বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের আশা, ২০২৭ সালের মধ্যে তারা লুনার ল্যান্ডারের সঙ্গে ১০ কিলোওয়াটের রিয়েক্টর সংযুক্ত করতে পারবে। বলে রাখা ভালো, ল্যান্ডার ব্যবহার করে মহাকাশযানগুলো বিভিন্ন গ্রহে নামে। আর, লুনার কথাটির অর্থ চাঁদ। মানে, লুনার ল্যান্ডার ব্যবহৃত হয় চাঁদে নামার জন্য। সেই ১৯৬৫ সালে নাসা প্রথম একটি কৃত্রিম উপগ্রহরের জ্বালানী ব্যবস্থা হিসেবে মহাশূন্যে নিউক্লিয়ার রিয়েক্টর পাঠিয়েছিল। পরবর্তীতে কিউরিওসিটি বা পার্সেভারেন্সের মতো যেসব মহাকাশযান পাঠানো হয়, সেগুলো পারমাণবিক জ্বালানী ব্যবহার করলেও, ওর ভেতরে কোনো রিয়েক্টর নেই।

এদিকে, রাশিয়া এখন পর্যন্ত ত্রিশটিরও বেশি রিয়েক্টর মহাকাশে পাঠিয়েছে। জিউস-এ এই প্রযুক্তি আরও উন্নত হবে। ৫০০ কিলোওয়াটের রিয়েক্টর ব্যবহৃত হবে এক্ষেত্রে। ফলে এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে সহজেই যেতে পারবে, ঘুরে আসতে পারবে মহাকাশযানটি। প্রথমে চাঁদে যাবে। তারপর বুধের কাছাকাছি গিয়ে, বুধ গ্রহের মহাকর্ষ ব্যবহার করে, দিক পাল্টে ছুটবে বৃহস্পতির দিকে। প্রায় ৫০ মাসব্যাপী এক মিশন হবে এটি।

বেশিরভাগ মহাকাশযান এখন সৌরশক্তি ও তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাটারি (পড়ুন, পারমাণবিক ব্যাটারি) ব্যবহার করে জ্বালানী হিসেবে। সেই সঙ্গে কাজে লাগায় মহাকর্ষকে। যেমন, নাসার জুনো মহাকাশযান সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। এই বিদ্যুৎ দিয়ে চলে মহাকাশযান। কিন্তু সূর্য থেকে এরকম কোনো যান যত দূরে সরে যায়, সৌরশক্তির কার্যকারিতা কমে যায় তত। কোনো কারণে, ধূলিঝড় বা কিছুতে আটকে গেলে যদি ধুলোবালুতে ঢাকা পড়ে যায় মহাকাশযানের সোলার প্যানেল, নির্দিষ্ট সময় বেরিয়ে আসতে না পারলে অকেজো হয়ে যায় সেই যান।

এসব সমস্যার সমাধান পারমাণবিক রিয়েক্টর। সারাক্ষণ সূর্যালোকে থাকার দরকার নেই। তাছাড়া, চলবেও অনেক সময়। যেমন, 'জিউস' কাজ করতে পারবে টানা ১০-১২ বছর। তার ওপর, অনেক কম সময় মহাকাশযানকে এটি নিয়ে যেতে পারবে দূর-দূরান্তে।

সমস্যা হচ্ছে, এ জন্য অনেক বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম লাগে। যাতে রিয়েক্টরের অনেক উচ্চ তাপমাত্রায়ও হঠাৎ করে ভেঙে বা গলে না যায়। এ ধরনের ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা ঠিক নিরাপদ না, পাওয়াও যায় অনেক কম।

সেজন্যই রসকসমসের আশা, এই মিশনটি মহাকাশযাত্রায় সূচনা করবে নতুন যুগের।

সূত্র: নেচার, সায়েন্স এলার্ট ডট কম

মহাকাশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন