বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত ‘জীবাশ্ম’ শব্দটি প্রস্তুরীভূত জৈব ও খনিজ উভয় প্রকার প্রাচীন বস্তুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের ভাগে তা কেবল জৈব-অবশিষ্টাংশের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। তবে এসব পর্যবেক্ষণে ভূমণ্ডলের ভূতাত্ত্বিক সময়সীমার ধারণাও পাওয়া যায়।

ফসিল ও এ–বিষয়ক চর্চা ও গবেষণা অধ্যায়কে সামগ্রিকভাবে প্রাচীন জীববিজ্ঞান বা Paleontology নামে ডাকা হয়। বিজ্ঞানের এই শাখার মাধ্যমে অতীতের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া উদ্ভিদ বা প্রাণিকুল সম্পর্কে অজানা তথ্য জানা যায়। এই প্রাচীন জীববিজ্ঞানের সঙ্গে ভূতাত্ত্বিক সময়ের (Jeologicalera) নানা তথ্য ও জ্ঞানভান্ডারও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কেননা এই সময়সীমা ধরে পৃথিবীতে নতুন নতুন জীবন প্রজাতির একটা বিবর্তনভিত্তিক সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়।

সাধারণভাবে ধরে নেওয়া হয় পার্বত্য ফসিলের বয়সসীমা ১০ হাজার বছরের কম হলে তাকে ফসিল রেকর্ড সময় পর্যায়ে ধরা হয় না।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ফসিলগুলো সাধারণত ৩.৪৮ বিলিয়ন থেকে ৪.১ বিলিয়ন বছর সময়সীমায় পাওয়া গেছে। আমাদের জানামতে, পৃথিবীর বয়স ৪.৫ বিলিয়ন বা ৪৫০ কোটি বছরের কাছাকাছি। আর আদি পৃথিবীতে ৩.৫০ বিলিয়ন বছরের সময়সীমায় এককোষী প্রাণীর উদ্ভব হয়নি বলে জানা যায়। শনাক্ত করা সবচেয়ে প্রাচীন জীবনের মধ্যে এ পর্যন্ত যেসব নমুনা আবিষ্কৃত হয়েছে, তা হলো, দক্ষিণ আফ্রিকার চের্টস (Cherts) থেকে প্রাপ্ত ব্যাকটেরিয়ার মতো কোষ। যার বয়স দেখা যায় ৩.২ বিলিয়ন বছর। আবার একই সময়ের শীলা স্তরে অনেক দলের অমেরুদণ্ডী প্রাণীর ফসিলেরও সন্ধান পাওয়া যায়। এতে ধরে নেওয়া যায়, বিবর্তনরেখা একরৈখিক নয় এবং তা ভিন্ন ভিন্ন রেখায় প্রসারিত হয়ে নতুন নতুন উন্নততর প্রাণীর উদ্ভব হয়েছে। সুতরাং এখন সহজে ধরে নেওয়া যায়, পৃথিবীর তাবৎ আদি-জীবজ সদস্যের বয়স বা বয়ঃসীমা নির্ধারণ করে সেই সময়কার কোনো ভূতাত্ত্বিক কালের সময়সীমায় ভূমণ্ডলের আবির্ভাব ঘটেছিল, তা অনেকটাই নিশ্চিত করে বলা যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কীটপতঙ্গ ভূতাত্ত্বিক ডেভোনিয়ান সময়কালে (৩৫ কোটি বছর) উদ্ভব হয়ে নানা দল বা শ্রেণি হিসেবে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল। তেমনিভাবে ডাইনোসরের আগমন ও বিলুপ্তির সময়সীমার দুটোই সহজে জানা যায়।

জীবাশ্মের বয়স নির্ণয়ের যে পদ্ধতি তাকে কার্বন ডেটিং বা কার্বন-১৪ ডেটিং বলা হয়। এই পদ্ধতির আবিষ্কারক উইলার্ড লিব্বি, তিনি এই পদ্ধতির প্রচলন করেন ১৯৪০ সালের শেষের দিকে। এই উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারের জন্য ১৯৬০ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান।

কার্বন ডেটিং পদ্ধতি

তেজস্ক্রিয় কার্বন-১৪ (c-14) সব সময় পরিবেশের নাইট্রোজেনের সঙ্গে কসমিক রশ্মির বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হচ্ছে। এই c-14 পরিবেশের অক্সিজেনের সঙ্গে মিলিত হয়ে তেজস্ক্রিয় কার্বন ডাই–অক্সাইড তৈরি করে, যা পরে গাছের সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাণীদেহে চলে যায়। এভাবে প্রাণীদেহে c14-এর বিস্তার ঘটতে থাকে। কিন্তু যখন প্রাণী বা গাছ মরে যায়, তখন পরিবেশ থেকে এর দেহের কার্বন সংগ্রহ ও সঞ্চয় বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় থেকে জীবজ দেহের c-14 কমতে শুরু করে। এভাবে মৃত জীবজ দেহের c-14-এর পরিমাণ হিসাব করে বলা যায় কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদের জীবনাবসান কোন সময় বা কখন হয়েছিল। পুরোনো জীবজ নমুনায় নতুন নমুনার চেয়ে c-14 কম থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। এই পদ্ধতিতে সাধারণভাবে মৃত জীবজ দেহের বয়স বিশেষ গাণিতিক পদ্ধতিতে গণনা করা হয়, যা ‘কার্বন ডেটিং’ নামে পরিচিত।

লেখক: সাবেক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী, বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন এবং সাবেক খণ্ডকালীন অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জীববিজ্ঞান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন