ডিমেনশিয়া কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়। এটি বেশকিছু রোগের উপসর্গ। ডিমেনশিয়ার ফলে স্মৃতি হারাতে থাকে মানুষ। তবে এ রোগে বর্তমানের স্মৃতি ভুলে গেলেও অতীতের স্মৃতি বেশ ভালোই মনে থাকে।
ডিমেনশিয়া হওয়ার কিছু কারণ আছে। মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এটি হতে পারে। এ কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঙ্গে মস্তিষ্কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে একটু আগে ঘটে যাওয়া স্মৃতি ভুলে যায় মানুষ। মস্তিষ্কের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে ডিমেনশিয়া মানুষকে নানাভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
সাধারণত ডিমেনশিয়া ৬৫ বছরের বেশি বয়স্কদের প্রভাবিত করে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ডিমেনশিয়া হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায় উল্লেখযোগ্য হারে। ৬৫ বছরের বেশি বয়স্কদের প্রতি ১৪ জনে একজনের ডিমেনশিয়া হয়। ৮০ বছরের বেশি বয়সীদের প্রতি ছয় জনে একজন এ সমস্যায় ভোগে।
ডিমেনশিয়ার চিকিৎসা আছে। তবে বেশিরভাগ ডিমেনশিয়া নিরাময়যোগ্য নয়। এর অনেকগুলো লক্ষণের মধ্যে কিছু কিছু নিরাময়যোগ্য। তবে এ সমস্যা নিরাময়ের ওষুধগুলোর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। যেমন বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। হতে পারে ডায়রিয়াও। পাশাপাশি আরও কিছু সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যেমন হৃৎস্পন্দন ধীরে হওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা ইত্যাদি।
২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) আলঝেইমার রোগীদের জন্য অ্যাডুকানুম্যাব নামের ওষুধ অনুমোদন করেছে। এটি একটি মনোক্লোনাস অ্যান্টিবডি। যা মস্তিষ্কের নিউরণের ক্ষতি করে, এমন প্রোটিন ধ্বংস করে। এই প্রোটিনগুলো বিটা-অ্যামাইলয়েড প্লেক নামে পরিচিত। ওষুধটির বেশকিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। তাই ওষুধটি এখনও গবেষণাধীন।
ওষুধ ছাড়াও ডিমেনশিয়া প্রতিরোধের কিছু উপায় আছে। যেমন স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খাওয়া, শরীরের ওজন ঠিক রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, অ্যালকোহল সেবন না করা, ধূমপান না করা ও রক্তচাপ ঠিক রাখা। এসব বিষয় মেনে চললে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
লেখক: শিক্ষার্থী, এসএসসি পরিক্ষার্থী, চুনারুঘাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হবিগঞ্জ
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে