সফলভাবে আয়োজিত হলো ৪র্থ সাস্ট অ্যাস্ট্রোকার্নিভাল। ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয় দুই দিনের এ উৎসব। শাবিপ্রবির জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক সংগঠন কোপার্নিকাস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল মেমোরিয়াল অব সাস্টের (ক্যাম-সাস্ট) এ কার্নিভাল আয়োজন করে।
৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় অ্যাস্ট্রোকার্নিভাল উদ্বোধন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক পদার্থবিদ তীব্র আলি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাম-সাস্টের উপদেষ্টামণ্ডলী নাজিয়া চৌধুরি, মাহমুদ হাসান ও পরামর্শক সদস্যরা।
আয়োজনের প্রথম দিনে, অর্থাৎ ৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সিনিয়র ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল দুটি প্রতিযোগিতা। সকাল ১০টায় আয়োজিত হয় অ্যাস্ট্রো অলিম্পিয়াড। প্রতিযোগীদের মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয় আড়াই ঘণ্টা। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শেষ হয় এ প্রতিযোগিতা। দুপুর ২টা থেকে একই ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত হয় ওয়াটার রকেট কম্পিটিশন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৪টি দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এরপর বিকাল ৫টায় শুরু হয় জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক সেমিনার। এ সময় পদার্থবিজ্ঞানী তীব্র আলী কথা বলেন ব্ল্যাকহোল ও কোয়ান্টাম মেকানিকস নিয়ে। শিক্ষার্থীরাও অনেক প্রশ্ন করেছেন। সে সব প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন ৯ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত হয় নিউরন টিজার কন্টেস্ট, ব্রেইনস্টর্মিং কুইজ কনটেস্ট এবং পোস্টার প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা। পোস্টার প্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় প্রায় শতাধিক পোস্টার নিয়ে হাজির হয় শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়াও সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল লুনার ভিআর এবং ডকুমেন্টারি শো। এ ছাড়াও টেলিস্কোপ দিয়ে কীভাবে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করা হয়, তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি টেলিস্কোপ প্রদর্শনী করে টিম ‘দূরবিন’।
অনুষ্ঠানের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হজরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি মোহাম্মদ কবির হোসেন। তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
সিনিয়র ক্যাটাগরির অ্যাস্ট্রো অলিম্পিয়াডে প্রথম স্থান অর্জন করেছে শাবিপ্রবির দল ক্লেইন বোটল (Klein Bottle)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে শাবিপ্রবির দল কসমিক র্যাঞ্জারস (Cosmic Rangers) ও বুয়েটের দল নুব মাস্টার ৬৯ (Noob Master 69)। আর ওয়াটার রকেট কম্পিটিশনে প্রথম স্থান অর্জন করেছে বঙ্গদর্শন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে N2O এবং অ্যাকশন অ্যাস্ট্রোলজি। তিনটি দলই মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের।
জুনিয়র ক্যাটাগরির নিউরন টিজার রাউন্ডে প্রথম স্থান অর্জন করে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এটিএম সায়েন্টিস্ট (ATM Scientists)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্পেস পাইরেটস (Space Pirates) ও বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজিপিএসসি এক্সপ্লোরারস (BGPSC’s Explorers)। সেকেন্ডারি ক্যাটাগরির নিউরন টিজার রাউন্ডে পুরস্কার পেয়েছে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মিথানেট বয়েজ (Mathenate Boys), স্কলার্সহোমের সোলার ফ্লেয়ারস (Solar Flares) ও সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পাইলোটিয়ান আবরার (Pilotian Abrar)।
হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরির নিউরন টিজার রাউন্ডে পুরস্কার পেয়েছে যথাক্রমে এমসি কলেজ ও সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের যৌথ দল স্প্রিং মার্স এক্সপ্লোরারস (Spring Mars Explorers), জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্য ড্যাজেলিং কোয়েসারস (The Dazzaling Quasars) ও স্কলার্সহোমের একসেনট্রিক গ্যালাক্সি (Eccentric Galaxy)।
ব্রেইনস্টর্মিং কুইজ প্রতিযোগিতায় জুনিয়র রাউন্ডে প্রথম হয়েছে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. আহসান সামি ভূঁইয়া। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম হয়েছে যথাক্রমে সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের তাজকিয়া তাজমিন জাহিন, সিলেট সরকারি পাইলট হাই স্কুলের অপূর্ব গোস্বামী, সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সামিহা সাবা ও সিলেট সরকারি পাইলট হাই স্কুলের মৃন্ময় সরকার সুপ্ত।
সেকেন্ডারি রাউন্ডে প্রথম হয়েছে ব্লু বার্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের জারা সালমিন নুসাইবাহ। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম হয়েছে যথাক্রমে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের তাহসিন আলম, মো. নাহিন মুনকার নাকিব, সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের নুসরাত নামিরা খেয়া ও জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের লামিয়া আনজুম তাশিন।
হায়ার সেকেন্ডারি রাউন্ডে প্রথম হয়েছে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাহাত হোসাইন। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম হয়েছে যথাক্রমে প্রাইভেট এ লেভেলের শিক্ষার্থী মো. আবদুল্লাহ আল রিয়াদ জিশান, জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৌহিদ আহমেদ, স্কলার্সহোমের মোহতাসিম হাফিজ ও জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মুসতাফা তাহমিদ।
পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতায় জুনিয়র ক্যাটাগরিতে অনারেবল মেনশন পেয়েছে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের রুবাইয়াত ফেরদৌস জারিন। রানার-আপ হয়েছে ব্রিটিশ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আদিবা তাসনিম হক। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাসময় মেমোরিয়াল হাই স্কুলের সাবা আক্তার।
সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে অনারেবল মেনশন পেয়েছেন ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইফাদি রাগিব আকিব। রানার-আপ জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফারহান মাহদি। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্কলার্সহোল গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ঐন্দ্রিলা।
হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে অনারেবল মেনশন পেয়েছে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অনন্যা দেব। রানার-আপ হয়েছে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের নুজহাত জাহান দিশা। চ্যাম্পিয়ন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের নাফিসা তানজিন।
এ আয়োজনের টাইটেল স্পন্সর ছিল টিসিএল গ্লোবাল। অ্যাকোমোডেশন পার্টনার হিসেবে ছিল হোটেল গ্র্যান্ড আখতার। টেলিস্কোপ পার্টনার দূরবিন। মিডিয়া পার্টনার কালের কণ্ঠ এবং বিজ্ঞানবিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তা।