১৯৯৫ সালে বিজ্ঞানীরা এই নেবুলার সন্ধান পান। এর তাপমাত্রা পরম শূন্যের মাত্র এক ডিগ্রি ওপরে। অর্থাৎ, মাইনাস ২৭২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর সেটার ছড়িয়ে পড়া গ্যাস ও ধূলাবালি তৈরি হয় নেবুলা। নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার কারণে নক্ষত্রের ভেতর প্রচুর মুক্ত ইলেকট্রন তৈরি হয়। ফলে এর ভেতরে তৈরি হয় পাউলির অপবর্জনজনিত চাপ। এই চাপ নক্ষত্রের ভেতরের বস্তুকণাগুলোকে বাইরের দিকে ঠেলে দেয়। অন্যদিকে মহাকর্ষ বল কণাগুলোকে একসাথে একটা জায়গায় জড়ো করে রাখে। কিন্তু একটা ভারী নক্ষত্রের ভেতরের জ্বালানি যখন ফুরিয়ে আসে, তখন অপবর্তনজনিত চাপ ভয়ংকর হয়ে ওঠে। মহাকর্ষ বলকে হারিয়ে দেয়। তখন নক্ষত্রের বাইরের দিকের অঞ্চলটা বিস্ফোরিত হয়ে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরিত সেবব ধুলিকণার মেঘের মতো ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। সেটাই আসলে নেবুলা নামে পরিচত।

নেবুলার ধুলিকণা দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে, তাই দ্রুতই কমতে থাকে এর তাপশক্তি। ফলে ঠান্ডা হতে থাকে পুরো নেবুলাটা। এজন্য প্রতিটা নেবুলা অঞ্চলেই তাপমাত্রাই অনেক কম।

সাধারণ নক্ষত্রের সুপারনোভা থেকে যে বেগে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়ার কথা, বুমেরাং নেবুলা থেকে তার দশগুণ বেগে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯৩ মাইল বেগে। একারণেই সেখানকার তাপমাত্রা এতো কম বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অস্ট্রেলিয়ায় একটি টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এটা আবিষ্কার করেছিলেন। দেখতে অনেকটা বুমেরাং-এর মতো ছিল বলে এমন নামকরণ করা হয়।

লেখক: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা

সূত্র: হাউ ইট ওয়ার্কস

মহাকাশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন