জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। ১৬ এপ্রিল, মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই খাদ্য ব্যবস্থাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ৬ দেশের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুস শহীদ, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিরেক্টর অফ এগ্রিবায়োরিসার্চের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ডিন জর্জ স্মিথ ও একই ইউনিভার্সিটির কলেজ অফ এগ্রিকালচার অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেসের পরিচালক করিম মেরাদিয়া।
মো. আব্দুস শহীদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক নেতাদের থেকে শেখার পাশাপাশি আমাদের দক্ষতা শেয়ার করার জন্য এ ধরনের ফলপ্রসূ আলোচনা সভা আয়োজন করা অপরিহার্য।’
জর্জ স্মিথ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এমন একটি চ্যালেঞ্জ, যা এখন আর নির্দিষ্ট কোনো দেশের সীমানায় আটকে নেই। এর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এই ফোরামের সাহায্যে আমাদের বৈচিত্র্যপূর্ণ দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের পৃথিবী সুন্দর করা যাবে।’
করিম মেরাদিয়া বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তন এবং দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্যব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব এবং সৃষ্ট নানাবিধ সমস্যা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানা।’
আলোচনার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে মূলত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জলবায়ু অভিযোজন খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, খাদ্য অপচয় ও ক্ষতি হ্রাস করার এবং আরও ন্যায়সংগত ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ফোরামের অংশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় প্রযুক্তির ভূমিকা, সহযোগিতামূলক গবেষণা, নীতিগত দিকনির্দেশনা, সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং প্রণোদনা, সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক বিভিন্ন প্যানেল নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আলোচিত হয় জলবায়ু পরিবর্তন এই অঞ্চলের খাদ্য ব্যবস্থাকে কীভাবে প্রভাবিত করছে তা নিয়ে।
এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশ এবং মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে।