এসজিএইচএসসি বিজ্ঞান উৎসবের পর্দা নামলো

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ১৩ তম তীর-এসজিএইচএসসি বিজ্ঞান উৎসব।

২৫ জুন, শনিবার বিকাল ৫টায় রাজধানীর সেন্ট গ্রেগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে এই বিজ্ঞান উৎসবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় বিজ্ঞান উৎসবে বিজয়ী ৩ শ ৭১ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভের রেজিস্টার গ্রেগরিয়ান অধ্যাপক ইফফাত কায়েস চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন সিটি গ্রুপের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জাফর উদ্দিন, প্রথম আলোর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ও যুব কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মুনির হাসান এবং সেন্ট গ্রেগরি হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক সুখন চন্দ্র দাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ব্রাদার লিও জি পেরেরা।

সিটি গ্রুপের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জাফর উদ্দিন বলেন, ‘সবার পক্ষে বিজ্ঞানী হওয়া সম্ভব নয়, তাই প্রতিটি মানুষের বিজ্ঞানমনষ্ক হওয়া উচিত। বিজ্ঞানমনষ্কতার মাধ্যমে জীবনটাকে আরও সুন্দর করা সম্ভব।’

বিজ্ঞান উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একাংশ

প্রথম আলোর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ও যুব কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মুনির হাসান বলেন, ‘নিজের ওপর বিশ্বাস সবসময় নিজেকেই তৈরি করতে হয়। আর এই বিশ্বাসটা যখন তৈরি হয়, তখনই জীবনকে সামনের দিকে নেওয়া সম্ভব। আর এজন্য জরুরি বিজ্ঞানমষ্কতা।’

‘আজ যারা পুরস্কার পায়নি, তারা যেন নিজেদের পরাজিত না ভাবে।’ বলেন প্রধান অতিথি ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভের রেজিস্টার অধ্যাপক ইফফাত কায়েস চৌধুরী। ‘অনুশীলনই সফলতার চাবিকাঠি’ এই প্রবাদ বাক্য শিক্ষার্থীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘জীবনে অনুশীলনের বিকল্প নেই।’

শেষ পর্যায়ে বক্তব্য নিয়ে আসেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ব্রাদার লিও জি পেরেরা। বিজ্ঞান উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবনে ভালো কিছু করতে হলে অবশ্যই বিজ্ঞানে চিন্তাশীল হতে হবে।’

উল্লেখ্য, এই বিজ্ঞান উৎসবে দুটি ক্যাটাগরিতে বয়সভিত্তিক পাঁচটি গ্রুপে ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কিডস গ্রুপ, পঞ্চম-ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জুনিয়র গ্রুপ, সপ্তম-অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ইন্টারমিডিয়েট গ্রুপ, নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সিনিয়র গ্রুপ এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কলেজ গ্রুপে অংশগ্রহণ করে। রাজধানীর স্বনামধন্য ৬৫টি স্কুল প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে ১৭৫টি বিজ্ঞান প্রজেক্ট ও ৩৫টি দেয়াল পত্রিকা প্রদর্শিত হয়।

তীরের (সিটি গ্রুপ) পৃষ্ঠপোষকতায় এই বিজ্ঞান উৎসবের মূল আয়োজক ছিল গ্রেগরিয়ান সায়েন্স ক্লাব। এছাড়া সহযোগী পার্টনার হিসেবে ছিল প্রথম আলো।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইউল্যাব, ঢাকা