটির মৌলিক চরিত্র বিশ্লেষণ করা কঠিন। এ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হলে চাঁদের মাটিতেই হয়তো গবেষণাগার স্থাপন করতে হবে।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সঙ্গে এক বিশাল গ্রহাণুর সংঘর্ষ ঘটে। এ সংঘর্ষের ঘটনা ‘বিগ হোয়্যাক’ নামে পরিচিত। এর কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠের একটি অংশ মেঘাচ্ছন্ন বাষ্পীভূত প্রস্তরখণ্ডের আকারে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে থাকে।

কালক্রমে এ বাষ্পাচ্ছন্ন মেঘ ঠান্ডা ও ঘনীভূত হয়। পরে শক্ত বস্তুপিণ্ডে পরিণত হয়। ধীরে ধীরে এটাই পৃথিবীর উপগ্রহ হিসেবে চাঁদে পরিণত হয়।

যদি তা-ই হয়, তাহলে সেই চাঁদের মাটিতে পৃথিবীর উদ্ভিদ তো জন্মাতে পারেই। আর এর ধুলাবালু তো মরুভূমির বালুকণার মতো হতেই পারে।

লেখক: আব্দুল কাইয়ুম, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক। [email protected]

বিজ্ঞানচিন্তা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন