আন্তর্জাতিক আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের স্বর্ণপদক জয়
১৮তম আন্তর্জাতিক আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদকসহ মোট পাঁচটি পদক অর্জন করেছে বাংলাদেশ দল। চীনের জিনিং কনফুসিয়াস স্কুলে এই অলিম্পিয়াড আয়োজিত হয় ৭-১৭ আগস্ট।
এতে দলীয় প্রতিযোগিতা আর্থ সিস্টেম প্রজেক্টে মোহাম্মদ তাহমিদ রহমান পেয়েছেন একটি স্বর্ণপদক, এবং ফারিস আহমেদ পেয়েছেন ব্রোঞ্জপদক। আবার দলীয় প্রতিযোগিতা ‘আন্তর্জাতিক টিম ফিল্ড ইনভেস্টিগেশন’-এ বাংলাদেশ দল থেকে মোহাম্মদ তাহমিদ রহমান একটি রৌপ্যপদক পেয়েছেন। আর এককভাবে অংশ নেওয়া ‘ইন্ডিভিজুয়াল থিওরেটিক্যাল টেস্ট’ এবং ‘ইন্ডিভিজুয়াল প্র্যাক্টিক্যাল টেস্ট’-এ মোহাম্মদ তাহমিদ রহমান একটি রৌপ্য এবং শেখ ফাহিম মাহমুদ একটি ব্রোঞ্জপদক পেয়েছেন। অর্থাৎ সব মিলে মোহাম্মদ তাহমিদ রহমান একটি স্বর্ণপদক এবং দুটি রৌপ্যপদক পেয়েছেন।
আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াডের আন্তর্জাতিক পর্বে বাংলাদেশ দলের সদস্য হিসেবে ছিলেন দিনাজপুর গভর্নমেন্ট কলেজের মোহাম্মদ তাহমিদ রহমান, নটর ডেম কলেজের ওমর বিন আরিফ ও শেখ ফাহিম মাহমুদ এবং সামারফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ফারিস আহমেদ। দলের মেন্টর হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইউনুস আহমেদ খান।
আন্তর্জাতিক আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াড মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ভূ-বিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞান বিষয়ের আন্তর্জাতিক একটি বার্ষিক প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশ দল গঠনের লক্ষ্যে দেশে আয়োজিত হয় জাতীয় আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াড। এ বছরের জাতীয় আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াডের একাধিক আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সেরা ৪ জনকে আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ দলের সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়।
আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াডের আন্তর্জাতিক পর্ব আয়োজন করা হয় আন্তর্জাতিক ভূবিজ্ঞান শিক্ষা সংস্থার (আইজিইও) কমিটির তত্ত্বাবধানে। চীনের জিনিং কনফুসিয়াস স্কুল ও শানডং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এই আয়োজনের যৌথ আয়োজক।
বাংলাদেশ ইয়ুথ এনভায়রনমেন্টাল ইনিশিয়েটিভ ন্যাশনাল আর্থ অলিম্পিয়াড আয়োজন করে। ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর এটি আয়োজিত হয়। এ বছর প্রতিযোগিতার প্রশিক্ষণ সহযোগী ছিল প্রাইম ব্যাংক, অ্যাকাডেমিক সহযোগী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক সমিতি। আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল কিশোর আলো।