বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

মেসি না রোনালদো, কে সেরা?

ধর, সানজিদা ম্যাম তার বায়োলজি ক্লাসে একটা অ্যাসাইনমেন্ট দিছেন—রোনালদো আর মেসির মধ্যে কে সেরা?

— খাইছে রে। ম্যাম এই অ্যাসাইনমেন্ট দিলে আমি সারা জীবন বায়োলোজিতে পড়ব। অন্য কোনো বই ছুঁয়েও দেখব না।

হইছে। ইমো খাওয়ার দরকার নাই। সেটা বাদ দিয়ে ধর, তুই সেই অ্যাসাইনমেন্ট করলি। ভালোভাবে টাইপ করলি। এখন সাবমিট করার জন্য তোকে প্রিন্ট করতে হবে। তারপর এই প্রিন্টআউট সাবমিট করতে হবে। প্রিন্টআউট করে তোর অ্যাসাইনমেন্টের একটা আউটপুট তৈরি করলি। তখন সেটা ম্যাম দেখতে পারবেন।

একইভাবে পাইথনে কোনো কিছুর আউটপুট দেখতে হলে তোকে print করতে হবে। অর্থাৎ, print ব্যবহার করতে হবে। ধর, তুই যদি সানজিদা ম্যামকেই আউটপুট হিসেবে দেখাতে চাস, তাহলে লিখবি—

print("Sanjida mam")

তাহলে আউটপুট হিসেবে দেখাবে

Sanjida mam

এই সিস্টেমে তুই যদি তোর ফেবারিট ফুটবলারের নাম আউটপুট হিসেবে দেখতে চাস, তাহলে নিচের খালি জায়গায় তোর ফেবারিট ফুটবলারের নাম লিখবি।

print("________________")

এইবার উল্টাভাবে আরেকটা শূন্যস্থান পূরণ কর। তুই যদি তোর বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম আউটপুট হিসেবে দেখাতে চাস, তাহলে কীভাবে তাকে আউটপুট হিসেবে দেখবি?

______________("best friend")

আউটপুট ছাড়া দুনিয়া আন্ধার

শোন, তুই যে শুধু প্রোগ্রামিংয়ের ক্ষেত্রেই আউটপুট দেখতে চাস, সেটা কিন্তু না। গুগল বা ইউটিউবে গিয়ে কোনো কিছু লিখে সার্চ দিলেও কিন্তু সার্চের নিচে তুই সার্চ রেজাল্ট বা সার্চের আউটপুট দেখতে চাস। আবার কোনো একটা ক্যালকুলেটরে দুইটা সংখ্যা যোগ করতে গেলেও তুই যোগফল দেখতে চাস। মোবাইলে কোনো ফ্রেন্ডকে ভিডিও কল করলে সে ওপাশে কী করতেছে, সেটার ভিডিও আউটপুট দেখতে চাস। অর্থাৎ, আউটপুট ছাড়া দুনিয়া আন্ধার। একইভাবে প্রোগ্রামিং করতে গেলে যে প্রোগ্রামিং করস না কেন, আউটপুট না দেখাতে পারলে সেই প্রোগ্রামিংও মোটামুটি আন্ধার।

কিসের আউটপুট?

এই যে প্রোগ্রামিং প্রোগ্রামিং বলতেছি, এই প্রোগ্রামিং জিনিসটা আবার কী? এইটা খায়, পিন্দে, না মাথায় দেয়? সেই রকম একটা প্রশ্ন তোর মাথায় আসলে মাথা ফাটিয়ে ফেলবি না। বরং ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখবি আমরা যেমন বাংলা ভাষায় কথা বলি, চীনের মানুষ যেমন চায়নিজ ভাষায় কথা বলে, BTS, Blackpink–এর দেশের মানুষ যেমন কোরিয়ান ভাষায় কথা বলে, সেই একইভাবে কম্পিউটার কথা বলে ‘প্রোগ্রামিং’–এর ভাষা দিয়ে। যদিও কম্পিউটার অনেক স্মার্ট, একসঙ্গে অনেকগুলা ভাষা বুঝে ফেলতে পারে, ধরে ফেলতে পারে, তারপরও আমরা আলোচনা করব সবচেয়ে সহজ ‘পাইথন’ দিয়ে। এই পাইথন কিন্তু গণিত বা বিজ্ঞানের ‘পাই’–এর খালাতো ভাই নয়। আবার পাইথন নামের অজগর সাপের বন্ধুও নয়; বরং এইটা একটা মজার প্রোগ্রামিং ভাষা।

এতক্ষণ পর্যন্ত ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে একটা জিনিসই বলেছি সেটা হচ্ছে,

পাইথনে আউটপুট দেখানোর জন্য print() ব্যবহার করতে হয়।

আবার ফুটবলের কাছে ফেরত আসি। সব ম্যাচে কিন্তু CR7 সমানসংখ্যক গোল দিতে পারে না। কোনো ম্যাচে হয়তো দুটি গোল দেয়। কোনো ম্যাচে হয়তো একটি। কোনো ম্যাচে তিনটি আবার কোনো ম্যাচে গোলই দিতে পারে না। অর্থাৎ, কোন ম্যাচে CR7 কয়টা গোল দেবে, সেটা কিছু চেঞ্জ হয় বা ভেরি করে। এই কোন ম্যাচে কয়টা গোল দিচ্ছে, সেটা যে ভেরি করতেছে সেটাকে একটু ঘুরিয়ে বলতে গেলে বলা যায়, গোল দেওয়ার সংখ্যাটা একটা ভেরিয়েবল।

শুধু গোল দেওয়ার বিষয়টা না, বরং আমাদের লাইফের সবকিছুই কিন্তু ভেরি করে বা ভেরিয়েবল হয়। যেমন ধর, তুই তোর বেস্ট ফ্রেন্ডের সঙ্গে কতক্ষণ চ্যাট করবি, সেটা কিন্তু ফিক্সড থাকে না। ভেরি করে। কোনো দিন হয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাট করিস। আবার কোনো দিন হয়তো অল্প কিছুক্ষণ চ্যাট করতেছিস। অর্থাৎ, চ্যাট করার টাইম, সেটাও কিন্তু ভেরি করতেছে বা বলতে পারস সেটাও একটা ভেরিয়েবল।

এই ভেরিয়েবল জিনিসটা লেখা কিন্তু খুবই সোজা। জাস্ট তিনটি জিনিস লাগবে—

১. ভেরিয়েবলের একটি নাম। যাতে নাম দেখে বোঝা যায়, এইটা কী জিনিস। যেমন ভেরিয়েবলের নাম হিসেবে ‘গোল_এর_সংখ্যা’ লেখা থাকলে তুই বুঝতে পারবি। এইখানে গোল কয়টি দেওয়া হয়েছে, সেটার কথা বলা হচ্ছে। একইভাবে ‘চ্যাট_এর_টাইম’ নাম দিয়ে কোনো ভেরিয়েবল লেখা থাকলে বুঝতে পারবি, সেখানে চ্যাটের সময়ের কথা বলা হচ্ছে। অর্থাৎ, নাম দেখে বুঝতে পারবি, সেখানে কী নিয়ে কথা হচ্ছে।

২. যেহেতু ভেরিয়েবলের একটা নাম আছে। তাই নামের সঙ্গে একটা মানও থাকতে হবে। মান দিয়ে বোঝা যাবে। সেই ভেরিয়েবলের মান কত। যেমন আমি যদি বলি গোলের সংখ্যা ৩। তাহলে তুই বুঝতে পারবি ৩টি গোলের কথা বলা হচ্ছে। আর যদি বলি গোলের সংখ্যা ২। তাহলে বুঝতে পারবি গোল ২টি দিয়েছে।

৩. আর ভেরিয়েবলের নাম আর মানের মধ্যে একটা আংটা লাগানোর জন্য বা সংযোগের জন্য ভেরিয়েবলের নাম আর মানের মধ্যে একটা সমান চিহ্ন (=) দেওয়া হয়।

সিম্পলভাবে বললে বলা যায়, একটি ভেরিয়েবল লিখতে গেলে তিনটি জিনিস লাগে। একটি ভেরিয়েবলের নাম, একটি সমান চিহ্ন আর একটি মান। যেমন ধর, নিচে গোল (goals) নামের একটা ভেরিয়েবল আছে, যেটার মান হচ্ছে ৩।

goals = 3

একইভাবে তুই টানা ১১ ঘণ্টা চ্যাট করে যদি চ্যাটের টাইম (chat_time) নামে একটা ভেরিয়েবল লিখতে চাস, তাহলে নিচের মতো করে লিখবি।

chat_time = 11

আরেকটু সহজভাবে বললে, সমান চিহ্নের বাঁ পাশে থাকে ভেরিয়েবলের নাম। আর ডান পাশে থাকে ভেরিয়েবলের মান।

এই ভেরিয়েবল অনেকটা আমাদের ফোনে বিভিন্ন ফ্রেন্ডের ফোন নম্বর সেভ করে রাখার মতো। সবার একটা নাম আছে। সেই নাম ধরে সার্চ দিলে কিন্তু তার ফোন নম্বর দেখা যায়।

এত কথার ভেতরের কথা হচ্ছে ভেরিয়েবল লিখতে তিনটি জিনিস লাগে—ভেরিয়েবলের নাম, একটি সমান চিহ্ন আর একটি মান।

তবে ভেরিয়েবলের মান যে শুধু সংখ্যা দিয়েই হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তোর বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম দিয়েও ভেরিয়েবল লেখা যায়। তবে সেটা নিয়ে এখন বলব না। এখন একটু প্যারা আছে। সেটা নিয়ে কথা হবে সামনের পর্বে।

মনে রাখিস কিন্তু।

লেখক: ওয়েব ডেভেলপার ও পাইথন ট্রেইনার, কডিনিসম লিমিটেড, যুক্তরাষ্ট্র

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন