নতুন কিছু আলাদাভাবে চিহ্নিত করাসহ নানা কারণেই নাম দিতে হয়। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও কথাটি সত্য। এসব নামের পেছনেও লুকিয়ে থাকে মজার ইতিহাস
জার্মেনিয়াম আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৮৮৬ সালে। জার্মানির এক খনিতে আর্গিরোডাইট খনিজ বিশ্লেষণ করে রসায়নবিদ ক্লেমেন উইঙ্ক রুপা, সালফার এবং নতুন একটি মৌলের সন্ধান পেলেন। এ ঘটনার প্রায় ১৫ বছর আগে রুশ বিজ্ঞানী দিমিত্রি মেন্দেলিফ বেশ কয়েকটি মৌলের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। পাশাপাশি অনাবিষ্কৃত সেসব মৌলের বৈশিষ্ট্য কেমন হবে তারও নির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি। মেন্দেলিফের অনুমিত এ রকম একটি মৌলের নাম ছিল একা-সিলিকন, যার পারমাণবিক ওজন হবে প্রায় ৭২। ক্লেমেন উইঙ্কের আবিষ্কৃত নতুন মৌলটির সঙ্গে মেন্দেলিফ বর্ণিত একা-সিলিকনের বেশ মিল খুঁজে পাওয়া গেল। এমনকি পারমাণবিক ওজনটাও মিলে গেল হুবহু। তাতে নিশ্চিত হওয়া গেল এটিই মেন্দেলিফের ভবিষ্যদ্বাণী করা সেই মৌল।
এবার নাম দেওয়ার পালা। শুরুতে নতুন মৌলটিকে নেপচুনিয়াম দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন রসায়নবিদ ক্লেমেন উইঙ্ক। কারণ তখন নেপচুন গ্রহটি আকাশে সদ্যই আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে আরেকটি মৌলের জন্যও নেপচুনিয়ামের প্রস্তাব দিয়েছিলেন আরেক বিজ্ঞানী। তাই শেষ পর্যন্ত নিজের মাতৃভূমি জার্মানির নামে নতুন মৌলের নামকরণের প্রস্তাব দেন তিনি। অর্থাৎ জার্মেনিয়াম। কারণ জার্মানিকে ল্যাটিন ভাষায় জার্মেনিয়া (Germania) বলা হয়। কিছুদিন পর তার দেওয়া নামটি গৃহীত হয় বিজ্ঞানী মহলে।
জার্মেনিয়ামের বেশ কিছু ব্যবহার রয়েছে। বিশ্বের প্রথম সেমিকন্ডাক্টার ডিভাইস বানানো হয়েছিল এই মৌল দিয়ে। বর্তমানে একে ফাইবার অপটিকস কেব্ল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। উদ্ভিদ বা প্রাণীদের জন্য জার্মেনিয়ামের তেমন প্রয়োজন হয় না। প্রাণীদেহে এটি বিষাক্ত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে রসুনসহ কিছু শাকসবজিতে জার্মেনিয়াম পাওয়া গেলেও তা খুবই সামান্য পরিমাণে হওয়ায় দেহের জন্য ক্ষতিকর নয়।