অসুস্থ অবস্থায় আপনার ত্বক যদি অতিরিক্ত সেনসিটিভ বা স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে, তবে আপনি একা নন। পৃথিবীজুড়ে প্রচুর মানুষের এমনটা হয়। এর পেছনে বেশ কিছু কারণও আছে।

জ্বর হলে আমাদের দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। বাড়ে ত্বকের তাপমাত্রা। সূর্যের আলোয় থাকলেও এমনটা হয়। ধারণা করা হয়, এটি ত্বকের অতিরিক্ত স্পর্শকাতর হওয়ার অন্যতম কারণ। এখানে বলা প্রয়োজন, জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। দেহের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত কোষগুলো যখন কোনো জীবাণুর সঙ্গে যুদ্ধ করে, তখন শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এ কারণে শরীর বেশ দুর্বল বা খারাপ লাগে। কিন্তু শুধু জ্বর সবসময় শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। যাইহোক, জ্বর বা অন্য কোনো কারণে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম-বেশি হলে ত্বকের স্পর্শকাতরতা দেখা যায়।

ত্বকের স্পর্শকাতরতা বাড়ার আরেকটা কারণ হতে পারে অসুস্থতার কারণে শরীরে সৃষ্ট ব্যথা। ব্যথার কারণে ত্বকের স্পর্শানুভূতি ভিন্ন হতে পারে। আবার শরীরে পানিস্বল্পতার জন্য ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে ওঠে। এ কারণেও স্পর্শকাতরতা বাড়তে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কেউ কেউ আবার মনে করেন, শরীর অসুস্থ হলে দেহের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ত্বকের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু এর পেছনের কারণটি পুরোপুরি জানা যায়নি।

জ্বর হলে আমাদের ত্বকের তাপমাত্রাও বাড়ে
ছবি: সংগৃহীত

আশার কথা হলো, ত্বকের এ স্পর্শকাতরতা সাময়িক। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সাধারণ জ্বরের চিকিৎসাই এর বিরুদ্ধে কাজ করে। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড মেডিকেল স্কুলের শিক্ষক ও নিশ মানেকের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার মাধ্যমে ত্বকের এই অতি স্পর্শকাতরতা দূর হয়।

তবে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের দীর্ঘমেয়াদী স্নায়বিক ব্যথার জন্যও ত্বক স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে। এ অবস্থাকে বলা হয় অ্যালোডিনিয়া (Allodynia)। একে রোগ না বলে আসলে রোগের লক্ষণ বলা উচিত। একাধিক কারণ থাকতে পারে অ্যালোডিনিয়ার পেছনে। সাধারণত ডায়াবেটিস, দাদ, ফাইব্রোমায়ালজিয়া বা মাইগ্রেনের ব্যথার জন্যও এমন হতে পারে বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। 

লেখক: শিক্ষার্থী, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা

সূত্র: সায়েন্স ফোকাস