default-image

অনেক বছর আগের কথা। যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের শহর ম্যানসফিল্ড। সবে কিছুটা গরম পড়তে শুরু করেছে। এক অলস দুপুরে বাড়ির পেছনের লনে বসে আছেন বয়স্ক প্রফেসর ডলবেয়ার। ভালো নাম এমোস এমারসন ডলবেয়ার। ইউনিভার্সিটি অব কানেটিকাটে পদার্থবিজ্ঞান পড়ান। অধ্যাপনা করেছেন বহু বছর। গত সপ্তাহের ব্যস্ততা শেষে কিছু অবসর পাওয়া গেছে। তাই তিনি চান প্রকৃতির সান্নিধ্যে মনটাকে কিছুটা চাঙা করে নিতে। চনমনে রোদ্দুর এসে পড়ছে বাগানটাতে। সেই সঙ্গে একটানা ঝিঁঝি ডাকছে। ঝিঁ ঝি ঝি ঝি...।

ডলবেয়ার কান পেতে শোনেন। এদের সময়জ্ঞান প্রবল। নির্দিষ্ট সময় অন্তর ডাকছে। বরাবরই দেখা যায়, গরমটা একটু বেশি পড়লে এদের ডাকাডাকির মাত্রা বেড়ে যায়। আবার অন্য সময় ধীরে ডাকে। তবে কি তাপমাত্রার সঙ্গে ঝিঁঝির ডাকার সম্পর্ক আছে?

বিজ্ঞাপন

ডলবেয়ার পরীক্ষণের মানুষ। পরীক্ষণ ছাড়া তিনি কোনো কিছু মানবেন না। সেই মুহূর্তেই মনস্থির করলেন ঝিঁঝির বিষয়টা ঘাঁটবেন! যেমন ভাবা তেমন কাজ। দিনের পর দিন ঝিঁঝির শব্দ শুনতে লাগলেন। গুনতে লাগলেন কী হারে এরা ডাকছে। সেই সঙ্গে নিলেন একেক দিনের তাপমাত্রার পাঠ। রেকর্ড করে রাখলেন তথ্যগুলো। এবার খাতা-কলমে দেখার পালা। হাতে নিলেন ছক কাগজ। তাপমাত্রার বিপরীত প্রতি মিনিটে ‘ঝিঁ’ শব্দের সংখ্যা বসিয়ে একটা গ্রাফ তৈরি করলেন।

অবাক বিস্ময়ে ডলবেয়ার দেখলেন গ্রাফটা সরলরেখা! এবার বুঝতে পারলেন তাপমাত্রা আর ঝিঁঝির শব্দের মাঝে গাণিতিক সম্পর্ক আছে! সেই সম্পর্কের সমীকরণটাও গ্রাফ থেকে বের করলেন। সম্পর্কটাকে বিবৃত করলেন এভাবে:

T = 50 + (N-40)/4। এখানে প্রতি মিনিটে ডাক সংখ্যা ঘ, তাপমাত্রার ফারেনহাইট মান ঞ। এভাবে আবিষ্কার হলো বিখ্যাত ‘ডলবেয়ারের সূত্র’। সূত্রটাকে আরও সহজ করা যায়। প্রতি ১৫ সেকেন্ডে ঝিঁঝি ডাকের সংখ্যা হ ধরলে, দিনের তাপমাত্রা T = 40 + n।

গণিতের মোহময় বিস্তার ছড়িয়ে আছে প্রকৃতির মাঝে। গণিতের আছে নিজস্ব গান। কান পেতে রইলে সে গানের সুর শুনতে পাওয়া যায়!

লেখক: শিক্ষার্থী, কেমিকৌশল বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0