default-image

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ, চেক রিপাবলিক, ভারত, পোল্যান্ড, তুরস্ক এবং যুক্তরাজ্য থেকে আসা ১১টি দল অংশগ্রহণ করে। এ পর্বে ৩য় স্থান অধিকার করায় মঙ্গল বারতা সার্টিফিকেট ও ক্রেস্টের পাশাপাশি তুরস্কের স্পেস ক্যাম্প পরিদর্শন করার প্রস্তাব পেয়েছে।

এআরসি ২০২২ এর চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে একদল বিচারকের সামনে চারটি মিশন সম্পন্ন করতে হয়েছে। প্রথম মিশনটি ছিল স্যাম্পল এন্ড লঞ্চ মিশন। এই মিশনে মঙ্গলের মাটিতে রোভারের অবতরণ, বিভিন্ন ধরনের ছবি তোলা, মাটি ও পাথরের নমুনা সংগ্রহ এবং তা পরীক্ষা করে প্রাণের অস্তিত্ব নির্ণয় করার বিষয়টি নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে করে দেখাতে হয়। দ্বিতীয়টি ছিল অটোনোমাস নেভিগেশন এন্ড সার্চ মিশন। এই মিশনে রোভারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যায় এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। তৃতীয়টি ছিল একটি রেসকিউ মিশন বা উদ্ধার অভিযান। এই মিশনে একজন মহাকাশচারীকে চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়া এবং তার কাছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির বাক্স পৌঁছে দিতে হয় দলগুলোকে। সর্বশেষ মিশনটি ছিল বিশ্লেষণ-উপস্থাপন মিশন, যেখানে আগের তিনটি মিশনের সার্বিক কাজ এবং ফলাফল বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত উপস্থাপন করতে হয়েছে দলগুলোকে।

default-image

টিম মঙ্গল বারতা বাংলাদেশ মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) রোবোটিক্স দল। ২০১৩ সালে গঠিত এই দলটিতে রয়েছেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটি নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে দলটি আরেক ধাপ এগিয়ে গেল এআরসি ২০২২-এ তৃতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে।

এআরসি ২০২২-এ অংশগ্রহণকারী দলের উপদেষ্টা ছিলেন সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লে. কর্নেল মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং এমই বিভাগের প্রভাষক শাহ মোঃ আহসান সিদ্দিক। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন সিএসই বিভাগের শাফায়েতুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম তামিম, রিয়াসাত হক, সুবাহ তাসনিম খান শায়েরি, মোঃ রাশিদ উল ইসলাম ও চৌধুরী ফারজানা তুর শান্তনা এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কে এম জামিউল হক, নাহিন ইবনে আকবর এবং মোঃ ফাহিম ফয়সাল। এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মোঃ ওয়াহিদ-উজ-জামান মঙ্গল বারতা দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ও এমই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ ওমর ফারুক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এবং সেনা কল্যাণ সংস্থা মঙ্গল বারতা দলটিকে এআরসি ২০২২ সার্বিক সহযোগিতা করেছে।

এর আগে, মঙ্গল বারতা ২০২১ সালে ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জের (ইউআরসি) ফাইনালে প্রথম হয়েছিল। এটি আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয়, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে নেই। মহাকাশের গভীরতম রহস্যগুলোর খোঁজে তারাও ছুটছে সমান আগ্রহে। এই আগ্রহ একদিন আমাদের হয়ত সত্যিই মঙ্গলে পৌঁছে দেবে। কে জানে!

ইভেন্ট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন