বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আয়োডিনের অভাব হলে গলগণ্ড, থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের সমস্যাসহ অন্য অনেক অসুখবিসুখ হয়। আয়োডিন আমাদের শরীরে তৈরি হয় না। দৈনন্দিন খাবারের সঙ্গেই আয়োডিন পাওয়া যায়। সামুদ্রিক মাছ, দুধ, প্রাণিজ মাংস, চাল-গম, শাকসবজি ও ফলমূলে প্রচুর আয়োডিন থাকে। মাছ সমুদ্রের পানি ও ভাসমান শৈবাল থেকে এবং ধান, গম, শাকসবজি, ফলমূল মাটি থেকে আয়োডিন পায়। এসব খাবার আমাদের আয়োডিনের প্রয়োজন মেটায়।

আমরা তো ভাত-মাছ, শাকসবজিই বেশি খাই। তাহলে আমাদের কেন লবণের সঙ্গে বাড়তি আয়োডিন লাগে? এর দুটি কারণ। প্রথমত, আগেই বলেছি, আমেরিকা-ইউরোপে বন্যা তেমন হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিবছর বন্যা হয়। আয়োডিন থাকে মাটির ওপরের স্তরে। বন্যায় সেই আয়োডিন ধুয়েমুছে চলে যায়। ফলে ধান-চাল-গম ও শাকসবজিতে আয়োডিন প্রায় থাকেই না। দ্বিতীয়ত, আমরা সাধারণত সামুদ্রিক মাছ খাই না। তাই, আয়োডিন আমরা সেখান থেকেও পাই না। বাংলাদেশের মতো আরও অনেক বন্যাপ্রবণ দেশে আয়োডিনের ঘাটতি একটি বড় সমস্যা। এই ঘাটতির কারণে একসময় আমাদের দেশে গলগণ্ড রোগ ব্যাপক আকারে দেখা দেয়। তখন আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়ার চল হয়। আইন করে লবণে আয়োডিন মেশানোর ব্যবস্থা করা হয়।

*লেখাটি ২০১৭ সালে বিজ্ঞানচিন্তার ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত

কার্যকারণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন