চলছে ৬৯তম বার্ষিক ও ১৭তম জাতীয় বিজ্ঞান উৎসব
সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলছে ৬৯তম বার্ষিক ও ১৭তম জাতীয় বিজ্ঞান উৎসব। তিন দিনের এই বিজ্ঞান উৎসব শুরু হয়েছে গত ১০ এপ্রিল, শুক্রবার। উৎসব চলবে আগামী ১২ এপ্রিল, রোববার পর্যন্ত। এতে প্রায় ৬০টি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছে। এ বছর বিজ্ঞান উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য হলো—‘টেকনোলজি উইদাউট এথিকস ইনভাইটস ক্যাটাস্ট্রফি’।
১০ এপ্রিল, প্রথম দিন বিজ্ঞান মেলার প্রদর্শনী শুরু হয়। উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় বিকেল ৩টায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ব্রাদার প্লাসিড পিটার রিবেরু, সিএসসি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসান মাহমুদ খান বলেন, ‘স্কুলের এই মাঠ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি ধূলিকণা আমার স্মৃতির সঙ্গে বিজড়িত। তোমরা এখন এক বিস্ময়কর সময়ে আছ। মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে এআই, সব এখন তোমাদের হাতের মুঠোয়। তোমরা প্রশ্ন করতে ভয় পেয়ো না। একটি ছোট প্রশ্নই একটি বড় আবিষ্কারের কারণ হতে পারে।’
বিজ্ঞান মেলায় সারা দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। মেলায় মোট ৫টি গ্রুপে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির জন্য কিডস গ্রুপ, পঞ্চম-ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য জুনিয়র গ্রুপ, সপ্তম-অষ্টম শ্রেণির জন্য ইন্টারমিডিয়েট গ্রুপ, নবম-দশম শ্রেণির জন্য সিনিয়র গ্রুপ এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য কলেজ গ্রুপ।
উৎসবে অলিম্পিয়াড, দুই ক্যাটাগরির সায়েন্স প্রজেক্ট, বিজ্ঞানভিত্তিক দেওয়ালিকা বা ওয়াল ম্যাগাজিন প্রতিযোগিতা, গেম ইভেন্ট (হান্ট দ্য পিরিয়ডিক টেবিল) ও মিউজিয়াম স্পেসিমেন্ট আইডেন্টিফিকেশনে শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। অলিম্পিয়াডের মধ্যে থাকছে সাধারণ বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, ফিজিকস অলিম্পিয়াড, বায়োলজি অলিম্পিয়াড, অ্যাস্ট্রো অলিম্পিয়াড ও কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড। এ ছাড়া অরিগামি, প্রজেক্ট আইডিয়া প্রেজেন্টেশন, প্রজেক্ট আইডিয়া ড্রয়িংসহ আরও অনেক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
১১ এপ্রিল, শনিবার গ্রেগরিয়ান সায়েন্স ক্লাবের ৬০ বছর পূর্তি উদ্যাপন হয়। এ উপলক্ষে সকাল ১১টায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসজিএইচএসসি গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান রেভারেন্ড ফাদার কারমাল কোরাইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম. জাহান হোসেন খান এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের অধ্যক্ষ ব্রাদার লিও জেমস পেরেরা, সিএসসি।
১২ এপ্রিল, রোববার বিজ্ঞান মেলার শেষ দিনে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এম. ওসমান ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ফরিদা বেগম এবং লেকচার পাবলিকেশন্স লিমিটেডের ডিএমডি আহমেদ কামরুল হাসান।
তিন দিনের এই মেলায় প্রায় ১৮০টি প্রজেক্ট প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী অলিম্পিয়াড ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। আয়োজক কমিটি প্রায় ৪৩২টি পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছে। শিক্ষার্থীদের প্রজেক্টগুলো মূল্যায়ন করবেন দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ জন শিক্ষক। বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্যে এই আয়োজন নতুন উদ্দীপনা ও আগ্রহ সঞ্চার করবে—এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজকদের।
এ আয়োজনে প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড। ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে আছে বিজ্ঞানচিন্তা।