একপাশে বয়ে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান উপসাগরের কাচের মতো স্বচ্ছ সবুজ-নীল পানি। অন্যপাশে শান্ত গোলাপী রঙের হ্রদ!
আপনি যদি অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলের মিডল আইল্যান্ড ধরে আকাশপথে এগোন, নিচে তাকালেই দেখবেন পৃথিবীর অন্যতম অদ্ভুত দৃশ্য। একপাশে বয়ে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান উপসাগরের কাচের মতো স্বচ্ছ সবুজ-নীল পানি। অন্যপাশে শান্ত গোলাপী রঙের হ্রদ! হ্যাঁ, ভুল দেখেননি। অস্ট্রেলিয়ার এই গোলাপী রঙের হ্রদটির নাম হিলার হ্রদ (Lake Hiller)।
শুধু হিলার হ্রদ-ই না, অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর অনেক জায়গাতেই দেখা মেলে এমন নানা ছোট বড় গোলাপী হ্রদের। প্রশ্ন হলো, কেন? এসব হ্রদের পানির রঙ কেন গোলাপী হয়? অনেক বছর ধরেই মানুষের মনে প্রশ্নটি ছিল। বিজ্ঞানীরা তাই এর উত্তর খুঁজে বের করেছেন।
গোলাপি রঙের এই কণাগুলোর মাধ্যমে অণুজীবটি সূর্যের আলোর সাহায্যে খাদ্য তৈরি করে। গাছের ক্ষেত্রে যাকে আমরা বলি সালোকসংশ্লেষণ।
হিলার হ্রদের পানি অনেকটা সাধারণ যেকোনো হ্রদের পানির মতোই। পার্থক্য হলো, এখানকার পানিতে বিশেষ ধরনের মাইক্রোব বা অণুজীব বেঁচে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা এ ধরনের হ্রদের পানিতে পেয়েছেন হ্যালোফিল মাইক্রো-অ্যালজি ধরনের অণুজীব—ডুনালিলা সালিনা ও হ্যালোব্যাকটেরিয়া। এদের জীবনধারণের জন্য সমুদ্রের পানির চেয়েও অতিরিক্ত লবণাক্ততা, তাপ ও সূর্যের আলো প্রয়োজন হয়। ডুনালিলা সালিনার কোষে থাকে ক্যারোটেনয়েড নামে লাল বা গোলাপী রঞ্জক কণা। এ রঞ্জক কণাগুলো মূলত তাদের ক্লোরোফিলযুক্ত কোষকে সুরক্ষা দেয়। এ রঞ্জক কণার কারণেই অণুজীবটিকে গোলাপী দেখায়। অর্থাৎ, গাছের মতোই এদের দেহেও সালোকসংশ্লেষণ হয়।
একইভাবে গাছের মতো সূর্যের আলো থেকে খাবার তৈরি করে হ্যালোব্যাকটেরিয়া। এদের দেহে থাকে ব্যাকটেরিহোডোপসিন নামের রঞ্জক কণা। গোলাপি রঙের এই কণাগুলোর মাধ্যমে অণুজীবটি সূর্যের আলোর সাহায্যে খাদ্য তৈরি করে। গাছের ক্ষেত্রে যাকে আমরা বলি সালোকসংশ্লেষণ। এসব অণুজীব হ্রদের পানিতে মেশে, তাই দেখলে মনে হয় হ্রদটাই গোলাপী।
হিলার হ্রদের পানি ভীষণ লবণাক্ত। এমন লবণাক্ত পানির পরিবেশে অণুজীবগুলো ভালো জন্মে। অস্ট্রেলিয়ার যেসব হ্রদের পরিবেশ হিলার লেকের মতো, সেখানেও এসব অণুজীব পাওয়া যায়। এ ছাড়া, মৃত সাগরের লোনা পরিবেশে জন্মে ডুনালিলা সালিনা।
অনেক গোলাপী হ্রদেই সাঁতার কাটা যায় চাইলে। সত্যি বলতে, লবণাক্ততা বেশি হওয়ায় এসব হ্রদে সাঁতার কাটা সাধারণ পানিতে সাঁতার কাটার তুলনায় অনেক সহজ। তবে অতি লবণাক্ত এ পানি পেটে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। তাই বিশেষজ্ঞরা এসব লেকে না নামারই পরামর্শ দেন।
লেখক: শিক্ষার্থী, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা
সূত্র: ওয়ান্ডারপোলিস