উড়ছে ইনজেনুইটি
উড়ছে ইনজেনুইটিনাসা

পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো গ্রহে বা এমনকি চাঁদেও এর আগে কখনো বিমান বা হেলিকপ্টার জাতীয় কোনো আকাশযান ওড়েনি। সম্প্রতি নাসার ইনজেনুইটি নামের ড্রোন কপ্টারটি প্রথমবার মঙ্গলের আকাশে উড়তে সক্ষম হয়েছে। ১৯ এপ্রিল নাসার দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার জেট প্রপালশন এজেন্সি থেকে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এটাকেই মহাকাশ অভিযানের নতুন ইতিহাস বলে অবিহিত করছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

মাত্র চল্লিশ সেকেন্ডের উড্ডয়ন ছিল ইনজেনুইটির। আকাশে ওড়ার সময় মঙ্গলের মাটিতে পড়া নিজের ছায়ার ছবি নিজেই তুলেছিল ড্রোনটি। সেই ছবিই উপগ্রহের সাহায্যে পাঠিয়েছে পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের কাছে। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির ভিডিও পাঠিয়েছে রোভার পারসিভ্যারেন্স।

বিজ্ঞাপন

এতেই বিজ্ঞানীরা নতুন স্বপ্নে বিভোর। ভবিষ্যতে মঙ্গলে যে মানব কলোনির স্বপ্ন দেখছেন মর্ত্যের বিজ্ঞানীরা, সেই সফলতার দিকে আরেকধাপ এগিয়ে গেলেন তাঁরা এই মার্স কপ্টারটির উড্ডয়নের মাধ্যমে। এটা তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। মঙ্গলে বায়ুমণ্ডল খুবই পাতলা। ঘনত্ব পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মাত্র ১ শতাংশ। বাতাস কেটে পাখায় ভর দিয়ে ওড়া কোনো আকাশযানের সেখানে ওড়াটা তাই বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছেন নাসার কর্তাব্যক্তিরা। হোক সেটা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের উড্ডয়ন! আরেকটা তথ্য যদি আপনার জানা থাকে, তাহলে ইনজেনুইটির এই ৪০ সেকেন্ডের উড্ডয়নকে আপনি মোটেও ছোট করে দেখতে পারবেন না। আজ থেকে ১১৮ বছর আগে রাইট ভাইয়েরা যখন পৃথিবীর আকাশে প্রথম বিমানটি উড়িয়েছিলেন, সেটির উড্ডয়নকাল ছিল মাত্র ১২ সেকেন্ডের! সেই বারো সেকেন্ডের উড্ডয়নই এখন পৃথিবীর জন্য ইতিহাস। ইনজেনুইটির এই উড্ডয়নকে তাই রাইট ভাইদের মতোই ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলেই দাবি করছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার ইনজেনুয়িটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মিমি অংয়ের কণ্ঠে এমন সুরই শোনা গেল, ‘আমরা এখন বলতে পারি, মানুষ আরেকটি গ্রহের আকাশে ড্রোন জাতীয় আকাশ যান উড়িয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করেছি, মঙ্গলের আকাশে রাইট ভাইদের প্রথম বিমান ওড়ানোর মুহূর্ত কবে আসবে, আজ আমরা সেই মুহূর্তে পৌঁছুতে পারলাম।’ রাইটভাইদের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সম্মান জানাতে পারসিভারেন্স মঙ্গলের বুকে যে স্থানে ইনজেনুইটিকে নামিয়ে দেয়, সেই স্থানটির নামকরণ করা হয়েছে রাইট ব্রাদার্স ফিল্ড নামে।

ইনজেনুইনিটির প্রথম উড্ডয়নের পর এখন আরও বড় স্বপ্ন দেখছের পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা। এর উড্ডয়নকাল কীভাবে বাড়ানো যায় সে চেষ্টাই তাঁরা করছেন। মঙ্গলে খানা-খন্দে ভরা মাটিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারে পারে না কোনো ল্যান্ডার। এজন্যই মঙ্গলের ভূ-প্রকৃতি ও বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আকাশযানের দরকার হয়ে পড়েছিল নাসার বিজ্ঞানীদের জন্য। সে কাজের উপযোগী করে বানানো হয়েছে আট কেজি ওজনের এই ড্রোনটিকে।

ইনজেনুইটি কীভাবে মঙ্গলে উড়ছে দেখুন নিচের ভিডিওতে :

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য দীর্ঘ ছয় মাস একটানা চলে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলের বুকে অবতারণ করে নাসার রোভার পারসিভারেন্স। পারসিভারন্সের সঙ্গেই পাঠানো হয়েছিল ইনজেনুইনিটি নামের এই ছোট্ট ড্রোন বা স্বয়ংক্রিয় হেলিকপ্টারটিকে। অবশ্য এর নিয়ন্ত্রণ ভার রয়েছে পারসিভারন্সের হাতেই। তাই রোভারটিকে ছেড়ে খুব বেশিদূর উড়ে যাওয়ার নির্দেশনা এখনো নাসার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ইনজেনুইটির কাছে পৌঁছায়নি। অবশ্য খুব শিগগির ইনজেনুইটিকে আরও চারবার উড্ডয়ন করাবেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা আশা করছেন প্রতিবারেই একটু একটু করে উড্ডয়নকাল বাড়ানো হবে।


সূত্র: নাসা, বিবিসি

মহাকাশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন