অনুষ্ঠিত হলো ‘প্রান্তিক পরিবেশে চাপ সহনশীল ফসলের বিকাশ ও বিতরণ’ শীর্ষক বিজ্ঞানবক্তৃতা। গত ২৯ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত এসিআই সেন্টারে এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান জেনোফেক্স এবং এসিআই লিমিটেড যৌথভাবে এটি আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে কৃষিবিজ্ঞান নিয়ে বক্তব্য দেন সৌদি আরবের কিং আব্দুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির সাস্টেইনেবল ফুড সিকিউরিটির সেন্টার অব এক্সিলেন্সের চেয়ারম্যান ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানী অধ্যাপক মার্ক টেস্টার এবং বাংলাদেশী জিনবিজ্ঞানী ও জেনোফেক্সের প্রতিষ্ঠাতা আবেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের প্রাণরসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী জেবা ইসলাম সিরাজ। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন দেশের বিভিন্ন কৃষি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ও বিজ্ঞানীরা। টেকসই আগামীদিনের কৃষি বিনির্মানে বক্তারা তাঁদের কাজ তুলে ধরেন।
কৃষক এই মাতৃগাছের বীজের জন্য সম্পূর্ণভাবে বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। এ সমস্যা সমাধানে আমাদের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন যেন কৃষক সহজে এই বীজ পান
আবেদ চৌধুরি বলেন, ‘বাংলাদেশে যেসব হাইব্রিড ধান চাষ করা হয়, তার বীজ সরাসরি প্রান্তিক কৃষক তৈরি করতে পারেন না। বীজের জন্য নির্ভর করতে হয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। কারণ, হাইব্রিড ধানের বীজ পেতে হলে পুরুষ ও স্ত্রী—দুই ধরনের ধান গাছ প্রয়োজন। মাতৃ গাছ বা A লাইন থেকে পাওয়া যায় বীজ। কৃষক এই মাতৃগাছের বীজের জন্য সম্পূর্ণভাবে বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। এ সমস্যা সমাধানে আমাদের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন যেন কৃষক সহজে এই বীজ পান।’
এরপর অধ্যাপক মার্ক টেস্টার প্রতিকূল পরিবেশে জন্য সহনশীল ধান তৈরির গবেষণা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘গোটা বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্ভিদ তার চিরচেনা পরিবেশ হারাচ্ছে। পৃথিবীর অনেক জায়গা লবণাক্ত পানিতে ডুবে যাচ্ছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন স্থানে বাড়ছে তাপমাত্রা। এ তাপমাত্রার উপযোগী করে ফসল উৎপাদন করা এখন সময়ের দাবী।’
এরপর চলে প্রশ্নোত্তর পর্ব। অতিথিরা নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ইউটিউবে।