আচ্ছা, পৃথিবীতে কী হচ্ছে এখন? নিজের তিরিশ ইঞ্চি টেলিস্কোপ দিয়ে দেখার চেষ্টা করেছিল সে। কিন্তু ধরণীর বুকে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন চোখে পড়েনি।

একটু সতর্ক হয়ে চললে বোধহয় আরও বছর বিশেক বাঁচব, আবার ভাবল হ্যাথাওয়ে। তদ্দিনে হয়তো কোনো রকেট বা স্পেসশিপ আসবে পৃথিবী থেকে।

‘আমি একটু হেঁটে আসছি,’ কুঁড়ের দিকে ফিরে বলল সে।

‘ঠিক আছে,’ জবাব এল তার স্ত্রীর তরফ থেকে।

কিছু ধ্বংসাবশেষের পাশ কাটিয়ে এগিয়ে চলল হ্যাথাওয়ে। নীল পাহাড়ের পাদদেশের ছোট্ট, নির্জন গোরস্থানে পৌঁছে গেল খানিক বাদে। কাঠের ক্রুশ পোঁতা চারটে কবরের সামনে এসে দাঁড়াল সে।

‘যা করেছি, সে জন্যে তোমরা আমাকে ক্ষমা করেছ তো?’ ক্রুশগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল সে। ‘কী করব বলো, বড় নিঃসঙ্গ ছিলাম আমি।’

আরও খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর কুঁড়েতে ফিরল সে। ভেতরে ঢোকার আগে রোজকার অভ্যাসের বশে চোখ তুলে চাইল মিশমিশে কালো আকাশের দিকে।

‘অপেক্ষা করো, ধৈর্য ধরো,’ নিজেকে শুনিয়ে বলল হ্যাথাওয়ে। ‘হয়তো কোনো এক রাতে...’

অতি ক্ষীণ একটা লাল আলোর রেখা দেখা দিয়েছে আকাশে। বিস্ময়ে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল তার। নিশ্চিত হওয়ার জন্যে চোখ কচলাল একবার। নাহ্‌, যায়নি...এখনো আছে লাল রেখাটা। কাল রাতে ছিল না ওটা।

হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকল হ্যাথাওয়ে। ঝটপট টেলিস্কোপটা তাক করল আকাশপানে।

ঝাড়া এক মিনিট মোহগ্রস্ত হয়ে দেখল সে আলোকরশ্মিটা। তারপর দৌড়ে গেল ঘরের দরজার সামনে। স্ত্রী-সন্তানেরা ঘাড় ফিরিয়ে চাইল তার দিকে। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর মুখ খুলতে পারল সে, ‘সুখবর আছে। একটা রকেট আসছে, আমাদেরকে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে। ভোর নাগাদ পৌঁছে যাবে ওটা।’

ভোর তিনটেয় টর্চ হাতে বেরিয়ে পড়ল হ্যাথাওয়ে। প্লাস্টিক সিটিতে গিয়ে বড়সড় একটা ধ্বংসাবশেষে আগুন ধরিয়ে দিল। দাউদাউ করে জ্বলে উঠল বিশাল অগ্নিকুণ্ড। সোয়া মাইল এলাকা আলোকিত হয়ে উঠল সেই আগুনে। হ্যাঁ, এবার আকাশ থেকেও দেখা যাবে আগুনটা।

উত্তেজনায় বুকব্যথা শুরু হয়ে গেল মি. হ্যাথাওয়ের। কুঁড়েতে ফিরে গেল সে। একটা ধুলোপড়া কাচের বোতল বের করে দেখাল স্ত্রী-সন্তানদের। ‘দেখেছ? ওয়াইন। এমন একটা রাতের জন্যেই জমিয়ে রেখেছিলাম। আমি জানতাম, একদিন কেউ-না-কেউ ঠিকই আসবে আমাদের উদ্ধার করতে। মুক্তিটা উদ্‌যাপন করব এটা দিয়ে।’

পাঁচটা গ্লাসে পানীয় ঢালল সে। গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে বলল, ‘বহুদিন হয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার দিনটার কথা মনে আছে তোমাদের? বিশ বছর সাত মাস পেরিয়ে গেছে এরপর। মঙ্গল থেকে সব কটি রকেট ফিরিয়ে নেওয়া হয় পৃথিবীতে। ছেলেমেয়েদের নিয়ে সেদিন পাহাড়ে ছিলাম তুমি আর আমি। প্রত্নতাত্ত্বিক খোঁড়াখুঁড়ি করছিলাম। মঙ্গলের প্রাচীন অস্ত্রোপচার পদ্ধতি জানার চেষ্টা করছিলাম।

‘শহরে ফেরার জন্যে প্রাণপণে ঘোড়া ছুটিয়েছিলাম আমরা, তা-ও সময়মত পৌঁছুতে পারিনি। এক সপ্তা দেরি হয়ে গিয়েছিল। এসে দেখি, সবাই চলে গেছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে শহরগুলো। শেষে দেখা গেল, কেবল আমরাই রয়ে গেছি এই গ্রহে।

‘সময় কত তাড়াতাড়ি চলে যায়! কিন্তু তোমাদের ছাড়া এতগুলো বছর এখানে কাটাতে পারতাম না আমি। আত্মহত্যা করে বসতাম তোমরা পাশে না থাকলে। অবশেষে আমাদের অপেক্ষার ফল মিলেছে। আমাদের উদ্ধার করতে আসছে ওরা।’

ওয়াইনের গ্লাস উঁচিয়ে ধরল হ্যাথাওয়ে সবার মঙ্গল কামনায়। তার স্ত্রী-সন্তানেরাও একই কাজ করল, তারপর ঠোঁট ছোঁয়াল গ্লাসে।

লাল ওয়াইন গড়িয়ে পড়ল তাদের চারজনের চিবুক বেয়ে।

সকাল হতে হতে ছাইয়ের পুরু আস্তর পড়ে গেল মৃত সাগরের তলদেশে। আগুন নিভে গেছে। তবে যে উদ্দেশ্যে ওটা জ্বালানো হয়েছিল, তা সফল হয়েছে। বড়সড় বৃত্তের আকার ধারণ করেছে আকাশের লাল আলোর রেখাটা।

জিঞ্জারব্রেড ভাজার সুবাস আসছে কুঁড়ে থেকে। মেঝে ঝাড়ু দিচ্ছে হ্যাথাওয়ের দুই মেয়ে। কাঁটাচামচ মুছে রাখছে তার ছেলে।

‘দারুণ একটা নাস্তার আয়োজন করব ওদের জন্যে,’ আকর্ণবিস্তৃত হাসি দিয়ে বলল হ্যাথাওয়ে।

রকেটটা যখন ল্যান্ড করল, বাচ্চা ছেলের মত পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ছুটল হ্যাথাওয়ে। আচমকা বুকে চিনচিনে একটা ব্যথা শুরু হওয়ায় থমকে দাঁড়াল সে। একটা পাথরের ওপর বসে জিরিয়ে নিল খানিকক্ষণ। তারপর বাকিটা পথ দৌড়ে পৌঁছে গেল রকেটের সামনে।

খুলে গেল মহাকাশযানটার দরজা। একটা লোকের চেহারা উঁকি দিল সেখানে।

চোখ কুঁচকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল হ্যাথাওয়ে। তারপর বিস্মিত কণ্ঠে বলল, ‘ক্যাপ্টেন ওয়াইল্ডার!’

‘কে?’ লাফিয়ে মাটিতে নামল ক্যাপ্টেন ওয়াইল্ডার। তীক্ষ্ণ চোখে দেখল সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বুড়ো লোকটার দিকে। খানিক বাদে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘হায় খোদা! হ্যাথাওয়ে, তুমি! আমাদের চতুর্থ মঙ্গল মিশনে ক্রু ছিলে তুমি!’

‘বহুদিন আগের কথা, ক্যাপ্টেন,’ বলল হ্যাথাওয়ে।

‘হ্যাঁ, অনেক দিন হয়ে গেছে। খুব ভাল লাগছে আবার তোমাকে দেখে।’

‘বুড়ো হয়ে গেছি,’ বলল হ্যাথাওয়ে।

‘আমারও বয়স কমছে না। গত বিশটা বছর কেটেছে জুপিটার, শনি আর নেপচুন ঘুরে। মঙ্গলে দুবার চক্কর মেরেছি রকেটটা নিয়ে। তুমি ছাড়া আর মাত্র একজন জীবিত মানুষের সন্ধান পেয়েছি। এখান থেকে দশ হাজার মাইল দূরে। ওয়াল্টার গ্রিপ নাম লোকটার। আমাদের সঙ্গে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলাম ওকে। কিন্তু সে রাজি হলো না। আসার সময় দেখলাম হাইওয়ের মাঝখানে রকিং চেয়ার পেতে আয়েশ করছে। মঙ্গল দেখি একেবারে মরে-হেজে গেছে। তা পৃথিবীর কী খবর?’

‘আপনি যতটুকু জানেন, তার বেশি জানি না । মাঝেসাঝে পৃথিবীর রেডিও ধরে, খুব দুর্বলভাবে। কিন্তু ভাষাটা ভালো বুঝতে পারি না। আমি আবার ল্যাটিন ছাড়া অন্য কোনো ভাষা বলতে গেলে জানিই না। দু-একটা শব্দ যা বুঝতে পারলাম, তাতে মনে হলো, এখনো যুদ্ধ চলছে ওখানে। বাড়ি ফিরছেন নাকি, স্যার?’

‘হ্যাঁ। ওখানকার কোন খবরই পাচ্ছি না। পৃথিবীর কী হলো, জানতে চাই আমরা।’

‘আমাদের নেবেন সঙ্গে?’

চমকে উঠল ক্যাপ্টেন। ‘নিশ্চয়ই। তোমার বউয়ের কথা মনে আছে আমার। পঁচিশ বছর আগে—মঙ্গলে যখন প্রথম কলোনি বসানো হয়—চাকরি ছেড়ে ওকে নিয়ে এখানে চলে এসেছিলে না? তিনটে মিষ্টি বাচ্চাও তো ছিল তোমার...’

‘হ্যাঁ। দুই মেয়ে আর এক ছেলে।’

‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, মনে আছে আমার। ওরাও এখানে?’

‘হ্যাঁ। আপনাদের জন্যে ব্রেকফাস্ট নিয়ে অপেক্ষা করছে। আসবেন না?’

‘আসব না মানে?’ পিছু ফিরে দলের সবাইকে রকেট থেকে নামতে বলল ওয়াইল্ডার।

বিশজন ক্রু নিয়ে হ্যাথাওয়ের পিছু পিছু পাহাড়ের দিকে, তার কুঁড়েতে চলল ক্যাপ্টেন ওয়াইল্ডার। মঙ্গলের পাতলা বাতাসে খাবারের সুগন্ধ, আকাশে ঝকঝকে রোদ।

‘স্পেন্ডারের কথা মনে আছে আপনার, ক্যাপ্টেন?’

‘মনে থাকবে না আবার? ও তো চাইত না পৃথিবীর লোক মঙ্গলে এসে থাকুক। ওর বিশ্বাস ছিল, গ্রহটার ধ্বংস ডেকে আনবে পৃথিবীবাসী।’

‘ওর বিশ্বাসই ফলে গেছে শেষ পর্যন্ত। ওর ইচ্ছেও পূরণ হয়েছে।’ কথা বলতে বলতেই বুকে হাত চেপে একটা পাথরের বোল্ডারের ওপর বসে পড়ল হ্যাথাওয়ে। বুকব্যথাটা শুরু হয়েছে আবার। হার্টের অবস্থা সুবিধের নয় তার। বলল, ‘কিছু মনে করবেন না। এত বছর পর আপনাদের দেখে একটু বেশিই উত্তেজিত হয়ে পড়েছি। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে।’

‘ডাক্তার আছে আমাদের সঙ্গে,’ বলল ওয়াইল্ডার। ‘ও হ্যাঁ, ভুলেই গেছিলাম, তুমিও তো ডাক্তার। তবু আমাদের ডাক্তারই দেখাই।’

‘লাগবে না,’ একগুঁয়ে সুরে বলল হ্যাথাওয়ে। ‘একটু জিরিয়ে নিলেই ঠিক হয়ে যাব।’

নিশ্বাস নিতে এখন প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে তার। নীল হয়ে গেছে ঠোঁটজোড়া। তার হৃত্স্পন্দন পরীক্ষা করে একটা ট্যাবলেট খেতে দিল ডাক্তার।

মিনিট কয়েক বাদে আবার রওনা হলো দলটা। খানিক পর পৌঁছে গেল হ্যাথাওয়েদের কুঁড়েতে।

‘অ্যালিস! দেখ কারা এসেছে!’

হ্যাথাওয়ের স্ত্রী এসে দাঁড়াল দোরগোড়ায়। একমুহূর্ত পর এল দুই মেয়ে—লম্বা, তন্বী চেহারা। তারপর ছেলে—লম্বায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে সে।

‘ক্যাপ্টেন ওয়াইল্ডারকে চিনতে পারছ, অ্যালিস?’

কয়েক মুহূর্ত বিভ্রান্ত চোখে হ্যাথাওয়ের দিকে চাইল সে। যেন চাইছে, তার হয়ে জবাবটাও স্বামীই বলে দিক। তারপর আড়ষ্ট হাসি দিয়ে বলল, ‘নিশ্চয়ই।’

সোত্সাহে ক্যাপ্টেনের হাত ধরে ঝাঁকিয়ে দিল অ্যালিস। ‘আসুন পরিচয় করিয়ে দিই। ও মার্গারেট, আর ও সুজান—আমার মেয়ে। আর ও আমার ছেলে, জন। ক্যাপ্টেনের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে তোমাদের?’

কুশলাদি বিনিময়ের পর খাবার টেবিলের দিকে এগোল সবাই। চেয়ারে বসে আবার মিসেস হ্যাথাওয়ে আর তার ছেলেমেয়েদের দিকে নজর দিল ক্যাপ্টেন ওয়াইল্ডার। মাকে খাবার পরিবেশনে সাহায্য করছে ওরা। ওদের প্রতিটা নড়াচড়া, চেহারার অভিব্যক্তি, এমনকি মুখের ভাঁজ পর্যন্ত লক্ষ করছে ওয়াল্ডার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে।

‘তোমার বয়স কত, জন?’ ছেলেটার কাছে জানতে চাইল সে।

‘তেইশ।’

অস্বস্তিতে নড়েচড়ে বসল ক্যাপ্টেন। সহসা পাণ্ডুর হয়ে গেল তার চেহারা।

তার পাশে বসা লোকটা ফিসফিসিয়ে বলল, ‘তা হতে পারে না, ক্যাপ্টেন।’

অতিথিদের বসার জন্যে আরও চেয়ার আনতে চলে গেল জন।

‘কেন, উইলিয়ামসন?’ লোকটাকে জিজ্ঞেস করল ওয়াইল্ডার।

‘আমার নিজের বয়সই তেতাল্লিশ, ক্যাপ্টেন। বিশ বছর আগে, হ্যাথাওয়েরা যখন প্রথম মঙ্গলে আসে, তখনই যুবক ছিল জন হ্যাথাওয়ে। বছর বিশেক ছিল ওর বয়স। আমি তখন স্কুলে যাই। জন বলল, ওর বয়স এখন তেইশ। ওকে দেখায়ও তেইশ বছর বয়সী যুবকের মতোই। কিন্তু, তবু, ওর বয়স এখন কিছুতেই তেইশ হতে পারে না। ভুল বলেছে ও। হিসেবমতো ওর বয়স এখন কমপক্ষে বিয়াল্লিশ হওয়ার কথা। এসবের মানে কী, স্যার?’

‘জানি না,’ দুর্বল গলায় বলল ওয়াইল্ডার।

‘আপনাকে অসুস্থ দেখাচ্ছে, ক্যাপ্টেন।’

‘শরীরটা ভালো লাগছে না। শেষবার যখন ওদেরকে দেখেছিলাম, মেয়ে দুটোর বয়সও বিশের মতোই ছিল। অথচ এত বছরেও একটু পরিবর্তন আসেনি ওদের চেহারায়। একটা ভাঁজও পড়েনি ওদের ত্বকে।

‘একটা কাজ করতে পারবে, উইলিয়ামসন? এক জায়গায় গিয়ে একটা জিনিস দেখে আসবে চট করে? এখনই যাও। বেশি দূরে নয় জায়গাটা। যেতে-আসতে মিনিট দশেকের বেশি লাগবে না। রকেট ল্যান্ড করার সময় জায়গাটা চোখে পড়েছিল আমার।’

‘কী এত কথা বলছেন আপনারা?’ ক্যাপ্টেনের বাটিতে আরও কয়েক চামচ স্যুপ দিতে দিতে বলল মিসেস হ্যাথাওয়ে। ‘আগে খেয়ে নিন।’

‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, খাচ্ছি।’ হাসল ক্যাপ্টেন ওয়াইল্ডার। ‘আপনাকে এখনো আগের মতোই সুন্দরী আর কমবয়সী লাগে, মিসেস হ্যাথাওয়ে।’

মিষ্টি হেসে পাশেরজনকে খাবার দিতে চলে গেল মিসেস হ্যাথাওয়ে। তার আপেলের মতো মসৃণ, গোলাপি মুখের দিকে চেয়ে রইল ওয়াইল্ডার। এতগুলো বছরে সামান্য ভাঁজও পড়েনি মহিলার মসৃণ, পেলব ত্বকে।

সবার সঙ্গে হেসে হেসে গল্প করছে মিসেস হ্যাথাওয়ে, রিনরিনে হাসির হিল্লোল তুলছে। যত্ন করে সালাদ তুলে দিচ্ছে প্রত্যেকের পাতে। দম ফেলার জন্য একবারও থামেনি। ছেলেমেয়েগুলোও বাপের মতোই হাসিখুশি, মিশুক। হাসিমুখে তাদের নিঃসঙ্গ জীবনের গল্প শোনাচ্ছে সবাইকে। গর্বিত চোখে ওদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে মি. হ্যাথাওয়ে।

খাওয়া অর্ধেক রেখেই টেবিল থেকে উঠে পড়ল উইলিয়ামসন, ধীরে।

‘ও কোথায় যাচ্ছে?’ লোকটাকে উঠতে দেখে প্রশ্ন করল হ্যথাওয়ে।

‘রকেটটা ঠিক আছে কি না দেখে আসতে পাঠিয়েছি ওকে,’ জবাব দিল ওয়াইল্ডার। ‘যাক গে, যা বলছিলাম, হ্যাথাওয়ে—জুপিটারে কিচ্ছু নেই। মানুষ বসবাসের উপযোগী নয়। শনি আর প্লুটোরও একই দশা।’

যন্ত্রচালিতের মতো কথা বলছে সে। উদগ্রীব হয়ে আছে, উইলিয়ামসন কী খবর নিয়ে আসে, জানার জন্যে।

ওয়াইল্ডারের পানির গ্লাস ভরে দিল মার্গারেট হ্যাথাওয়ে। মেয়েটাকে ধন্যবাদ দিল সে। তারপর লোভ সামলাতে না পেরে ওর হাতটা ছুঁয়ে দিল চট করে। তাতে কিছু মনে করল না মার্গারেট। মেয়েটার হাত উষ্ণ, পেলব।

ওয়াইল্ডারের উল্টো পাশে বসেছে হ্যাথাওয়ে। কয়েকবার বুকে হাত বোলাল সে, চেহারায় যন্ত্রণার ছাপ। কাজটা কয়েকবার করল সে।

খানিক বাদে ফিরে এল উইলিয়ামসন। ক্যাপ্টেনের পাশে বসে পড়ল।

‘দেখেছ?’ ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করল ক্যাপ্টেন।

‘হ্যাঁ, স্যার।’

‘কী দেখলে?’ উত্তেজনায় চকচক করছে ওয়াইল্ডারের চেহারা।

রং সরে গেছে উইলিয়ামসনের দুগাল থেকে। হ্যাথাওয়ে পরিবারের সদস্যদের দিকে চেয়ে রয়েছে একদৃষ্টে। বোনদের সঙ্গে গল্প করছে জন।

‘গোরস্থানে গিয়েছিলাম, স্যার,’ বলল উইলিয়ামসন।

‘কবর চারটে পেয়েছ? চারটে ক্রুশ পোঁতা।’

‘পেয়েছি। মৃতদের নামও লেখা রয়েছে কবরগুলোতে। নামগুলো লিখে এনেছি।’ একটুকরো কাগজ বের করল সে পকেট থেকে। ওতে লেখা নামগুলো পড়ল একে একে:

‘অ্যালিস, মার্গারেট, সুজান এবং জন হ্যাথাওয়ে। ২০০৭ সালের জুলাই মাসে মারা গেছে। মৃত্যুর কারণ: অজ্ঞাত ভাইরাস।’

‘ধন্যবাদ, উইলিয়ামসন।’ চোখ মুদল ওয়াইল্ডার।

‘উনিশ বছর আগে মারা গেছে ওরা,’ শিউরে উঠে বলল উইলিয়ামসন।

‘হ্যাঁ।’

‘তাহলে এরা কারা?’

‘জানি না।’

‘এখন কী করবেন?’

‘জানি না, উইলিয়ামসন।’

‘আমাদের নিয়ে কী করবে ওরা?’

‘তা-ও জানি না।’

‘ব্যাপারটা দলের বাকিদের জানাবেন?’

‘পরে। এখন খেয়ে নাও। এমন ভাব করো, যেন কিছুই হয়নি।’

‘আমার খিদে মরে গেছে, স্যার।’

খাওয়া শেষ করে সবার সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করে ওয়াইন পান করা হলো।

নিজের গ্লাসের পানীয়টুকু শেষ করল হ্যাথাওয়ে। তারপর সহসা, নিঃশব্দে, টেবিলের ওপর মুখ থুবড়ে পড়ে গেল সে। সেখান থেকে মেঝেতে। কয়েকজন মিলে ধরাধরি করে বিছানায় নিয়ে শুইয়ে দিল তাকে। তারপর ঝুঁকে পড়ল ডাক্তার।

কয়েক মুহূর্ত পর মুখ তুলে ওয়াইল্ডারের দিকে চাইল সে। মাথা নাড়ল ধীরে ধীরে—সময় ঘনিয়ে এসেছে—আর বেশিক্ষণ বাঁচবে না হ্যাথাওয়ে।

বৃদ্ধের পাশে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল ওয়াইল্ডার। মুমূর্ষু মানুষটার একটা হাত ধরল।

‘ওয়াইল্ডার?’ অতি ক্ষীণ স্বরে বলল হ্যাথাওয়ে, শোনা যায় কি যায় না। ‘উত্সবটা মাটি করে দিলাম আমি।’

‘ফালতু কথা বোলো না,’ বিষণ্ন কণ্ঠে বলল ক্যাপ্টেন।

‘আমার হয়ে বিদায় জানাবেন অ্যালিস আর বাচ্চাদের।’

‘দাঁড়াও, ডাকছি ওদের।’

‘না, না, ডাকবেন না!’ হাঁপাতে হাঁপাতে বলল হ্যাথাওয়ে। হাঁপরের মতো ওঠা-নামা করছে তার বুক। ‘ব্যাপারটা বুঝতে পারবে না ওরা। বুঝুক, তা চাইও না আমি। ডাকবেন না ওদের!’

তার কথা রাখল ওয়াইল্ডার।

কয়েক মুহূর্ত পরই শেষনিশ্বাস ত্যাগ করল হ্যাথাওয়ে।

অনেকক্ষণ বসে রইল ওয়াইল্ডার নিথর হ্যাথাওয়ের শিয়রে। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। তার দলের লোকেরা স্থাণু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মৃতদেহ ঘিরে।

অ্যালিস হ্যাথাওয়ের কাছে গেল ওয়াইল্ডার। তার চোখে চোখ রেখে বলল, ‘এইমাত্র কী ঘটে গেল, জানো?’

‘আমার স্বামীর কথা বলছেন?’

‘হ্যাঁ। এইমাত্র মারা গেছে ও।’ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অ্যালিসের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ক্যাপ্টেন।

‘আমি দুঃখিত,’ বলল মহিলা।

‘কেমন লাগছে তোমার?’ জানতে চাইল ওয়াইল্ডার।

‘হ্যাথাওয়ে চায়নি ব্যাপারটা নিয়ে দুঃখবোধে আক্রান্ত হই আমরা।’ কোনো ভাবান্তর হলো না মহিলার। আগের সেই উষ্ণ, আন্তরিক ভাবটা একবিন্দু মলিন হয়নি তার চেহারা থেকে। ‘ও আমাদের বলেছিল, ঘটনাটা ঘটবে একদিন। সেদিন ওর মৃত্যু নিয়ে আমরা কান্নাকাটি করি, তা চায়নি ও।

‘আসলে ও আমাদের কাঁদতেই শেখায়নি। শেখাতে চায়ওনি। বলত, মানুষের জীবনের সবচেয়ে খারাপ ব্যাপারটা হলো বন্ধু-পরিজন হারিয়ে একদম নিঃসঙ্গ হয়ে যাওয়া, আর সে কারণে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়ে কান্নাকাটি করা। সে জন্যই আমাদেরকে বিষণ্ন হতে বা কাঁদতে শেখায়নি ও।’

মহিলার সুগঠিত পেলব হাত, ম্যানিকিউর নখ, ফর্সা ঘাড়, বুদ্ধিদীপ্ত চোখ দেখল ওয়াইল্ডার। তারপর বলল, ‘তোমরা আসলে মানুষ নও রোবট, তা–ই তো? তোমাদের নিখুঁত করে হুবহু মানুষের মতো বানিয়েছে মি. হ্যাথাওয়ে। কোথাও একবিন্দু ত্রুটি নেই।’

‘কথাটা শুনলে খুব খুশি হতো ও। আমাদের নিয়ে খুব গর্ব ছিল ওর। একসময় তো ভুলেই গিয়েছিল, আমরা ওর হাতে বানানো রোবট। শেষে আমাদেরই নিজের স্ত্রী-সন্তান বলে গ্রহণ করে নেয় ও। একদিক থেকে ভাবতে গেলে আমরা আসলেই ওর স্ত্রী-সন্তান।’

‘ওর খুব ভালো যত্ন নিয়েছ তোমরা।’

‘হ্যাঁ। বছরের পর বছর একসঙ্গে বসে গল্প করেছি আমরা। কথা বলতে খুব পছন্দ করত হ্যাথাওয়ে। কুঁড়েঘরটা বড় ভালবাসত, গ্রাম ভালবাসত। চাইলেই শহরের কোনো আরামদায়ক বাড়িতে থাকতে পারতাম আমরা। কিন্তু তা না করে এই গ্রামে এসে আশ্রয় নিল ও।

‘আমাকে ওর ল্যাবরেটরি আর গবেষণার কথা বলেছে হ্যাথাওয়ে। ওই মরা আমেরিকান শহরটার পাতালে জায়গায় জায়গায় সাউন্ড স্পিকার বসিয়েছিল ও। ইচ্ছে হলেই বোতাম টিপে পুরো শহর আলোকিত করে তুলতে পারত। পারত হাজার হাজার লোকের কথার আওয়াজ তৈরি করতে। তখন মনে হতো, শহরটা যেন মরেনি। আগুনের ধারে বসে, চুরুট ধরিয়ে আমাদের সঙ্গে গল্প করত ও। মাঝে মাঝে টেলিফোন বেজে উঠত। রেকর্ড করা গলা জানতে চাইত, বিজ্ঞানী মি. হ্যাথাওয়ে আছে কি না। সেসব ফোনকলের জবাবও দিত হ্যাথাওয়ে। অনেক কিছুই করতে পারত ও। পারেনি কেবল একটা কাজ করতে।’ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল অ্যালিস হ্যাথাওয়ে। তারপর বলল, ‘আমাদের বয়স বাড়াতে পারেনি। প্রতিদিন ওর বয়স বেড়েছে একটু একটু করে, কিন্তু আমরা থেকে গেছি সেই একই রকম। একটা দিনও বাড়েনি আমাদের বয়স। তবে, আমার মনে হয়, এ নিয়ে কখনো মন খারাপ করেনি হ্যাথাওয়ে। ও বোধহয় তা-ই চাইত—আমাদের বয়স যেন কখনো না বাড়ে।’

‘ওকে আমরা বাকি চারজনের সঙ্গে কবর দেব। আমার ধারণা, ওরও সেই ইচ্ছেই ছিল,’ বলল ওয়াইল্ডার।

আলতো করে তার কব্জি ধরল অ্যালিস। ‘আমারও তা-ই বিশ্বাস।’

একটা স্ট্রেচারে তোলা হলো হ্যাথাওয়ের দেহ। সেটা কাঁধে তুলে নিল দুজন। পাহাড়ের গোড়ায়, কবরস্থানের উদ্দেশে রওনা দিল ছোট্ট মিছিলটা। সবার পেছন পেছন আসছে হ্যাথাওয়ের পরিবার। হ্যাথাওয়ের ওয়ার্কশপ পেরিয়ে গেল দলটা। ক্ষণিকের জন্যে ওয়ার্কশপটার দরজার সামনে থামল ওয়াইল্ডার। এখানে কাজ করেই দীর্ঘ, নিঃসঙ্গ জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছে হ্যাথাওয়ে।

আচ্ছা, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে জনমানবশূন্য একটা গ্রহে জীবন কাটানোর অনুভূতিটা কেমন? তারপর সর্বশেষ তাদের হারিয়ে, এই নীরবতার রাজত্বে একা একা বাকি জীবন কাটানোর অনুভূতিই বা কেমন? সঙ্গী হিসেবে একটা অবোধ প্রাণীও ছিল না লোকটার সঙ্গে। কী করে সময় কাটিয়েছে সে? স্ত্রী-সন্তানদের কবরে শুইয়ে দিয়ে ফিরে এসেছে এই ওয়ার্কশপে। এখানে নিজের সমস্ত প্রজ্ঞা আর মেধা একীভূত করে, হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে, তিলে তিলে নিজের জন্যে সৃষ্টি করে নিয়েছে স্ত্রী এবং সন্তান। অসাধারণ মেধাবী না হলে কারও পক্ষে এ কাজ সম্ভব না। সাধারণ কোনো মানুষ এ রকম কল্পনাই করতে পারবে না।

হ্যাথাওয়ের ভয়াবহ নিঃসঙ্গতার কথা ভেবে শিউরে উঠল ওয়াইল্ডার। তারপর চটকা ভাঙতে যোগ দিল দলের বাকিদের সঙ্গে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই গোরস্থানে পৌঁছে গেল ছোট্ট দলটা।

হ্যাথাওয়েকে কবর দিয়ে বিকেলে রকেটে ফিরল তারা।

পাথরের কুঁড়েটার দিকে তাকিয়ে উইলিয়ামসন বলল, ‘ওদের নিয়ে কী করবেন, কিছু ভেবেছেন, ক্যাপ্টেন?’

‘জানি না,’ শুষ্ক কণ্ঠে জবাব দিল ক্যাপ্টেন।

‘বিকল করে দেবেন ওদেরকে?’

‘বিকল করে দেব?’ একটু যেন অবাকই হলো ওয়াইল্ডার। ‘চিন্তাটা মাথায়ই আসেনি আমার।’

‘তাহলে আমাদের সঙ্গে নিয়ে যাবেন?’

‘নাহ্‌। আমাদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার মানে হয় না।’

‘তাহলে ওদেরকে এখানে, এভাবেই ফেলে যাবেন? যেমন আছে, তেমনি থাকবে ওরা?’

উইলিয়ামসনের হাতে একটা পিস্তল ধরিয়ে দিল ক্যাপ্টেন। ‘দেখ তুমি কিছু করতে পারো কি না। মানুষ হিসেবে তুমি আমার চেয়ে অনেক ভালো।’

পাঁচ মিনিট পর কুঁড়ে থেকে ফিরে এল উইলিয়ামসন, ঘামছে দরদর করে। ‘আপনার পিস্তল আপনার কাছেই রাখুন, স্যার। এটা নিয়ে কুঁড়েতে গিয়েছিলাম আমি। আমাকে দেখে মিষ্টি হাসি দিল এক মেয়ে। বাকিরাও হাসল। অ্যালিস চা সাধল। এদের ওপর কী করে গুলি চালাই, বলুন? কাজটা খুন হয়ে যেত!’

মাথা দুলিয়ে সায় জানাল ওয়াইল্ডার। ‘হ্যাঁ। ওদের মতো নিখুঁত মানব-প্রতিলিপি আর কেউ কখনো বানাতে পারবে না। পঞ্চাশ-এক শ...কিম্বা কে জানে, হয়তো দু শ বছরও টিকে থাকবে ওরা। হ্যাঁ, তোমার-আমার মতোই ওদেরও বেঁচে থাকার অধিকার আছে। যাকগে, সবাইকে রকেটে উঠতে বলো। আজই মঙ্গল ছাড়ছি আমরা। এখানে আমাদের কাজ শেষ।’

অপরাহ্ণ। ঝিরঝিরে হাওয়া বইছে চারদিকে। রকেটে উঠে পড়েছে দলের সবাই। দোটানায় ভুগছে ক্যাপ্টেন। উইলিয়ামসন বলল, ‘ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসার কথা ভাবছেন না তো?’

শীতল দৃষ্টিতে তাকে দেখল ক্যাপ্টেন। ‘সেটা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। তুমি রকেটে ওঠো।’

ধীরপায়ে পাথরের কুঁড়েটার দিকে হাঁটা ধরল ওয়াইল্ডার। রকেট থেকে সবাই স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে আছে তার অপসৃয়মাণ অবয়বের দিকে। একটা নারীমূর্তি দেখতে পেল তারা কুঁড়ের দোরগোড়ায়। তার সঙ্গে হাত মেলাল ক্যাপ্টেন। কাজটা সেরে একদৌড়ে রকেটে ফিরে এল সে।

নিস্তরঙ্গ, ঘটনাহীন সময় গড়িয়ে চলল মঙ্গলের বুকে। কোনো কোনো রাতে মৃতসাগরের তলদেশ থেকে হাওয়ার ঘূর্ণি উঠে এসে ছোট্ট পাথরের কুঁড়ে, গোরস্থান, চারটে পুরোনো ও একটা নতুন কবরকে ঘিরে পাক খায়। তখন কুঁড়ের ভেতর আগুন জ্বালিয়ে, অগ্নিকুণ্ড ঘিরে বসে গল্প করে চারটে মানবমূর্তি। একজন মা, দুজন মেয়ে আর একজন ছেলে। অকারণেই আগুন ঘিরে বসে গল্পগুজব করে তারা, হাসাহাসি করে।

রাতের পর রাত, বছরের পর বছর, কোনো কারণ ছাড়াই, সন্ধের পর ঘর থেকে বেরিয়ে আসে মহিলা। মুখ তুলে তাকায় আকাশের দিকে—উদ্দেশ্যহীনভাবে। দীর্ঘ কয়েক মুহূর্ত আকাশের দিকে উঠে থাকে তার দুই হাত, একদৃষ্টে চেয়ে থাকে সুদূরের সবুজ পৃথিবীর দিকে। মহিলা নিজেও জানে না, কেন প্রতিদিন এ কাজ করে সে। কিছুক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকার পর আবার ঢুকে পড়ে কুঁড়েতে, আগুনে কাঠ দেয়। কোনো কোনো রাতে আবার হাওয়ার ঘূর্ণি উঠে আসে মৃতসাগরের গর্ভ থেকে...জ্বলে ওঠে অগ্নিকুণ্ড...তার চারপাশে বসে চারটে মানবমূর্তি...চলে গল্পগুজব, হাসাহাসি...।

বিজ্ঞান কল্পগল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন