ভ্যাকসিন কি বিপজ্জনক?

ভ্যাকসিন ছাড়া পৃথিবীর কথা একবার ভাবুন তো? তখন আড়াই মিলিয়ন শিশুর মৃত্যু দেখতে হবে আমাদের। অর্থাৎ প্রতিবছর মিলিয়ন মিলিয়ন শিশুর প্রাণ বাঁচাচ্ছে ভ্যাকসিন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বিজ্ঞানে অগ্রসর দেশগুলোতেই ভ্যাকসিন নিয়ে প্রচলিত আছে নানা মিথ। ভিত্তিহীন সব যুক্তিতে মা–বাবারা তাঁদের সন্তানদের ঠিকমতো টিকা দিচ্ছেন না। খোদ ইংল্যান্ডে ২০১৭-১৮ সালে মাত্র ৯১ দশমিক ২ শতাংশ শিশুকে এমএমআর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বাকিরা থেকে যাচ্ছে অসুরক্ষিত। এমন অবস্থায় ভাইরাস আরও শক্তিশালী হয়ে হামের মহামারির আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

পরবর্তী প্রজন্মের ভ্যাকসিন

ভ্যাকসিন তৈরি করা কোনো সহজ কর্ম নয়। জীবাণুদের বুঝতে পারার থেকেও সব থেকে কঠিন কাজ হলো আমাদের নিজেদের ইমিউন সিস্টেমকে বুঝতে পারা। কীভাবে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে, কখন কার বিরুদ্ধে কীভাবে কাজ করছে আমাদের সিস্টেম, সেটা বুঝে উঠতেই বিজ্ঞানীদের কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে। জিন লেভেলে ইমিউন সিস্টেমকে বোঝার জন্য হিউম্যান ইমিওনোম প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হয়েছে। আমরা যত বেশি নিজের সিস্টেম সম্পর্কে জানতে পারব, তত বেশি জীবাণুদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারব।

ভ্যাকসিন নিয়ে ৫ তথ্য

গুটিবসন্ত

প্রতিবছর পাঁচ মিলিয়নের মতো লোক মারা যেত গুটিবসন্তের কারণে। ভ্যাকসিনের সফল প্রয়োগের কারণে বিশ্ব থেকে ১৯৮০ সালে সম্পূর্ণরূপে দূর করা গেছে এই রোগ।

ডিপথেরিয়া

ত্বক ও শ্বাসযন্ত্রের রোগ ডিপথেরিয়ার ভ্যাকসিন না থাকলে প্রতিবছর হারাতে হতো ২৬ হাজার প্রাণ।

হুপিং কাশি

হুপিং কফের ভ্যাকসিন ছাড়া ১ মিলিয়নের বেশি শিশু মারা যেত প্রতিবছর।

হাম

মাত্র দুই ডোজ টিকা হামের কারণে সৃষ্ট অন্ধত্ব, ফুসফুস ও মস্তিস্কের জটিল সমস্যা থেকে রক্ষা করছে শিশুদের।

নবজাতকের ধনুষ্টঙ্কার

নবজাতকের ধনুষ্টঙ্কার হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ধনুষ্টঙ্কারের ভ্যাকসিনের কারণে ৭০ হাজার শিশুর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে।

জীববিজ্ঞান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন