বৃষ্টির ঘ্রাণ

প্রতিটি জিনিসের নিজস্ব একটা গন্ধ থাকে। ফুলের সুবাস আছে, খাবারের সুঘ্রাণ আছে, আছে পচা জিনিসের দুর্গন্ধও। ঠিক তেমনি একপশলা বৃষ্টির পর খুব পরিচিত একটা ঘ্রাণ পাওয়া যায়। একে কেউ কেউ বলেন সোঁদা গন্ধ। বৃষ্টির আগের ঘ্রাণ আর পরের ঘ্রাণ কিন্তু আলাদা। কিছু জৈব যৌগ এর জন্য দায়ী। এদের প্রধান উত্স তিনটি। মাটিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া, মাটি, গাছপালা থেকে নির্গত তেল আর বজ্রপাতের সময় নির্গত ইলেকট্রন চার্জ।

বিজ্ঞাপন

ব্যাকটেরিয়ার কথাই ধরা যাক, এদের নাম অ্যাকটিনোমাইসিটিস (actinomycetes)। এরা জিওস্মিন (geosmin) নামে একধরনের জৈব যৌগ তৈরি করে। এটি মাটির ভেতর লুকিয়ে থাকে। পরে এটি মিশে যায় বৃষ্টির পানির সঙ্গে। এরপর বাতাসের সংস্পর্শে আসে আর তারপরই এক বিশেষ ধরনের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। খুব অল্প জিওস্মিনই যথেষ্ট বৃষ্টির গন্ধ তৈরি করতে। প্রতি ট্রিলিয়নে মাত্র ৫ শতাংশ জিওস্মিন থাকলেই হলো। ২০০টি সুইমিংপুলের পানিতে ১ চামচ জিওস্মিন থাকলে গন্ধটা পেয়ে যাব আমরা।

বিজ্ঞাপন

গাছ থেকে তৈরি একধরনের তেলও দায়ী বৃষ্টির এই গন্ধের জন্য। গবেষণায় দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে গাছ একধরনের তেলের মিশ্রণ তৈরি করে। এই তেল গাছের বৃদ্ধি রোধ করে পানির চাহিদা কমায়। গাছ এই তেলের মিশ্রণটি মাটি ও পাথর থেকে সংগ্রহ করে। পরে বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে এর মধ্যকার উদ্বায়ী পদার্থগুলো বাতাসে মুক্ত হয়। জিওস্মিনের সঙ্গে মিশে এই তেলের মিশ্রণ এক বিশেষ ঘ্রাণের সৃষ্টি করে। ১৯৬৪ সালে বিজ্ঞানীরা এর নাম দেন পেট্রিকোর (petrichor) অর্থাত্ ‘বৃষ্টির পরের ঘ্রাণ’।

বিজ্ঞাপন

বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেও একধরনের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। ঘন ঘন বিদ্যুত্ চমকানোর সময় এই ঘ্রাণ পাওয়া যায়। এর উত্স বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত ইলেকট্রিক চার্জ। বজ্রবিদ্যুত্ বাতাসে উপস্থিত অক্সিজেন অণুকে ভেঙে অক্সিজেন পরমাণুতে রূপান্তর করে (বাঁ পাশের ছবি)। সেই মুক্ত অক্সিজেন অন্য অক্সিজেন অণুর সঙ্গে মিলে তৈরি করে ওজোন অণু (O3)। আর ওজোনের আছে তীব্র গন্ধ, অনেকটা ক্লোরিন কিংবা পোড়া তার (wire)-এর মতো। এটি সাধারণত বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে পাওয়া যায়। কিন্তু নিম্নগামী কোনো ঝড় এই গন্ধ বয়ে নিয়ে আসে নিচের দিকে। আর আমরা তখন সেই সোঁদা গন্ধটা পাই।

লেখক: শিক্ষার্থী, লেদার টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সূত্র: কম্পাউন্ড ইন্টারেস্ট

মন্তব্য পড়ুন 0