ইউরোপিয়ান গার্লস ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের দুই পদক
ফ্রান্সে ইউরোপিয়ান গার্লস ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াডে (ইজিএমও) বাংলাদেশের মেয়েরা দুটি পদক পেয়েছে। এরমধ্যে একটি রৌপ্যপদক, অন্যটি ব্রোঞ্জপদক। রৌপ্যপদক পেয়েছেন মনামী জামান এবং ব্রোঞ্জপদক পেয়েছেন সাজি সেহনাই। এই অলিম্পিয়াডের ১৫তম আসর আয়োজিত হয় ফ্রান্সের বোর্দো শহরে।
এই আসরে বাংলাদেশের মোট স্কোর ছিল ৪৫। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৪তম। মনামী জামান ও সাজি সেহনাই ছাড়াও এই আসরে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিয়েছেন কৃতিকা চক্রবর্তী ও নাহিয়ান পারিন। তাঁদের সঙ্গে দলনেতা হিসেবে ছিলেন অতনু রায় চৌধুরী এবং উপ দলনেতা সাদিয়া হামিদ কাজী।
দলের মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছেন রৌপ্যপদকজয়ী মনামী জামান। প্রত্যেককে মোট ৬টি সমস্যার সমাধান করতে হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ও চতুর্থ সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ ৭ নম্বর করে মোট ১৪ পেয়েছেন মনামী। পাশাপাশি দ্বিতীয় ও পঞ্চম প্রশ্নে পেয়েছেন ২ করে মোট ৪ নম্বর। তাঁর মোট নম্বর ১৮। এই আসরে তাঁর অবস্থান ৫৮তম। এর আগে ২০২৪ সালের আসরে অনারেবল মেনশন পেয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে সাজি সেহনাই পেয়েছেন মোট ১৬ নম্বর। ২০২৫ সালের আসরে পদকহীন থাকলেও থেমে যাননি তিনি। প্রথম সমস্যায় সর্বোচ্চ ৭ নম্বর, তৃতীয় সমস্যায় ১ এবং চতুর্থ ও পঞ্চম সমস্যায় ৪ নম্বর করে মোট ৮ নম্বর পেয়েছেন। এই আসরে তাঁর অবস্থান ৭৭তম। মনামী জামানের থেকে ২ নম্বর কম পেয়ে তিনি অর্জন করেছেন ব্রোঞ্জপদক।
দলের বাকি দুই সদস্যের মধ্যে কৃতিকা চক্রবর্তী দ্বিতীয় ও তৃতীয় সমস্যার প্রত্যেকটিতে ১, চতুর্থ সমস্যায় ৩ এবং পঞ্চম সমস্যায় ২ নম্বর পেয়েছেন। তাঁর মোট নম্বর ৭ এবং এই আসরে অবস্থান ১৭৩তম। আর নাহিয়ান পারিন শুধু তৃতীয় সমস্যায় ৪ নম্বর পেয়েছেন। আসরে তাঁর অবস্থান ২০২তম।
ইউরোপীয় গার্লস ম্যাথমেটিকাল অলিম্পিয়াড শুরু হয় ২০১২ সালের এপ্রিলে। যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আয়োজন প্রথমে ইউরোপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এখন এটি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। বর্তমানে ইউরোপসহ বিশ্বের ৫০টির বেশি দেশ নিয়মিত অংশ নেয় এই অলিম্পিয়াডে।
অলিম্পিয়াডে প্রতিটি দেশ সর্বোচ্চ চারজন প্রতিযোগী মনোনীত করতে পারে। মোট ছয়টি কঠিন সমস্যা সমাধান করতে হয়। প্রতিটি সমস্যার পূর্ণমান ৭। সেখান থেকেই নির্ধারিত হয় স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক। এছাড়া অসাধারণ সমাধানের জন্য দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননাও।