মাইক্রোবায়োম গবেষণার নতুন দিগন্ত

জীবজগতে অণুজীব বাস্তুতন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও ওষুধ তৈরি এবং শিল্পকারখানায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কিন্তু পৃথিবীর প্রায় ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ অণুজীব এখনো অনাবিষ্কৃত। বিস্তারিত গবেষণা করতে হলে গবষেণাগারে এসব অণুজীব উৎপাদন করা জরুরি। দুঃখের বিষয়, শতকরা মাত্র ১ ভাগের কম অণুজীব গবেষণাগারে উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। তাই মাইক্রোবায়োম সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখনো অসম্পূর্ণ। আশার কথা হলো, জিনোম সিকোয়েন্স পদ্ধতির দ্রুত উন্নতির ফলে মাইক্রোবায়োম গবেষণা এখন দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে, এরই ফল হচ্ছে মেটাজিনোমিকস।

প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নমুনা থেকে সরাসরি পাওয়া অণুজীব সম্প্রদায়ের জিন গবেষণার বৈজ্ঞানিক শাখাকে বলে মেটাজিনোমিকস। এটি বর্তমানে একটি উদীয়মান, অতি প্রয়োজনীয় ও শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক বিষয়। সাধারণত ডিএনএ সিকোয়েন্স কাঠামোভিত্তিক ও ক্রিয়াভিত্তিক কৌশল—এ দুই ধরনের হয়।

প্রকৃতিতে প্রাপ্ত অণুজীব সম্প্রদায়ের জিনোম ক্রমবিন্যাসের তথ্য বের করা হয় মেটাজিনোমিকসের সাহায্যে। এখন গবেষণাগারে অণুজীবের বংশবৃদ্ধি পদ্ধতির বিকল্প বের করা ও উৎপাদন অনুপযোগী অণুজীবের জিনগত সম্পর্কে জানার চেষ্টা চলছে মেটাজিনোমিকস ব্যবহার করে। প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিবর্তন পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য, মানব ক্রিয়াকলাপের ফলে অণুজীবের অভিযোজন এবং নানা রোগের উত্স হিসেবে তাদের ভূমিকা জানতে অণুজীব গবেষণার নতুন দিগন্ত তৈরি করছে এই বিভাগ।

মেটাজিনোমিকসের (সাধারণ) পদ্ধতি

স্থান নির্বাচন - নমুনা সংগ্রহ - পরিস্রবণ - ডিএনএ পৃথক্‌করণ ও সিকোয়েন্সিং - প্রাপ্ত সিকোয়েন্স একত্রকরণ - জিনোম পুনর্গঠন, জিনোমে জিনের অবস্থান শনাক্তকরণ ও জীবতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা প্রদান

মেটাজিনোমিকসের প্রয়োগ

জীবপ্রযুক্তিতে ব্যবহারের জন্য অনন্য বৈশিষ্ট্যের এনজাইম বা উৎসেচকের জিন আবিষ্কার করতে।

লেখক: অধ্যাপক, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়