মাঝের আঙুলটি বড় কেন
হাতের পাঁচ আঙুল সমান না, এটা আমরা চিরকাল দেখে আসছি। কিন্তু কেন না? কেন ঠিক মাঝের আঙুলটি (মধ্যমা) সবচেয়ে বড়? এর সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর এখনও জানা যায়নি। তবে বিশ্লেষণমূলক ব্যাখ্যা রয়েছে, যা যুক্তিসঙ্গত বলে ধরে নেওয়া যায়। কোনো কাজ করতে গেলে মানুষ সাধারণত মুষ্টিবদ্ধ হাতে শক্ত করে কিছু ধরে। এ সময় মাঝের আঙুলের ওপর চাপ পড়ে। অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্মে মাঝের আঙুলটির ব্যবহার এমন যে সেটা মোটামুটি শক্ত না হলে চলে না। দেখা গেছে হাতের পেশিগুলো মাঝের আঙুলের হাড়ের চারপাশে সুসজ্জিত এবং এর হাড়ও খুব শক্ত ও লম্বা। ফলে মাঝের আঙুলটি এমন অবস্থানে রয়েছে, যার সাহায্যে বেশি শক্তি প্রয়োগ করা সম্ভব।
আদিম যুগে মানুষ মূলত ফলমূল খেয়ে বাঁচত। গাছের ডাল থেকে ফল পাড়ার জন্য শক্ত মুঠি একটি বড় ভূমিকা পালন করে। আর সেখানে মাঝের আঙুলটি বড় হওয়ায় মানুষের জীবন ধারণ সহজ হয়েছে। সে কারণে মাঝের বড় আঙুলটি জীবনের পরীক্ষায় টিকে গেছে। কালের বিবর্তনে সেটি সংরক্ষিত হয়েছে। শক্ত মুঠিতে কোনো কিছু ধরার সক্ষমতার সঙ্গে হাতের আঙুলের অবস্থান ও গঠনের যে সম্পর্ক রয়েছে তা বুড়ো আঙুলের অবস্থান থেকে আরও স্পষ্ট বোঝা যায়। বুড়ো আঙুলটি অন্য চারটি আঙুলের তুলনায় এমন অবস্থানে রয়েছে যেন আঙুলগুলো দুই বিপরীত দিক থেকে গোল করে এনে কোনো কিছু শক্ত মুঠিতে আঁকড়ে ধরা সহজ হয়। সেখানে মধ্যমা প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়।
