চিলড্রেন রিসার্চ ফান্ড পেয়েছে ৯ শিক্ষার্থী। গত ২৫ এপ্রিল, শুক্রবার বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য এই অনুদান এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার খুদে গবেষকেরা এ জন্য কনসেপ্ট পেপার বা ধারণাপত্র জমা দেয়। তাদের মধ্য থেকে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মোট ৯ জন শিক্ষার্থী এ ফান্ডের জন্য মনোনীত হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা হলো নটর ডেম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভাশিস হালদার, চট্টগ্রামের গভর্নমেন্ট সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মৃত্তিকা দে এবং স্বস্তিকা দে, মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলী আহসান, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুয়াম্মার দাইয়ান ও মুহাইমেনুল ইসলাম, একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিয়ান পারিন, ওয়াইডব্লিউসিএ উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রূদাইবা তারান্নুম এবং নুসাইবা তাজরীন।
খুদে গবেষকদের অনুপ্রেরণা যোগাতে গবেষণার অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক বি এম মইনুল হোসেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্কুল পর্যায়ে এ ধরনের গবেষণা দেশে আরও হওয়া উচিত। পড়াশোনাকে মূল কাঠামো ধরে পাশাপাশি খেলার ছলে গবেষণা করলে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে থাকার সুযোগ থাকে।’
চিলড্রেন রিসার্চ ফান্ড বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের খুদে গবেষকদের জন্য একটি গবেষণা-সহায়ক প্রোগ্রাম। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও গবেষণায় আগ্রহী করতে এই ফান্ড দেওয়া হয়। এ প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের গবেষণা প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ পায়। শিক্ষার্থীরা ভৌত বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও রোবটিকস, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সামাজিক বিজ্ঞান, কৃষি এবং শিক্ষা বিষয়ক গবেষণার জন্য আবেদন করতে পারে।
ফান্ডের জন্য প্রথমে শিক্ষার্থীরা কনসেপ্ট পেপার জমা দিয়েছে। সেখানে গবেষণার নাম, বিষয়, পদ্ধতি, উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য ফলাফল সংক্ষেপে উল্লেখ করতে হয়েছে। এই পেপার জমা নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত গবেষণা প্রস্তাব জমা দিতে হয়েছে। সেখানে গবেষণার পদ্ধতি, সম্ভাব্য প্রভাব, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও তাদের খরচ, ল্যাব বা প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং মেন্টরের সুপারিশপত্র উল্লেখ করা হয়েছিল। এ বছর জমাকৃত প্রায় ১৫০ গবেষণাপত্র থেকে ৫৪ শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। এরপর সেই গবেষণাপত্রের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা প্রস্তাব কীভাবে লিখতে হবে, বৈজ্ঞানিক কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করে কীভাবে এক্সপেরিমেন্ট ডিজাইন করতে হবে এবং গবেষণার বাজেট প্রস্তাবনা—এরকম নানা বিষয়ে তিনটি অনলাইন কর্মশালা আয়োজন করা হয়।
গবেষণাগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় স্যালাইন নিয়ন্ত্রণের উদ্ভাবনী ব্যবস্থার প্রস্তাবনা, সক্রিয় ডেলিভারি রোবট সিস্টেমের কার্যক্ষমতা বাড়ানো, বাংলাদেশের বায়ু দূষণ হ্রাস করার ক্ষেত্রে ভার্টিক্যাল গার্ডেনের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য আরডুইনো মডেল তৈরি, নবায়নযোগ্য শক্তি সোলার প্যানেলের ক্ষমতা বাড়ানোর উপায়, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড দিয়ে মেট্রোনিডাজলকে জৈব নিষ্ক্রিয় রূপে রূপান্তর করার জন্য কার্যকারিতা মূল্যায়ন। এই গবেষণাগুলো পরিচালিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের স্বনামধন্য ল্যাবে।
এই প্রোগ্রাম ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীদের সৃজনশীল চিন্তা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে বিকশিত করার সুযোগ করে দেবে বলে আয়োজকেরা বিশ্বাস করেন। বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি এবং মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগার যৌথভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।