বাজিমাতের ১০ প্রযুক্তির তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, জীবন-ঘনিষ্ঠ অনেকগুলো প্রযুক্তিই আছে। তালিকায় পাবেন পরিবেশ বাঁচাতে বায়োপ্লাস্টিক, স্মার্ট ওষুধ, যুগান্তকারী সার, ফুড প্যাকেজিং বা ডিএনএ স্টোরেজের মতো জৈব বৈজ্ঞানিক ব্যাপার। সামাজিক রোবট, টেলিপোর্টেশন, ক্যামেরায় বিপুল উন্নতি, ব্যাটারি এগুলোও আছে। সব কটি প্রযুক্তি নিয়ে খানিকটা আলোচনা করা যাক। কোনটা কোন পর্যায়ে আছে, কবেই বা আসতে পারে আপনার হাতে।

বায়োপ্লাস্টিক

আমরা যদি বলি, আমাদের বর্তমান দুনিয়াটা প্লাস্টিকের, বিশ্বাস করুন, একদমই অত্যুক্তি হবে না। চারপাশে একবার তাকান, দেখুন, কতগুলো জিনিস প্লাস্টিকের। একটু হিসাব করলে আপনি অবাকই হবেন। এই লেখাতে তার হিসাব না দিয়ে তালিকা করার দায়িত্বটা আপনাকেই দিই। আপনার দৈনন্দিন জীবনে কোথায় কোথায় প্লাস্টিক ব্যবহার করছেন? এবার অবাক করা কথাটা বলি। এই যে এত এত প্লাস্টিক, এর কোনোটাই কিন্তু মাত্র ১০০ বছর আগেও ছিল না। প্লাস্টিকের যা কিছু, সবই তৈরি মূলত গত ১০০ বছরেই। তার মানে, ১০০ বছর আগের দুনিয়ায় গেলে আজকের অধিকাংশ ম্যাটেরিয়ালই আপনি দেখতে পাবেন না! এত এত কিছু হয়তো আমরা পেতামই না প্লাস্টিক না থাকলে।

কিন্তু প্লাস্টিকের গুণাগুণ বর্ণনা করতে শুরু করলে আপনি নিশ্চয় বিরক্ত হবেন। কারণ প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিকগুলো তো আপনি জানেনই। কিন্তু কী করবেন? প্রতিদিনকার সবকিছু তো আর বাদ দিয়ে দিতে পারবেন না।

সারা পৃথিবীতে প্রতিবছর কী পরিমাণ প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, শুনলে কিন্তু ভয়ই লাগে। ২০১৪ সালেই উৎপাদন করা হয়েছিল ৩১ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম হিসাব করে দেখিয়েছে, ২০৫০ সালে এই উৎপাদন তিন গুণ হবে! এখনই দুনিয়া ভেসে যাচ্ছে প্লাস্টিকে। তখন কী হবে?

প্লাস্টিকের বড় একটা অংশই কিন্তু রিসাইকেল করা যায়। তাতে কী? মাত্র ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক বিশ্বজুড়ে রিসাইকেল করা হয়। বাকিটা বেশির ভাগই পুড়িয়ে দেওয়া হয়, মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয় বা সোজা পরিবেশে ফেলে দেওয়া হয়, যার বিশাল একটা অংশ গিয়ে পড়ে সাগরে। কোটি কোটি মেট্রিক টন প্লাস্টিক পরিবেশে গেলে কী ক্ষতিটাই না হয়, চিন্তা করতে পারেন!

এর থেকে বাঁচার উপায়? বাঁচার উপায় হলো বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক, যা পরিবেশে ফেলে দিলে পচে যাবে, ঠিক যেমন পচে যায় গাছের পাতা। আপনাকে হিসাব না দিলেও আপনি নিশ্চয় বুঝতে পারবেন, সারা পৃথিবীতে প্লাস্টিকের চেয়ে বহুগুণ বেশি গাছের পাতা গজায় প্রতিবছর। সব পাতা তো আমরা খাই না। তারপরও এই পাতাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হয় না। নানা অণুজীবের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবেই পাতাগুলো পচে যায়, মিশে যায় মাটির সঙ্গে। তার মানে প্লাস্টিকও যদি পচিয়ে ফেলা যায়, তবে কিন্তু সহজেই সমাধান করে ফেলা যেত এই সমস্যার। এই সমাধানই আছে এই তালিকায়।

প্লাস্টিক দেখতে খুব যান্ত্রিক যান্ত্রিক লাগলেও প্লাস্টিক কিন্তু তৈরি হয় একদম প্রাকৃতিক উপাদান থেকে। তা অবশ্য সবকিছুই হয়। কিন্তু প্লাস্টিকের মূল উপাদানগুলোর প্রায় পুরোটাই জৈব যৌগ, জৈবিক পদার্থ, যার বড় একটা উৎস। পচনশীল প্লাস্টিক আসলে একটা চক্রের সৃষ্টি করবে। প্রকৃতি থেকে তৈরি হবে, তারপর আবার প্রকৃতিতেই মিশে যাবে।

আমরা যে প্লাস্টিক ব্যবহার করি, তার প্রধান অংশের মূল উপাদান পেট্রোকেমিক্যাল। এই প্লাস্টিকগুলোই মূলত মাটিতে পড়লে পচে না। গলে যায় না। পচে যায়, এমন প্লাস্টিকও বর্তমানে আছে। তার বেশির ভাগ তৈরি হয় ভুট্টা, আখ, ফেলে দেওয়া চর্বি বা ভেষজ তেল থেকে। তবে এই প্লাস্টিকগুলোর স্ট্রেংথ খুব কম। অল্প চাপেই ভেঙে যায় বা বেঁকে যায়। অপটিক্যাল প্রপার্টি বা আলোক বৈশিষ্ট্যও ঠিক প্রতিদিনকার ব্যবহারের প্লাস্টিকের মতো হয় না। তাই প্লাস্টিক হিসেবে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে যায়।

আমরা যে পচনশীল প্লাস্টিকের কথা বলছি, সেই প্লাস্টিক তৈরি হবে সেলুলোজ বা লিগনিন থেকে। কাঠের উপাদানের প্রধান অংশ হলো এই সেলুলোজ আর লিগনিন। একটা শুকনা কাঠের টুকরা হাতে নিলে আপনি প্রধানত সেলুলোজ আর লিগনিনই হাতে নিলেন। দুটোই পলিমার। ইদানীং বেশ কিছু গবেষণাতেই দেখা গেছে, সেলুলোজ বা লিগনিন থেকে প্লাস্টিক বানানো যাবে, যেগুলো হবে যথেষ্ট শক্ত, আলোক বৈশিষ্ট্যও ব্যবহার উপযোগী।

এখন পর্যন্ত বানানো অধিকাংশ পচনশীল প্লাস্টিকের উৎসই কিন্তু খাদ্য। এখন ভুট্টা না খেয়ে আমরা যদি প্লাস্টিক বানাই, তবে সুন্দর প্লাস্টিকের যন্ত্রপাতি বা জিনিসপত্র হয়তো হবে, তবে মানুষ খাবে কী? এ জন্য বিশ্বজুড়েই এর গ্রহণযোগ্যতা খুবই কম। সেলুলোজ বা লিগনিন নিয়ে তো এই সমস্যা নেই। দ্রুত বেড়ে ওঠে, এমন ঘাসও হতে পারে সেলুলোজ আর লিগনিনের উৎস। যেমন জায়ান্ট রিড। এই ঘাস এমন মাটিতেও হয়, যেখানে তেমন কোনো খাওয়ার যোগ্য ফসল ফলানো সম্ভব নয়। সেলুলোজ কিন্তু আমরা মানুষেরা খেতেও পারি না, কারণ, সেলুলোজ হজমের এনজাইমই আমাদের পাকস্থলীতে নেই।

সেলুলোজ, লিগনিন পাওয়া যেতে পারে ফেলে দেওয়া কাঠ থেকেও। অনেক কাঠের টুকরাই কিন্তু আমরা ফেলে দিই। আবার খাদ্য উৎপাদনের যে বাই-প্রোডাক্ট, যেমন ধান কাটার পর খড় অথবা গম তুলে ফেলার পর অবশিষ্টাংশ, এগুলোও হতে পারে সেলুলোজ আর লিগনিনের উৎস।

গাছের কোষের দেয়াল বা কোষঝিল্লি সেলুলোজ দিয়ে তৈরি। আর লিগনিন হলো কোষঝিল্লির ফাঁকা জায়গাগুলো পূর্ণ করে যে পদার্থ, তা। এই লিগনিন কোষগুলোর মধ্যে স্ট্রেংথ এনে দেয়। তাই আমাদের শরীরও গাছের মতোই কোষ দিয়ে তৈরি হলেও আমাদের দেহ কিন্তু এমন শক্ত নয়, গাছের দেহ যেমন শক্ত। এর পেছনে আছে এই সেলুলোজ আর লিগনিনেরই ভূমিকা।

সেলুলোজ আর লিগনিন, দুটোই পলিমার। প্লাস্টিকও পলিমার। পলিমার হলো এমন পদার্থ, যার অণুগুলো তৈরি হয় ছোট ছোট কতগুলো মনোমার দিয়ে। আরেকটু ব্যাখ্যা করা যাক।

আপনি যদি পানির সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম একক নেন, তবে তা হবে পানির অণু। এর মধ্যে দুইটা হাইড্রোজেন আর একটা অক্সিজেন থাকবে। এর থেকেও যদি ছোট করতে চান, তবে তা আর পানি থাকবে না, হয়ে যাবে অক্সিজেন আর হাইড্রোজেন, যে দুটো হলো পরমাণু। এতে পানির কোনো বৈশিষ্ট্যই আর আপনি পাবেন না।

অন্য সব পদার্থও এমন অণু দিয়েই তৈরি। প্লাস্টিক বা সেলুলোজও অণু দিয়েই তৈরি। কিন্তু এই অণুগুলো বিশেষ ধরনের। এর প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো এগুলোর একেকটা অণুতে বিপুলসংখ্যক পরমাণু থাকে। শত শত, এমনকি লাখ লাখ পরমাণু থাকতে পারে। খুব শক্ত প্লাস্টিকগুলোর একটা অণুতে এমনকি এক কোটি পরমাণুও থাকতে পারে। এই অণু ভেঙে ফেললে তা আর ওই প্লাস্টিক থাকবে না। হয়ে যাবে অন্য পদার্থ। কিন্তু এখানেই মজার ব্যাপার।

এই যে একটা পলিমার অণুতে এতগুলো পরমাণু, এগুলো কিন্তু একটা একটা মিলে এত বড় হয়নি। আবার একদম র‍্যান্ডম কিছুও নয়। আপনি এমন একটা অণু ভাঙলে ছোট ছোট কতগুলো বিল্ডিং ব্লক পাবেন। খানিকটা একটি দেয়ালের মতো। দেয়াল ভাঙলে আপনি পাবেন কতগুলো ইট। একই রকম ইট।

একটা পলিমার অণু ভাঙলে একরকম ছোট ছোট কতগুলো অংশ পাওয়া যায়, এগুলোকে বলে মনোমার। এক বা দুই রকম, কখনো কখনো তিন রকম মনোমার দিয়ে তৈরি হয় একটা পলিমার অণু। একই প্যাটার্নে কয়েক হাজার, এমনকি কয়েক কোটি, এমনকি কয়েক শ কোটি মনোমারও থাকতে পারে একটা অণুতে।

আপনার পরিচিত পলিমারের মধ্যে প্রথমেই তো আছে প্লাস্টিক। সেলুলোজ বা লিগনিন তো আছেই। সরাসরি না দেখা আরেকটা পলিমার হলো ডিএনএ। এ-টি-জি-সি হলো ডিএনএর চারটা মনোমার। অর্থাৎ জীবনের প্রতিলিপি পুরোটা লেখা হয়েছে এই চার মনোমারেই!

যা–ই হোক, প্লাস্টিক আমরা বানাতে চাই সেলুলোজ বা লিগনিন দিয়ে। দুটি পলিমার দিয়ে। এক পলিমার দিয়ে আরেক পলিমার। দুটি যে ভিন্ন পলিমার, তা তো বুঝতেই পারছেন। তাই এর মনোমার এবং মনোমারের গঠনেও কিছু ভিন্নতা তো লাগবেই। এক পলিমার থেকে আরেক পলিমারে নিতে হলে সোজাসুজি কিন্তু কোনো বুদ্ধি নেই। প্রথমে পলিমারটিকে ভেঙে ফেলতে হবে এর বিল্ডিং ব্লকে, মানে এর মনোমারে।

অতিসম্প্রতি বেশ কিছু গবেষণায় সেলুলোজ ও লিগনিনকে মনোমারে ভাঙার পদ্ধতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে লিগনিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ লিগনিনের মনোমারে আছে একটি বিশেষ ধরনের রিং। অ্যারোমেটিক রিং। কার্বন-হাইড্রোজেন দিয়ে তৈরি এই রিংয়ের উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, অনেক স্ট্রেংথ এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যওয়ালা প্লাস্টিক বানানোর জন্য।

লিগনিনের সমস্যা হলো খুব সহজে দ্রবীভূত হয় না। যেকোনো রাসায়নিক প্রক্রিয়ার প্রকৌশল করতে গেলে প্রথম শর্ত হলো তাকে দ্রবীভূত করা। কারণ, দ্রবীভূত করতে পারলে সহজে অন্য যেকোনো ফর্মে নেওয়ার কাজ করা যায়। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এ কাজেও সফল হয়েছেন। কিছু আয়নিক দ্রাবকে লিগনিন দ্রবীভূত হতে পারে। এই আয়নিক দ্রাবকগুলো আবার পরিবেশবান্ধবও। এই দ্রাবকগুলো কাঠ থেকে সিলেক্টিভলি লিগনিন আলাদা করে ফেলতে পারে।

লিগনিন আলাদা করে ফেললেও বাকি থাকে একে মনোমারে নেওয়া। কারণ, সরাসরি পলিমার থেকে পলিমার বানানো যায় না। রাসায়নিক বিক্রিয়ার লিগনিন পলিমার ভাঙতে গেলে পুরো যৌগটাই ভেঙে যায়। মনোমার হয় না। এ থেকে বাঁচার উপায় প্রাণরাসায়নিক প্রক্রিয়া।

এমনিতে লিগনিন ভেঙে ফেলে বিভিন্ন ফাঙ্গি বা ব্যাকটেরিয়া। পচে যাওয়ার সময়। ঠিক ওই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া এনজাইমের মতো এনজাইম তৈরি করা হয়েছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে। এই এনজাইমগুলো ভেঙে ফেলতে পারে দ্রবীভূত লিগনিনকে, লিগনিনের মনোমারে।

এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিক বানানোর জন্য বেশ কিছু স্টার্টআপ ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, ফেসবুক বা গুগলের মতো এসব স্টার্টআপের অনেকগুলো ইউনিভার্সিটি থেকে স্পিন অফ করেই বের হয়েছে। যেমন ক্রাইস্যালিক্স টেকনোলজিস (Chrysalix Technologies) ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন থেকে বের হওয়া কোম্পানি। এই কোম্পানি একটা পদ্ধতি বের করেছে, যা দিয়ে অল্প খরচে আয়নিক দ্রাবক দিয়ে সহজেই লিগনিনকে আলাদা করে ফেলা যায়।

ফিনল্যান্ডের এক কোম্পানি, মেটজেন অয়, এরা তৈরি করে জেনেটিকালি ইঞ্জিনিয়ার্ড এমন এনজাইম, যা বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া লিগনিনকে ভেঙে বিভিন্ন কার্যকর মনোমার বানাতে পারে, যেগুলো আবার ব্যবহার করা যাবে অনেক ধরনের প্লাস্টিক তৈরিতে।

আরেকটা কোম্পানি আছে মোবিয়াস, যাদের নাম আগে ছিল গ্রো বায়োপ্লাস্টিক। এই কোম্পানি লিগনিন থেকে পচনশীল প্লাস্টিকের টুকরা (প্লাস্টিক পেলেট) বানায়। সাধারণত প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিগুলো প্লাস্টিক পেলেট থেকেই সব ধরনের প্লাস্টিকের দ্রব্য বানায়। এসব প্লাস্টিক ব্যবহার করে ইতিমধ্যে ফুলদানি, বিভিন্ন কৃষিযন্ত্রের অংশ বানানো শুরু হয়ে গেছে।

তার মানে কি হাতের কাছে চলে এসেছে পচনশীল প্লাস্টিক? না, একদম হাতের কাছেও আসেনি। কারণ প্রতিদিনকার ব্যবহারে আনতে চাইলে বেশ কতগুলো সমস্যার সমাধান করতে হবে। চ্যালেঞ্জগুলো উতরে যেতে হবে।

প্রথম চ্যালেঞ্জ অবশ্যই এর দাম। পচনশীল প্লাস্টিকের দাম হাতের নাগালে আনতে হবে। তারপরেই আছে লিগনিনের উৎস। লিগনিন যদিও খুব সহজে উৎপাদন করা যাবে, তারপরও লিগনিন উৎপাদনে যাতে বিপুল জমি না লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি লিগনিনের প্রধান উৎস হিসেবে ময়লা-আবর্জনাকেই টার্গেট করা হয়, তাতেও বিপুল পরিমাণ পানি লাগবে। এটাও একটা চ্যালেঞ্জ বটে। আরেকটা চ্যালেঞ্জ হবে, ময়লা-আবর্জনা কীভাবে সংগ্রহ হবে। বর্তমানে যেভাবে সংগ্রহ হয়, সেভাবেই না হলে সমস্যা। বড় পরিবর্তন করা কঠিন।

সর্বশেষ চ্যালেঞ্জ থাকবে, কীভাবে এই প্লাস্টিক পচবে। প্লাস্টিকগুলো কোথায় ফেলা যাবে, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। বর্তমানে পচনশীল দ্রব্য, যেমন সবজি বা খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ যেভাবে সহজেই ফেলে দেওয়া যায়, ল্যান্ড ফিলিং করা যায়, সেভাবেই পচনশীল প্লাস্টিক ফেলা যাবে কি না, তা–ও একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

এসব চ্যালেঞ্জ জয় করা খুব একটা কঠিন হবে না হয়তো। তাই বলাই যায়, অল্প কিছুদিনেই হয়তো আপনার সামনে থাকা প্লাস্টিকের প্রতি এত বিতৃষ্ণা বা ভয় নিয়ে তাকাতে হবে না। কারণ ওই প্লাস্টিক পরিবেশের বারোটা বাজাবে না। আপনাকে দেখতে হবে না সাগরের পাড়ে মরে থাকা কোনো বকের ছবি, যার পেটভর্তি প্লাস্টিক। কারণ ওই প্লাস্টিক খেয়ে দেখা যাবে বক সুন্দর হজম করে ফেলবে।

কে জানে, একদিন হয়তো আপনার লাঞ্চে যে প্লাস্টিকের বক্স দেবে, ওইটা চাইলে টুক টুক করে চিবুতে চিবুতে খেয়েও ফেলতে পারবেন! পচনশীল বস্তু তো হজমও হয়ে যেতে পারে! যদিও এটা একটু কষ্ট-কল্পনাই!

সামাজিক রোবট

রোবট কথাটা চিন্তা করলেই আসলে আমাদের মাথায় আসে রোবটিক এক্সপ্রেশন। মানে লোহালক্কড়ের যন্ত্রই শুধু। এর মধ্যে কোনো আবেগ থাকবে না, থাকবে না প্রাকৃতিক কোনো ব্যাপার। মানবীয় ছোঁয়াও থাকবে না। কিন্তু সত্যিই কি তা–ই? দ্রুত বেড়ে ওঠা নাগরিক জীবনকে আমরা বলছি রোবটের মতো বাস করা। দিন দিন সবাই একা হয়ে যাচ্ছে। ঢাকায় যেকোনো ফ্ল্যাটবাড়িতে গিয়ে যেকোনো ঘরে ঢুকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, আপনার ঠিক উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে যারা থাকে, তাদের সবার নাম বলেন। অধিকাংশই সম্ভবত এটা পারবে না। একতলা ওপর–নিচ করে জানতে চাইলে প্রায় কেউই বলতে পারবে না। লিফটে বা পার্কিংয়েই যা এক–আধটু দেখা হয়। তাতে চেহারা জানা গেলেও একে অপরকে চেনার সুযোগ কোথায়? কিন্তু এ কি ভয়ংকর কিছুরই ইঙ্গিত করছে না?

লাখো বছর ধরে মানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করে আসছে, এখন হুট করে একাকী হয়ে যাওয়া কি কঠিন করে দেবে না সবকিছু? মানুষ সামাজিক জীব। এই বাক্যই মনে হয় মানুষ নিয়ে সাধারণভাবে বলা সবচেয়ে বেশিবার উচ্চারিত আপ্তবাক্য। রোবটের ভূমিকা কী এইখানে? অনেকে ধারণা করছেন, আপনার সামাজিক জীবনকে একাকিত্ব থেকে মুক্ত করতে ইমোশনের যোগ আছে, এমন কাজেও যুক্ত হতে যাচ্ছে রোবট।

রোবট আমাদের জীবনে এখন নেই, তা নয়। কারখানায় ম্যানুফ্যাকচার করছে রোবট, রোবট কত কিছু বানাচ্ছে, ভেঙে ফেলছে, অনেক সময় চিকিৎসককে অপারেশন করতে সাহায্য করছে, কত কী-ই তো করছে! কিন্তু সোশ্যাল রোবট? মানে সামাজিক রোবট? তার অস্তিত্ব কি আছে? আছে কিন্তু।

একটু ভালো করে খেয়াল করে দেখুন। রোবট নিয়ে আমাদের লম্বা সময় ধরে ধারণা ছিল, রোবট হবে মানুষের মতো। হিউম্যানয়েড রোবট তা আছেও, কিন্তু রোবটের এই ধারণার পরিবর্তন হতে শুরু করেছে বেশ আগেই। যেমন একসময় আমাদের কল্পনা হতো, আমাদের একটা রোবট থাকবে, যাকে বলব, লাইটটা জ্বালাও, ফ্যানটা ছেড়ে দাও। রোবট কাজটা করে দেবে। ষাট বা সত্তরের দশকের চলচ্চিত্রে ব্যাপারটা তেমনই। কিন্তু এখন যখন রোবটগুলা বাস্তবে চলে এসেছে, তখন খুব অল্পই দেখা যাচ্ছে অমন অবস্থার। যেমন ধরুন, এখন আপনার রোবটকে বলা লাগে না যে লাইটটা জ্বেলে দাও। বরং সরাসরি লাইটকেই বলা যায়, বন্ধ হয়ে যাও। লাইট নিজেই এখন একটা রোবট হয়ে যাচ্ছে। এর একটা দিক হলো আমাদের চারপাশটাই দেখা যাবে রোবটে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দুনিয়াটা হয়ে যাচ্ছে রোবটের। একটা বিশাল রোবট জালের মধ্যে আমরা বাস করতে শুরু করেছি।

এখনকার রোবটের ১ নম্বর বৈশিষ্ট্য সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং।

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন