দেশের ৭৫ শতাংশ মাটিতে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি

৭৫ শতাংশ মাটিতে প্রয়োজনীয় জৈব ও রাসায়নিক উপাদানের ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস উপলক্ষে দেশের মৃত্তিকাবিজ্ঞানী ও কৃষিবিজ্ঞানীদের নিয়ে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন বক্তারা।

৬ ডিসেম্বর, সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এই যৌথ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার ও মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. কামারুজ্জামান।

আলোচনায় বলা হয়, দেশের মাটির গুণমান কমছে। ৭৫ শতাংশ মাটিতে প্রয়োজনীয় জৈব ও রাসায়নিক উপাদানের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উদ্যোগী না হলে খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ার ঝুঁকি আছে।

কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা হচ্ছে তাদের সঙ্গে মাঠের সম্পর্ক নেই। দেশে পোলট্রিশিল্পে বিপ্লব ঘটেছে, কিন্তু গবেষণার জন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পোলট্রি ফার্ম নেই। ভার্মি কমপোস্টে কোন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ কী পরিমাণ আছে, বিজ্ঞানীর কাছে জিজ্ঞাসা করে জানা যায়নি’। তিনি আরও বলেন, ‘জমির স্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হলে মাটির ব্যবহার শিখতে হবে।’

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার বলেন, ‘খাদ্যের ৯৫ শতাংশ আসে মাটি থেকে। দেশে মাটির মান যেমন কমে আসছে, পাশাপাশি চাষযোগ্য জমির পরিমাণও কমে যাচ্ছে। দেশে ২০১০ সালে আবাদযোগ্য জমি ছিল মোট জমির ৬৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ২০২০ সালে তা কমে হয় ৫৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। প্রতিবছর শূন্য দশমিক ৬৮৫ শতাংশ হারে আবাদি জমি কমছে।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় তিনি আরও বলেন, ‘দেশে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে। উৎপাদন বাড়াতে জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহারও বেড়েছে। কমেছে প্রাকৃতিক জৈব ও রাসায়নিক উপাদান। প্রতিবছর প্রতি হেক্টর জমি থেকে ৩২০–৩৬০ কেজি নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম ও ফসফরাস কমে যাচ্ছে। ৫০ শতাংশ জমিতে ফসফরাসের পরিমাণ অতি নিম্ন থেকে নিম্ন পর্যায়ে আছে। মাঝারি থেকে নিম্নমাত্রায় পটাশিয়ামের ঘাটতি আছে ৫৭ শতাংশ জমিতে। ৪০ শতাংশ জমিতে সালফারের পরিমাণ অতি নিম্ন পর্যায়ে। এ ছাড়া আছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক ও বোরনের ঘাটতি। ৩৫ শতাংশ জমিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ নিম্ন থেকে অতি নিম্ন পর্যায়ে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. কামারুজ্জামান বলেন, ‘মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের ছয় ব্যক্তিকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।’