উভয় রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু ডিম থেকে এবং শেষ হয় ভিন্নরূপী পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে। দুই ক্ষেত্রেই প্রাথমিক প্রাণী নিম্ফ বা লার্ভার প্রধান কাজ থাকে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পুষ্টি সংগ্রহের মাধ্যমে প্রাণীর পরিপূর্ণ বৃদ্ধি-বিকাশ এবং পরিপক্বতা অর্জন। এই পরিবর্তনগুলোর সময় প্রাণী এক বা একাধিকবার খোলস পরিবর্তন করে। সরল রূপান্তরের ক্ষেত্রে তিনটি এবং সম্পূর্ণ রূপান্তরে চারটি পর্যায় থাকে। সম্পূর্ণ রূপান্তরের ক্ষেত্রে প্রাণী তৃতীয় পর্যায়টি পিউপাল স্টেজ মূককীট পর্যায় নামে পরিচিত। এই পর্যায়ে ঘুমিয়ে থাকে। এ সময় খাদ্যেরও দরকার হয় না। অভুক্ত ও পিউপাল স্টেজের স্থায়িত্ব প্রাণিভেদে ৬-১০ দিন পর্যন্ত হতে পারে এবং এটি নির্ভর করে পরিবেশের অবস্থা ও তাপমাত্রার ওপর। এ সময় লার্ভার অধিকাংশ টিস্যু এবং অঙ্গগুলো সম্পূর্ণরূপে ভেঙে যায় এবং প্রাপ্তবয়স্কদের আকারে পুনর্গঠিত হয়ে প্রাণী পিউপা থেকে বেরিয়ে আসে।

ব্যাঙাচির ব্যাঙে রূপান্তর আর শুঁয়োপোকা থেকে প্রজাপতির রূপান্তর হলো সম্পূর্ণ রূপান্তর। ফড়িং ও তেলাপোকার রূপান্তর হচ্ছে সরল রূপান্তর। এ ছাড়া বিটল প্রজাতির পোকা, মশা-মাছি, মথ, বোলতা ও পিঁপড়ার সম্পূর্ণ রূপান্তরের মাধ্যমে বেড়ে ওঠে। ছারপোকা, উকুন, উইপোকা, ঝিঁঝিপোকা, মাকড়সা, বিচ্ছু, সালামান্ডার, গুইসাপ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আংশিক রূপান্তর দেখা যায়।

ব্যাঙাচি পানিতে বাস করে, ফুলকার সাহায্যে শ্বসন সম্পন্ন করে এবং শৈবাল-উদ্ভিদ খেয়ে জীবন ধারণ করে, কিন্তু ব্যাঙ বাস করে ভূমিতে, ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাসকার্য চালায় এবং পোকামাকড় খায়। আবার শুঁয়োপোকা পাতা খায়। অন্যদিকে প্রজাপতি ফুলের মধু খেয়ে বাঁচে। লোমশ কেঁচোর মতো শুঁয়োপোকা পিউপাল স্টেজে গুটির মধ্যে আবৃত হয়ে বেরিয়ে আসে রঙিন অপরূপ প্রজাপতি হয়ে।

অপর দিকে ঘাসফড়িং আর তেলাপোকার ক্ষেত্রে নিম্ফ অনেকটা প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণীর মতোই। রূপান্তরের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয় এদের পাখা ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয় অঙ্গ।

প্রাণীর এই অসাধারণ সুন্দর পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রাখে এদের দুই ধরনের হরমোন—একডাইসোন ও জুভেনাইল হরমোন।

জুভেনাইল শব্দের অর্থ তরুণ। জুভেনাইল হরমোনের কাজ হচ্ছে কীটের লার্ভা অবস্থাকে দীর্ঘায়িত করা, যাতে লার্ভা প্রথমে পরিপূর্ণভাবে বেড়ে উঠতে পারে। লার্ভার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জুভেনাইল হরমোন নিঃসরণের পরিমাণ কমতে থাকে। অন্যদিকে একডাইসোন হরমোনটির প্রভাবে দেহত্বকের নিচে নতুন ত্বক বা খোলস গঠিত হয়। পুরোনো খোলস ছেড়ে দিয়ে নতুন খোলস বিকশিত হয়। সঙ্গে প্রাণীর নতুন কিছু বৈশিষ্ট্য এবং অঙ্গও জন্ম নেয় এ সময়।

ব্যাঙাচির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে থাইরয়েড হরমোন (থাইরক্সিন ও ট্রাইআয়োডোথাইরোনিন) দেহের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ প্রভাব ফেলে।

বর্তমানে প্রাণিজগতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রাণী রূপান্তরের মাধ্যমে বেড়ে ওঠে। প্রাণিজগৎকে করে তোলে আরও বৈচিত্র্যময় এবং জাগিয়ে দেয় জীবজগতের আজব সব কাণ্ড জানার আগ্রহ।

সূত্র: ব্রিটানিকা ডট কম

জীববিজ্ঞান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন