নতুন কিছু আলাদাভাবে চিহ্নিত করাসহ নানা কারণেই নাম দিতে হয়। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও কথাটি সত্য। এসব নামের পেছনেও লুকিয়ে থাকে মজার ইতিহাস
জীবের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য কোষ বিভাজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দিন ধরেই প্রাণী বা উদ্ভিদ কেন বেড়ে ওঠে, সে বিষয়টি মানুষের অজানাই ছিল। অণুবীক্ষণযন্ত্র আবিষ্কারের পর ক্ষুদ্র জগতের রহস্যগুলো মানুষের সামনে উন্মোচিত হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় জার্মান উদ্ভিদবিদ হুগো ভন মোল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে সবুজ শৈবাল পরীক্ষা করতে গিয়ে ১৮৩৫ সালে কোষ বিভাজন আবিষ্কার করেন। এরপর ১৮৭৫ সালে প্রাণীর কোষ বিভাজন আবিষ্কার করেন পোলিশ বিজ্ঞানী ওয়াকল মেজেল। তিনি ব্যাঙ, খরগোশ ও বিড়ালের কর্নিয়া কোষ পরীক্ষা করতে গিয়ে কোষ বিভাজন আবিষ্কার করেন। পাশাপাশি এই প্রক্রিয়া প্রথমবারের মতো বর্ণনাও করেন তিনি। এতে দেখা গেল, এ প্রক্রিয়ায় কোষের নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজম উভয়ই একবার করে বিভাজিত হয়ে দুটি নতুন কোষে পরিণত হয়। আর নতুন কোষগুলো হুবহু মাতৃকোষের মতোই হয়। সে সময় আরও অনেকেই কোষের বিভাজন প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রক্রিয়াটির একটি নামকরণ জরুরি হয়ে উঠেছিল।
জার্মান জীববিজ্ঞানী ওয়ালথার ফ্লেমিং ১৮৮২ সালে এ প্রক্রিয়াকে মাইটোসিস নামে উল্লেখ করেন। শব্দটি তিনি ধার করেছিলেন গ্রিক শব্দ মাইটোস (mitos) থেকে, যার অর্থ তন্তু বা সুতার পাক খুলে যাওয়া। এর সাথে আরেক ল্যাটিন শব্দ ওসিস (osis) যোগ করে তৈরি করেন মাইটোসিস (Mitosis) শব্দটি। ল্যাটিনে ওসিস শব্দের অর্থ প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি। মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে দেখলে, কোষের নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজমগুলো সুতার মতোই পাক খুলে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। সে কারণেই এমন নাম দিয়েছিলেন ফ্লেমিং। এর চার বছর আগে কোষ বিভাজনের এই প্রক্রিয়াটির নাম ক্যারিওকাইনেসিস (যার অর্থ নিউক্লিয়াসের বিভাজন) দিয়েছিলেন শ্লেচার নামের এক বিজ্ঞানী। এ ছাড়া ১৮৮৭ সালে জার্মান জীববিজ্ঞানী অগাস্ট ভাইজম্যান প্রক্রিয়াটির নাম দিয়েছিলেন ইকুয়েশনাল ডিভিশন বা সমীকরণিক বিভাজন (এটি এখন মিয়োসিস-২–এর জন্য ব্যবহৃত হয়)। কিন্তু সব নামের মধ্যে মাইটোসিস সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।