সারা জীবনে আমাদের কী পরিমাণ কোষ ঝরে পড়ে?

জীবদেহে কোষের জন্ম-মৃত্যু একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। দেহের সুরক্ষা ও বৃদ্ধির জন্য এটা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময় পরপর সব প্রাণীরই চামড়ার নতুন কোষ তৈরি হয়। আগের কোষগুলো মরে যায় এবং ঝরে যায়। মানুষও এর ব্যতিক্রম নয়। সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীদের মতো মানুষ পুরো শরীরের চামড়া একবারে বদলায় না অবশ্য। তবে, প্রতিনিয়তই খসে পড়ে মানুষের চামড়া।

বাড়ির ধুলো ময়লায় প্রধান কারণ মানুষের ঝরে যাওয়া কোষ, এমন একটা কথা শোনা যায়। আসলেই কি তাই? সারা জীবনে আমাদের ঝরে পড়া কোষের পরিমাণটা কেমন?

২০১১ সালে প্রকাশিত এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এই প্রশ্নেরই উত্তর জানিয়েছেন একদল গবেষক।

যুক্তরাষ্ট্রের রুটজার্স ইউনিভার্সিটির এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড ওকুপেশনাল হেলথ সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক চার্লস ওয়েশলারের নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

গবেষণাপত্রে তাঁরা দেখান, প্রতিঘণ্টায় ঝরে পড়া আমাদের কোষের পরিমাণ প্রায় ০.০২৮ থেকে ০.০৮৫ গ্রাম। ঘণ্টার হিসেবে এটা সামান্য, কিন্তু পূর্ণবয়স্ক মানুষের হিসেব করলে দেখা যায়, এর পরিমাণ প্রায় ৩৫ কেজি। পুরো দেহের প্রায় অর্ধেক ওজন!

তাঁদের গবেষণা অনুযায়ী, মোটামুটি ২-৪ সপ্তাহে একজন মানুষের দেহের সম্পূর্ণ চামড়া ঝরে যায়। দিনে ঝড়ে পড়া কোষের সংখ্যা প্রায় ৫০ কোটি। দেহে উৎপন্ন কোষের তুলনায় ঝরে পড়া কোষের সংখ্যা খুবই সামান্য বলে, আমরা ব্যাপারটি টের পাই না। বরং দেহের আরও বৃদ্ধি হয় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।

চার্লস ওয়েশলার ও তাঁর দল শুধু এই হিসেব বের করেই ক্ষান্ত হননি। পরিবেশের ওপরে এর কেমন প্রভাব তাও দেখিয়েছেন। মানবদেহের এসব ঝরে পড়া কোষে তৈলাক্ত হাইড্রোকার্বন থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, কোলেস্টেরল এবং স্কোয়ালিন। যা ঘরের ওজন গ্যাসের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। তাঁদের হিসেবে, এই কমানোর পরিমাণ প্রায় ২-১৫ শতাংশ।

অর্থাৎ ঝরে পড়া কোষও আমাদের জন্য উপকারী। এখন কথা হচ্ছে, ঘরে যে ধুলো ময়লা দেখি তার প্রধান কারণ কী আমাদের কোষ। উত্তর হচ্ছে, না। আমাদের দিনের ঝরে পড়া কোষের পরিমাণ প্রায় ২ গ্রামের কাছাকাছি। বাড়িতে সারাদিনে জমা ময়লার পরিমাণ এর থেকে অনেক বেশি। বাতাসের ধুলো-ময়লা, কাপড়ের তন্তু এসব নানা কারণে ঘরে ময়লা জমে। তাই প্রধান কারণ আমাদের ঝরে পড়া কোষ নয়। কোষ ময়লার কিছু অংশ মাত্র। ৫০০ বেডরুম, ৩-৫ বছর বয়সী শিশুদের ১৫১ ডে-কেয়ার পর্যবেক্ষণ করে তাঁরা ডেটা সংগ্রহ করেন।

লেখক: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা।

সূত্র: এসিএস ডট অর্গ