নিপাহ ভাইরাস নামটি যেভাবে পেলাম

নতুন কিছু আলাদাভাবে চিহ্নিত করাসহ নানা কারণেই নাম দিতে হয়। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও কথাটি সত্য। এসব নামের পেছনেও লুকিয়ে থাকে মজার ইতিহাস।

মালয়েশিয়ার ছোট্ট একটা গ্রাম সুনগাই নিপাহ। ১৯৯৭ সালে সেখানে হঠাৎ অদ্ভুত এক রোগ দেখা দেয়। শুরুতে ওই এলাকার শূকরের মধ্যে একধরনের শ্বাসতন্ত্রের রোগ দেখা দিল। অচিরে একই ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ল দেখা গেল গ্রামটির কয়েকজন শূকরচাষি ও কসাইখানার কর্মীদের মধ্যে। তাদের লক্ষণগুলো ছিল জ্বর, কাশি, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট। সৌভাগ্যের ব্যাপার, রোগটি সরাসরি মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েনি। তাই সেবার খুব বেশি মানুষকে ভুগতে হয়নি।

১৯৯৯ সালে আবার রোগটি দেখা গেল। সেবার এক লাখের বেশি শূকর মেরে ফেলে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। সে সময় ২৬৫ জনের মধ্যে এনসেফালাইটিস দেখা দেয়, যার মধ্যে মারা যায় ১০৫ জন মানুষ। আক্রান্ত এক রোগের মস্তিষ্ক থেকে একটি নভেল প্যারামাইক্সোভাইরাস আলাদা করা হয়। লোকটির গ্রামের নামেই ভাইরাসটির নাম দেওয়া হয় নিপাহ ভাইরাস। ভাইরাসটি ফলভূক বাদুড়ের মধ্যেও শনাক্ত করা হয়েছিল। এ থেকে ধারণা করা হলো, বাদুড় থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়েছে।

গবেষকদের ধারণা, মানুষের মধ্যে রোগটি শুরু হওয়ার কারণ সম্ভবত বনের গাছ কেটে উজাড় করা। বন ধ্বংস করার কারণে ওই এলাকায় বাদুড়ের একটা কলোনি গৃহহীন হয়ে পড়েছিল। এরপর একটা শূকরের খামারের পাশের গাছে নতুন করে বাসা বেঁধেছিল বাদুড়গুলো। তাতে বাদুড়ের মলের মাধ্যমে শূকরের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। তারপর খামারের শূকর থেকে ছড়িয়ে পড়ে ওই কৃষক ও কসাইখানার কর্মীদের মধ্যে।

২০০১ সালে বাংলাদেশের মেহেরপুরে রোগটি প্রথমবার ধরা পড়ে। ২০০১-১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ২০টি জেলায় ১১ বার এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। এতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫০ জনের। প্রতিবছর শীতকালে বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। সাধারণত বাদুড়ের মাধ্যমে এই রোগের ভাইরাস ছড়ায়। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকেও অন্য ব্যক্তিতে ছড়াতে পারে। বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাবে দূষিত খেজুরের রস কোনো মানুষ খেলে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।