শব্দকাহন
ইবোলা ভাইরাস নামটি যেভাবে পেলাম
নতুন কিছু আলাদাভাবে চিহ্নিত করাসহ নানা কারণেই নাম দিতে হয়। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও কথাটি সত্য। এসব নামের পেছনেও লুকিয়ে থাকে মজার ইতিহাস।
১৯৭৬ সালের ঘটনা। উত্তরাঞ্চলীয় জায়ারের (এখন ডিআরসি বা কঙ্গো) প্রত্যন্ত একটি গ্রাম ইয়ামবুকু। সেখানকার এক স্কুলশিক্ষক একদিন বনে গিয়েছিলেন কী একটা কাজে। বন থেকে ফিরে মাথাব্যথা ও জ্বরে আক্রান্ত হন। মাত্র কয়েক দিনে অবস্থা বেশ গুরুতর অবস্থায় চলে গেল। তাঁকে ভর্তি করা হলো স্থানীয় মিশন হাসপাতালে। রোগীর লক্ষণ দেখে ম্যালেরিয়া বলে ধরে নিলেন চিকিৎসকেরা। সেই মোতাবেক তাঁকে চিকিৎসাও দেওয়া হলো। কিন্তু তাঁর লক্ষণগুলো ক্রমেই ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বরের দিকে এগোতে থাকে। এর সঙ্গে ছিল গায়ের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, পেটে তীব্র ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি, পেশি সংকোচন আর রক্তক্ষরণ। শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। কয়েক দিন রোগে ভুগে মারা যান তিনি।
এর কয়েক দিন পর আরও কয়েকজনের মধ্যে একই ধরনের রোগের লক্ষণ দেখা দিতে লাগল। ওই শিক্ষকের সরাসরি সংস্পর্শে আসা মানুষগুলোও একই রোগে আক্রান্ত হচ্ছিল। পরে দেখা গেল, মূলত ওই শিক্ষকের মাধ্যমে এবং তাঁর বডি ফ্লুইডের মাধ্যমে বিশেষ এক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্য, হাসপাতালের অন্যান্য রোগী ও কর্মী। ইয়ামবুকু গ্রামে সেবার বিস্ফোরকের মতো রোগটি ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই গ্রামের ৩১৮ জন এতে সংক্রমিত হয়। তাদের মধ্যে মারা যায় ২৮০ জন। এরপর এসব প্রাদুর্ভাবের ফ্রিকোয়েন্সি ডিআরসি, গ্যাবন ও সুদানে ১৯৯০-এর মধ্য দশক থেকে বেড়ে যায়।
পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেল, এ রোগের জন্য দায়ী একধরনের ফিলোভাইরাস। লাতিন শব্দ ফিলাম থেকে এর উৎপত্তি, যার অর্থ সুতা বা তন্তু। এসব ভাইরাসের গঠন সুতা বা আঁশের মতো বলেই এমন নামকরণ। ইবোলা হেমোরেজিক জ্বর সৃষ্টির জন্য ফিলোভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে জায়ারের ইয়ামবুকু গ্রামের কাছ দিয়ে বয়ে যাওয়া ইবোলা নদীর নামে। কারণ, এ জায়গাতেই এ রোগের প্রকোপ শুরু হয়েছিল। আরও প্রমাণ পাওয়া গেল, ভাইরাসটির বাহক বাদুড়।