পাথর কি আপনাআপনি ওপরে উঠতে পারে
প্রাচীন ভারতের সাধু-সন্ন্যাসীরা চমকপ্রদ জাদু দেখাতেন। সিদ্ধিলাভকারী কোনো সাধক ছুঁমন্তর দিলেই মাটিতে লুটিয়ে থাকা একটি দড়ি সোজা হয়ে লম্বভাবে দাঁড়িয়ে যায়। যেন শীর্ণদেহী কেউ ঘুম থেকে উঠে দাঁড়াল! এ রকম চমৎকার খেলা এখনো অনেক জাদুকর দেখাতে পারেন। তবে তার পেছনে কিছু কৌশল থাকে। দর্শকেরা তা খালি চোখে দেখে বুঝতে পারেন না। এটাই জাদুকরের কৃতিত্ব।
এর পেছনে অলৌকিক কিছু নেই, থাকতে পারে না। হাত ছাপাই মাত্র। অথবা সন্ন্যাসী দর্শকদের মোহাবিষ্ট করে ফেলেন। তখন মনে হয় অতীন্দ্রিয় শক্তি দিয়ে অসাধ্য সাধন করা হচ্ছে। কিন্তু একটি ভারী পাথরের টুকরাকে কি ধীরে ধীরে ওপরে ওঠানো সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব। প্রথমে একটি কাচের গ্লাসে ছোট পাথরের টুকরাটি রেখে শুকনো চাল দিয়ে গ্লাসটি ভরে দিই। এবার এক হাতের তালুতে গ্লাসটি রেখে অন্য হাতের তালু দিয়ে গ্লাসের মুখে বারবার থাবা দিই। সাধারণ বিবেচনায় মনে হবে, বালুর চেয়ে ভারী বলে পাথরের টুকরাটি ঝাঁকি খেয়ে নিচেই পড়ে থাকবে।
বালুকণার চেয়ে লোহার গোলকের ওজন বেশি বলে ঝাঁকুনিতে লোহার গোলকে বেশি ভরবেগ সৃষ্টি হয়। এ কারণে সেটা নিচ থেকে ওপরে চলে আসে। অবশ্য এর সঙ্গে সেই দড়ির জাদুর কোনো সম্পর্ক নেই।
কিন্তু দেখা যাবে, ধীরে ধীরে সেটা চালের বাধা ঠেলে ওপরে উঠে আসছে। এই কৌশল ব্যবহার করে তৈরি একটি খেলা একসময় বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।
দুই মাথা বন্ধ একটি কাচের নলের এক পাশে একটি লোহার গোলক ও বাকি অংশ বালু দিয়ে ভরা। এখন কাচের নলটি লম্বভাবে দাঁড় করিয়ে রেখে লোহার গোলকটিকে নিচ থেকে ওপরে ওঠান তো!
এর একটাই মাত্র উপায়, যা ওপরে বর্ণনা করা হয়েছে। খাড়া অবস্থায় নলটির ওপরের প্রান্তে হাতের তালু দিয়ে বাড়ি দিতে থাকলেই বলটি বালুর বাধা ভেদ করে ওপরে উঠে আসবে। বালুকণার চেয়ে লোহার গোলকের ওজন বেশি বলে ঝাঁকুনিতে লোহার গোলকে বেশি ভরবেগ সৃষ্টি হয়। এ কারণে সেটা নিচ থেকে ওপরে চলে আসে।
অবশ্য এর সঙ্গে সেই দড়ির জাদুর কোনো সম্পর্ক নেই। ওটা কৌশল, কিন্তু এটা পুরোদস্তুর বিজ্ঞান।
