খেলতে খেলতে গণিত

প্রতিবছর নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে সারা দেশে শুরু হয় গণিত উৎসব। এবার অবশ্য জানুয়ারিতে শুরু হলো। এ সময়ে আনন্দ-উল্লাসে স্কুলশিক্ষার্থীরা গণিত উৎসবে অংশগ্রহণ করে। যারা গণিত উৎসবের বাছাই পর্বে টিকে যায়, তারা আনন্দের সঙ্গে আঞ্চলিক পর্বে অংশ নেয়। যারা আঞ্চলিক পর্বে বিজয়ী হয়, তাদের নিশ্চয়ই দারুণ আনন্দ হয়। হাসিমুখে সবাই উৎসবের জাতীয় পর্বে অংশ নেয়। দল বেঁধে ঢাকায় আসে। অবশ্য পরীক্ষা দেওয়ার পর কারো কারো একটু মন খারাপ হয়। অনেকের মনে হয়, ইশ, একটুর জন্য একটা প্রশ্নের সমাধান সঠিকভাবে করতে পারলাম না! যারা বিজয়ী হয়, তাদের তো আনন্দের সীমা থাকে না।

অবশ্য গণিত উৎসবে পরীক্ষাই শেষ কথা নয়। এটা গণিতের উৎসব—গণিতপ্রেমীদের জন্য দেশের সবচেয়ে বড় উৎসব। যারা গণিত ভালোবাসে, তারা এই গণিতযজ্ঞে এক হয়। সবাই মিলে আনন্দ করে, সারাদিন নানা অনুষ্ঠান হয় মঞ্চে।

তবু অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও, গণিত উৎসবের প্রতিটি ধাপে শিক্ষার্থীদের একটা অংশ বাদ পড়ে। বিজয়ী হয়ে পরের ধাপে সবাইকে নেওয়া সম্ভব হয় না। কারণ এখান থেকে গণিত ক্যাম্পের জন্য কিছু শিক্ষার্থী বাছাই করতে হয়। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দল পাঠানো হয় সেখান থেকে। সেই দলে সবাইকে নেওয়া সম্ভব নয়। তবে সেই দলের সঙ্গে মনে-প্রাণে সবাই হাজির থাকে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে। দলের কেউ পুরস্কার পেলে গোটা বাংলাদেশে খুশির ঢল নামে।

এই ধাঁধাগুলো গণিত অলিম্পিয়াডের প্রাথমিক ও জুনিয়র ক্যাটাগরির সমস্যা সমাধান শেখার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি অনুশীলনের মাধ্যমে শেখা যাবে গণিতের কার্যপদ্ধতি। বুদ্ধির ব্যায়ামের জন্য বইটি দারুণ
গণিতের খেলা গণিতের মজা বইয়ের প্রচ্ছদ

গণিত অলিম্পিয়াডে ভালো করতে প্রস্তুতি দরকার। প্রস্তুতি ছাড়া ভালো করা কঠিন। এই প্রস্তুতির বিষয়টি যদি আনন্দের হয়, তাহলে খুব ভালো। শিক্ষার্থীরা যেন গণিতের আনন্দ পায়, সে কথা মাথায় রেখেই প্রাথমিক পর্যায় থেকে গণিত উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। গণিতের আনন্দ একবার পেয়ে গেলে অলিম্পিয়াডের পরীক্ষা যেমন সহজ হয়ে যায়, তেমনি নিজে থেকেই ইচ্ছে করে নানারকম গাণিতিক সমস্যা সমাধান করতে, গণিতের সঙ্গে সময় কাটাতে।

গণিত অলিম্পিয়াড প্রস্তুতির বেশ কিছু ভালো বই বাজারে আছে। এর কিছু বইতে আবার অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতির পাশাপাশি আনন্দের দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। এরকম একটি বইয়ের কথাই আজ বলতে চাই। বইটির সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়ে গাণিতিক সমস্যা সমাধানের অভ্যাস তৈরি হবে। অলিম্পিয়াডে ভালো করার পাশাপাশি অনুভব করা যাবে গণিতের আনন্দ। বইটি বেরিয়েছে প্রথমা প্রকাশন থেকে। নাম, গণিতের খেলা গণিতের মজা।

বইটিতে ১০০ গাণিতিক ধাঁধা আছে, ছয় অধ্যায়ে বিভক্ত। পূর্ণসংখ্যা, মূলদ ও অমূলদ সংখ্যা, জ্যামিতি, পরিমাপ, সাধারণ যুক্তি আর বীজগণিত, পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনা নিয়ে সাজানো ধাঁধাগুলো। প্রতি অধ্যায়ের শুরুতে বিষয়গুলো নিয়ে রয়েছে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। এরপরই আছে বিষয়ভিত্তিক ধাঁধা। কিছু ধাঁধা মাথার মধ্যেই সমাধান করা যায়। কিছু ধাঁধা সমাধানের জন্য আবার খাতা-কলম নিয়ে বসতে হয়। প্রতিটি ধাঁধা এমনভাবে সাজানো, যেন ধারাবাহিকভাবে অনুশীলন করলে গণিতের সমস্যা দ্রুত সমাধান করার কৌশল আয়ত্ব হয়, সমস্যা সমাধানের তৈরি হয় দক্ষতা। আর ধাঁধাগুলো নিয়ে চিন্তা করলে, সমাধানের সময় আপনাতেই একচিলতে হাসি ফুটতে পারে মুখে।

গণিতের খেলা গণিতের মজা | কাজী আকাশ | প্রথম প্রকাশ: আগস্ট, ২০২৩ | প্রচ্ছদ: আব্দুল্লাহ আল মাকসুদ | পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২ | মুদ্রিত মূল্য: ২৫০ টাকা | প্রকাশক: প্রথমা প্রকাশন

এই ধাঁধাগুলো গণিত অলিম্পিয়াডের প্রাথমিক ও জুনিয়র ক্যাটাগরির সমস্যা সমাধান শেখার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি অনুশীলনের মাধ্যমে শেখা যাবে গণিতের কার্যপদ্ধতি। বুদ্ধির ব্যায়ামের জন্য বইটি দারুণ। প্রতিটি ধাঁধা যেহেতু আলাদা, আবার বিষয়ের ভিত্তিতে সাজানো, তাই অনুশীলন করলে শিক্ষার্থীদের গাণিতিক যুক্তির দক্ষতা বাড়বে। গাণিতিক সমস্যা সমাধানের সৃজনশীলতা বাড়বে।

সমস্যার পাশাপাশি বইয়ের শেষে রয়েছে প্রতিটি ধাঁধার সংক্ষিপ্ত সমাধান। লেখকের পরামর্শ হলো, সমস্যাগুলো নিজে নিজে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। লেগে থাকলে সবগুলো সমস্যাই নিজে নিজে সমাধান করা সম্ভব। কোথাও আটকে গেলে অধ্যায়ের শুরুতে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা তো আছেই। সেটা পড়লে বিষয়গুলো একটু ভালোভাবে বোঝা যাবে। তা ছাড়া অনলাইনে তো আরও অনেক রিসোর্স রয়েছেই।

সমাধান করলে সরাসরি কোনো পুরস্কার পাওয়া যাবে না, কেউ বাড়তি নম্বর দেবে না। তবে পুরস্কার একটা পাওয়া যাবে ঠিকই—মস্তিষ্কের ধার বাড়বে। তাই নিজে নিজে সমাধান করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আর প্রথম প্রথম ধাঁধা সমাধান করা কঠিন মনে হলেও ধীরে ধীরে বিষয়টা সহজ হয়ে ওঠে। এটা শুধু অভ্যাসের ব্যাপার। আর একদমই সমাধান করতে না পারলে সমাধান তো রয়েছেই!

 বইয়ের লেখক কাজী আকাশ। আগেই বলেছি, সমস্যা সমাধানে দক্ষ হওয়ার জন্য লেখা হলেও সঙ্গে আনন্দের বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছেন লেখক। আনন্দের সঙ্গে গণিত করার জন্য, গণিতে মজা পাওয়ার জন্য বইটি কাজে লাগবে। প্রচ্ছদে লেখা আছে, ‘গণিতের আনন্দযজ্ঞে স্বাগত!’ সত্যিই সমস্যাগুলো সমাধান করলে দারুণ আনন্দ পাওয়া যাবে।

বইটি পাওয়া যাবে প্রথমা ডট কম, রকমারি ডটকমসহ বিভিন্ন অনলাইন বইয়ের দোকানে। আর আসছে ফেব্রুয়ারিতে অমর একুশে বইমেলায় প্রথমার প্যাভিলিয়ন থেকেও বইটি সংগ্রহ করতে পারবেন।