ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাদ-বাগানের জন্য একটি ছোট উদ্ভাবন

আমরা ছাদ-বাগানে টবের নিচে সাধারণত একটি মাটির বা প্লাস্টিকের খোরা ব্যবহার করি (বাম দিকের ছবির মতো)। ঘরের ভেতর ফুলের টব রাখার জন্যই মূলত এ ব্যবস্থা। আগে এটা করা হতো যেন টবে বেশি পানি দেওয়া হলে ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে না পড়ে। ছাদ-বাগানেও এ ব্যবস্থাটি আমরা চালু রেখেছি। কিন্তু এ ব্যবস্থায় খোরার মধ্যে টবে দেওয়া পানি বা বৃষ্টির পানি জমে থাকে। তাই এটা ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস মশার ডিম পাড়ার জন্য খুব পছন্দের জায়গা। এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। তাই টবের নিচে খোরার এ পানির আধারটি এডিস মশার প্রজননে সহায়তা করে। বর্তমানে এটা আমাদের জন্য একটি বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

টবের খোরায় এডিস মশার বংশবৃদ্ধির সমাধান দেবে আমার ছোট একটি উদ্ভাবন। এটি করাও খুব সহজ।

কেবল টবের নিচের পিরিচটিকে ডান দিকের ছবির মতো করে উল্টে দিন। এতে টবের নিচে চুঁইয়ে পড়া পানি চারদিকে ছড়িয়ে যাবে। শ্যাওলা জমবে না, আবার ডেঙ্গুর কারণ এডিস মশা বংশবৃদ্ধিরও সুযোগ পাবে না। আমরা কয়েক বছর ধরে আমাদের নিজেদের ছাদ-বাগানে এমনটা করছি। এতে কোনো অসুবিধা হয় না। কেবল প্লাস্টিকের তৈরি খোরাগুলো সূর্যের আলোর অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে ধীরে ধীরে ভঙ্গুর হয়ে যায়, টবের ওজন ধরে রাখতে পারে না। এ জন্য মাটির খোরা ব্যবহার করা ভাল। তবে প্লাস্টিকের খোরা ব্যবহার করতে চাইলে একটির ওপর আরেকটি, অর্থাৎ দুটি খোরা ব্যবহার করতে পারেন। ওপরের খোরাটির কারণে নিচের খোরাটি সুর্যের আলো পাবে না। ফলে সেটির শক্তি অটুট থাকবে। ওপরেরটি ভঙ্গুর হয়ে গেলেও সূর্যকিরণ আটকে দিতে পারে।

আরেকটি তথ্য জানা থাকা দরকার। এডিস মশা ডিম পাড়ার পর থেকে ডিমটি সম্পূর্ণ মশায় রূপান্তরিত হতে প্রায় ৭ দিনের মতো সময় লাগে। তাই যেসব জায়গায় পানি জমা সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে না, সে জায়গার পানি যদি ৩-৪ দিন পরপর ফেলে দেওয়া যায় বা লার্ভা মেরে ফেলার জন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার করা যায়, তাহলেও মশার বংশবৃদ্ধি বন্ধ করা যাবে। উল্লেখ্য, টবের মাটির ওপরে যদি পানি জমে থাকে, সেখানে অর্থাৎ, কাদামাটির পানিতে এডিস মশা সাধারণত ডিম পাড়ে না। তা ছাড়া এ পানি ধীরে ধীরে চুঁইয়ে নিচে চলে যায়। তাই বৃষ্টির কারণে টবের মাটির ওপরে সাময়িকভাবে জমা পানি কোনো সমস্যা নয়।

মনে রাখবেন, মনের আনন্দ ও সৌন্দর্যের জন্য করা ছাদ-বাগানটি অসাবধানতার কারণে নিজের বা প্রিয় মানুষদের, বিশেষ করে অনেক আদরের ছোট সন্তানদের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যাঁরা ছাদ-বাগান, করেন আশা করি তাঁরা সবাই নিজ দায়িত্বে ওপরের উদ্ভাবনটি ব্যবহার করে সর্বনাশা ডেঙ্গু থেকে নিজেদের ও আশপাশের মানুষদের বাঁচিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখবেন।

আমি মনে করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর-প্রধান ও নগরপিতাদের এদিকে একটু দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

লেখক: অনারারী অধ্যাপক (অবসর পরবর্তী), বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়