মহাকাশে কি ফুল ফোটানো সম্ভব
২০১৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে প্রথম ফুল ফোটানো সম্ভব হয়েছিল। মহাশূন্যে ফুল ফোটানো বেশ কঠিন ছিল। গাছের গোড়ায় কতটা পানি দিতে হবে, অন্য কী ধরনের যত্ন নিতে হবে, এসবের অনেক কিছুই প্রায় অজানা ছিল। তা ছাড়া মহাশূন্যে মাইক্রো গ্র্যাভিটিতে (সীমিত মহাকর্ষ বল) ফুল গাছ কীভাবে বেড়ে উঠবে, সেটাও এক সমস্যা। শেষ পর্যন্ত নভোচারী স্কট ক্যালি ১৭ জানুয়ারি ২০১৬ টুইট করে জিনিয়া ফুল ফোটানোর সুসংবাদ দিয়েছিল। মহাশূন্যে এই প্রথম গাছে ফুল ফোটানো সম্ভব হলো। মহাশূন্যে জিনিয়ার বেড়ে ওঠার সময় একটু বেশি, ৬০ থেকে ৮০ দিন। নাসা একে উদ্ভিদের মহাকাশ জয় বলে বর্ণনা করেছে। অনেক দিন ধরেই নভোচারীরা চেষ্টা করছিলেন।
নাসা জানিয়েছে, ওরা ২০১৪ সালের মে মাসে মহাশূন্যে কক্ষপথে পরিক্রমণরত স্পেস ল্যাবে সবজি চাষের উপযুক্ত ব্যবস্থা স্থাপন করে। প্রথম সবজি ছিল লাল লেটুস। প্রথম দুটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এর পরের বার সফল হয়। সবজির পর এল ফুলের সাফল্য। মহাশূন্যে ফুল ফোটানো সম্ভব হওয়ার পর এখন আশা করা যায় ভবিষ্যতে অন্যান্য শাকসবজি, ফলমূলও ফলানো যাবে। এভাবে মহাশূন্যে চাষাবাদের এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। মহাশূন্যে মহাকাশচারীদের খেয়ে-পরে দিন কাটানো সহজ হবে। এ জন্যই এ ঘটনাটি বিশ্ববাসীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
