চট্টগ্রামে বিজ্ঞানে নোবেল বক্তৃতা আয়োজিত

চট্টগ্রামে আয়োজিত হলো ‘এসপেরিয়া নোবেল বিজ্ঞান বক্তৃতা’। গত ৩০ নভেম্বর, শনিবার জিয়া স্মৃতি জাদুঘর (পুরাতন সার্কিট হাউজ) মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। চিকিৎসা ও শারীরতত্ত্ব, পদার্থবিদ্যা এবং রসায়নে চলতি বছরের নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ও তাঁদের কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয় এতে। 

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক সুমিত মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক মো. মাহবুব হাসান এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের বিজ্ঞানী মো. মুরশেদ হাসান সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক। এ ছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসপেরিয়া হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান গোলাম বাকী মাসুদ, জে আর মেটালের প্রোপাইটার জুয়েল আহমেদ, দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক আদনান মান্নান। এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি সাইফ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা দেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের সহসভাপতি মুজিবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক কাজী আরফাত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্না মজুমদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের সহসভাপতি বনকুসুম মজুমদার।

অধ্যাপক সুমিত মজুমদার আলোচনা করেন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার নিয়ে। তিনি বলেন, এবার যাঁরা পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেয়েছেন, তাঁরা পদার্থবিদ্যার মৌলিক বিষয়গুলো ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআইয়ের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। এটি মানুষের মস্তিষ্কের মতোই তথ্য সংরক্ষণ করে, এবং সে তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে শেখে।’

তিন বছর ধরে চট্টগ্রামে আয়োজিত হচ্ছে নোবেল বক্তৃতা। সেই ধারাবাহিকতায় চতুর্থবারের মতো এই বিজ্ঞান বক্তৃতা আয়োজন করে দৃষ্টি চট্টগ্রাম।

রসায়নে নোবেল পুরস্কারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকার কথা উঠে আসে মো. মাহবুব হাসানের বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘প্রোটিন ডিজাইন ও প্রোটিনের জটিল গঠন ব্যাখ্যার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি মডেল তৈরি করেন এবারে রসায়নে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীরা। এ প্রযুক্তি প্রোটিন গবেষণায় যুগান্তরকারী পরির্বতন এনেছে। গবেষণাচিন্তার স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, দূর করেছে অনেক বড় সীমাবদ্ধতা। আগে কোনো প্রাণীর জিন সংগ্রহ করে তা অন্য জায়গায় প্রয়োগ করে দেখতে হতো। সেটা ছিল এ ধরনের গবেষণার বড় সীমাবদ্ধতা। এখন আর তার দরকার নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহযোগিতায় কী তৈরি করতে চাই, সে অনুযায়ী প্রোটিন ডিজাইন করে আমরা এখন নতুন জিন তৈরি করতে পারি। এ প্রযুক্তির সহায়তায় আগামী ১০ বছরের মধ্যে পরিবেশ ধ্বংসকারী পলিথিন ধ্বংসের জৈব প্রভাবক তৈরি করা সম্ভব।’

মো. মুরশেদ হাসান সরকারের বক্তব্যে জানা যায় জীববিজ্ঞানে নোবেল গবেষণার কথা। তিনি বলেন, ‘দুই মার্কিন বিজ্ঞানী ভিক্টর অ্যামব্রোস এবং গ্যারি রাভকুনের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার জিন নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নিউক্লিয়াসে প্রোটিনগুলো আরএনএ ট্রান্সক্রিপশন ও স্প্লাইসিং নিয়ন্ত্রণ করে, আর মাইক্রোআরএনএ সাইটোপ্লাজমে এমআরএনএ অনুবাদ ও পরিপূর্ণতা নিয়ন্ত্রণ করে। এই পোস্ট-ট্রান্সক্রিপশনাল বা ট্রান্সক্রিপশন-পরবর্তী জিন নিয়ন্ত্রণ জীবের বিকাশ ও প্রাপ্তবয়স্ক কোষের ধরনগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জটিল বহুকোষী জীবনের জন্য এটি অপরিহার্য।’

গত তিন বছর ধরে চট্টগ্রামে আয়োজিত হচ্ছে নোবেল বক্তৃতা। সেই ধারাবাহিকতায় চতুর্থবারের মতো এই বিজ্ঞান বক্তৃতা আয়োজন করে দৃষ্টি চট্টগ্রাম। পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল এসপেরিয়া লিমিটেড। সহযোগিতা করেছে জে আর মেটাল। সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল ডিজিজ বায়োলজি অ্যান্ড মলিকুলার এপিডেমিওলজি রিসার্চ গ্রুপ, চিটাগাং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ অ্যান্ড হায়ার স্টাডি সোসাইটি, নেটওয়ার্ক অব ইয়ং বায়োটেকনেজিস্ট বাংলাদেশ, ইউএসটিসি ফার্মা সায়েন্স ক্লাব, চুয়েট বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং সোসাইটি, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি রোবোটিক্স ক্লাব। ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে ছিল বিজ্ঞানবিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তা।