অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের প্রথম অটোমোটিভ ডিজাইন কর্মশালা। ৭ জুলাই, শুক্রবার বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত হয় এ কর্মশালা। আগামী কয়েকদিন ঢাকার বিভিন্ন ভেন্যুতে এই কর্মশালার আরও কয়েকটি সেশন অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমান ইলেকট্রিক ভেহিকেলের (ইভি) বাজার, এর ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও কিভাবে বাংলাদেশি তৈরি নকশা বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছাতে পারে এই বিষয়গুলো আলোচিত হয় কর্মশালায়। পাশাপাশি ইভি পরিবহনের ওপর বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা এবং প্রস্তাবিত সহায়তার সমূহ নিয়েও কর্মশালায় আলোচনা করা হয়।
এ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন আইসিটি ডিভিশন-এটুআই-এর হেড অব কমার্শিয়াল স্ট্রাটেজির রেজওয়ানুল হক, জেনো ইভির চেয়ারম্যান এ এম ইশতিয়াক সারওয়ার, জেনো ইভির কো ফাউন্ডার মাসরুর হান্নান, চার্জিং বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা আলিম আল রাজি ও বুয়েট অটোমোবাইল ক্লাবের টেকনিক্যাল চিফ সাহিব উর রউফ। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন জেনো ইভির প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম হোসেন।
আইসিটি ডিভিশন-এটুআই-এর হেড অব কমার্শিয়াল স্ট্রাটেজির রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘সরকার বর্তমানে ইলেকট্রিক ভেহিকেলের ওপর বিশেষ নজর দিয়ে বিভিন্ন পলিসি তৈরি করেছেন। দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৬ লাখ ইভি রয়েছে। সরকার এই বাহনগুলির ওপর নানা ক্ষেত্রে কর মওকুফের পরিকল্পনা করছেন।’
জেনো ইভির চেয়ারম্যান এ এম ইশতিয়াক সারওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশে ইভির মার্কেট দিন দিন বাড়ছে। বেশ কয়েকটি দেশি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে তাদের নিজস্ব ইভি বাজারজাত করছে। ইভি সেক্টরে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই ধরনের কর্মশালা আধুনিক যানবাহন তৈরিতে ও দেশিয় যানবাহনের নকশায় বৈচিত্রতা নিয়ে আসবে।’
জেনো ইভির কো ফাউন্ডার মাসরুর হান্নান বলেন, ‘আজকের কর্মশালার উদ্দেশ্য হল, দেশে জিটি ডিজাইনারদের একটি কমিউনিটি গঠন করা। ভবিষ্যতে এই সেক্টরে কাজ করতে আগ্রহীদের নিয়ে তিনি আরও কর্মশালা আয়োজনের ইচ্ছা পোষণ করেন।’
চার্জিং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আলিম আল রাজি বলেন, ‘দেশে যারা ইভি নিয়ে কাজ করেন, তাঁরা সাধারণত তাঁদের জ্ঞান শেয়ার করতে চান না। জেনো ইভি এই সেক্টরে একটি কমিউনিটি তৈরির জন্য এগিয়ে এসেছে, এ জন্য তাদেরকে সাধুবাদ জানাই।’
বুয়েট অটোমোবাইল ক্লাবের টেকনিক্যাল চিফ সাহিব উর রউফ বলেন, ‘বাংলাদেশের অটোমোবাইল সেক্টরে একসঙ্গে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। তাঁদের ক্লাব জেনো ইভির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।’
এ কর্মশালায় অংশগ্রহণের জন্য ২০০ জনের বেশি আগ্রহী নিবন্ধন করেন। সেখান থেকে ৫০ জনকে কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। সপ্তাহব্যাপী এ কর্মশালায় আয়োজক হিসেবে ছিলেন জেনো ইভি ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক। সহযোগিতায় ছিল জাদু পিসি।