কৃষ্ণগহ্বর আমাদের কৌতূহলী করে তোলে। সূর্য থেকে অন্তত ১.৪ গুণ ভারী নক্ষত্রদের শেষ পরিণতি কৃষ্ণগহ্বর। মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় বস্তু কৃষ্ণগহ্বর। কিন্তু জিনিসটা আসলে কী? আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা সূত্রের এই ভবিষ্যদ্বাণী আজ বাস্তব। বিজ্ঞানীরা কৃষ্ণগহ্বরের ছবিও তুলেছেন। ইতিহাসের পথ ধরে কৃষ্ণগহ্বর গবেষণার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, এর পেছনের বিজ্ঞান উঠে এসেছে এ এম হারুন অর রশীদের লেখায়। এই কৃষ্ণগহ্বর গবেষণার অগ্রপথিকদের একজন আমাদের কালের নায়ক স্টিফেন হকিং। রজার পেনরোজের সঙ্গে তাঁর যৌথ গবেষণার মূলে কিন্তু একজন বাঙালি বিজ্ঞানীর গবেষণা। তিনি অমল রায় চৌধুরী। তাঁর আবিষ্কৃত রায় চৌধুরী সমীকরণের নানা দিক উঠে এসেছে শরীফ মাহমুদ ছিদ্দিকীর কলমে। উঠে এসেছে অগ্রপথিক রজার পেনরোজের কথাসহ কৃষ্ণগহ্বরবিষয়ক আরও অনেক কিছু।
যাঁরা বিশ্বজগতের রহস্যগুলো বুঝতে চান, মহাবৃত্ত আগস্ট-অক্টোবর ২০২৩ সংখ্যার শুরুতেই তাঁদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় এসব ফিচার।
রবীন্দ্রনাথের ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন জগদীশ চন্দ্রবসু। বাঙালির বিজ্ঞানচর্চার এই পুরোধাকে নিয়ে লিখেছেন আলী আজগর। হানিফ পাঠানকে আপনি চেনেন? পথে পথে হেঁটে বেড়াতেন অবসরে, পেশায় শিক্ষক। কিছু নুড়ি কুড়িয়ে পেয়েছিলেন পথে। সেই নুড়ি নিয়ে তাঁর দারুণ কৌতূহল। কালের খেরোখাতায় চাপা পড়ে যাওয়া উয়ারী-বটেশ্বর সভ্যতা খুঁজে বের করলেন প্রচণ্ড অনুসন্ধিৎসায়। কীভাবে? এ এক রোমাঞ্চকর আখ্যান।
রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন ডিএনএ-র গঠন-কাঠামো আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সে কালে স্বীকৃতি পাননি। আজ তাঁকে স্মরণ করা হয় পরম শ্রদ্ধায়। তাঁরই যেন উত্তরসূরী আশা দে ভোস। শ্রীলঙ্কার ‘সমুদ্র নায়ক’খ্যাত এই মানুষটি নীল তিমির জীবন নিয়ে গবেষণা করেন, মানুষকে শেখান সমুদ্রকে ভালোবাসতে।
এমনই দারুণ সব কাহিনি। গল্প নয়, বাস্তব। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা, অনুসন্ধিৎসুদের কথা পাতায় পাতায়। বাংলাদেশের মানুষকে বিজ্ঞানী আগ্রহী করতে শুধু মহাবৃত্ত প্রকাশের পাশাপাশি ডিসকাশন প্রজেক্টও আয়োজন করা হয়। আয়োজনের অগ্রপথিক বিজ্ঞানবক্তা আসিফ, যিনি একইসঙ্গে মহাবৃত্ত-এর সম্পাদকও। কখনো আলোচনা হয় বিজ্ঞান নিয়ে, কখনো দলবেঁধে আকাশ দেখা। সূর্যগ্রহণ দেখার তেমনি এক আখ্যান রয়েছে এ সংখ্যায়। রয়েছে আহসান হাবীবের মজার সায়েন্স টুন থেকে শুরু করে ২০২০ সালের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষণাগুলোর বিস্তারিত।
মহাবৃত্ত একটি বিজ্ঞান ত্রৈমাসিক। বিজ্ঞানবক্তা আসিফের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বাংলাদেশে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করতে। তাঁদের বহুদিনের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা-শ্রম-সাধনা বাঁধা পড়েছে মহাবৃত্তের পাতায়।
