সিলেটে বিকাশ-বিজ্ঞানচিন্তা বিজ্ঞান উৎসব চলছে। আজ রবিবার সকাল ৮টায় সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয় এ বিজ্ঞান উৎসবের আঞ্চলিক পর্ব। উৎসবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বরেণ্য বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও গুনীজন।
সকাল সাতটা থেকে নগরীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গণে। কেউ এসেছে বিজ্ঞানের প্রজেক্ট হাতে, কেউবা শুধু কলম পেন্সিলের মতো প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে। কিন্তু সবার চোখে মুখেই দারুণ এক উৎসাহ আর উদ্দীপনা। বিজ্ঞান উৎসবে অংশ নিতে এই ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের আগমন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যই সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে যায়। উৎসবের সূচনা হয় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। জাতীয় সঙ্গীতের সময় জাতীয় পতাকা ও উৎসবের পতাকা উত্তোলন করেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. জামাল উদ্দিন ভূঞা ও বিকাশের ইভিপি ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির।
এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য শামীম আহমেদ, মানবিক বিভাগের ডিন আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, সহকারী অধ্যাপক প্রণবকান্তি দেব, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিনিধি ও লোকসংস্কৃতি গবেষক সুমনকুমার দাস, বিকাশের সহাকারী ব্যবস্থাপক শাকিল মাহবুব এবং বিজ্ঞানচিন্তার নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসার।
পতাকা উত্তোলন শেষে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য শামীম আহমাদ। বিজ্ঞান উৎসব আয়োজনের জন্য তিনি বিকাশ ও বিজ্ঞানচিন্তা ধন্যবাদ জানান তিনি। ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের কলোকাকলিতে মুখর এই আয়োজন দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।
এই মুহূর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় সবই বন্ধ। এর মধ্য শিক্ষার্থীরা যে বিজ্ঞানের টানে বিজ্ঞান উৎসবে যোগ দিতে হাজির হয়েছে, সে কারণে শুরুতেই শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ দেন, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিনিধি ও লোকসংস্কৃতি গবেষক সুমনকুমার দাস জানান। স্বাগত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, প্রথম আলো শুধু সংবাদ প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ করে না। বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য সকল ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকি আমরা। বিজ্ঞান উৎসব, গণিত অলিম্পিয়াড, ভাষা প্রতিযোগিতা, অদম্য মেধাবীদের বৃত্তি প্রদানসহ শিক্ষার্থীদের জন্য সবসময় কাজ করে যাচ্ছি আমরা। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
বিকাশের ইভিপি ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই পৌষের শীতের সকালে তোমরা যে কষ্ট করে এসেছো এজন্য তোমাদেরকে অভিনন্দন। আমাদের বাচ্চারা যেন বিজ্ঞানমনস্ক হয়, দেশ এবং বিদেশে বিজ্ঞানের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে যেন সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে সেই উদ্দেশ্যেই বিকাশ এবং বিজ্ঞানচিন্তা মিলে এই উৎসবের আয়োজন করছে।
বিকাশ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা সম্ভব হয়েছে তোমাদের মতোই বিজ্ঞানমনস্ক ছেলেমেদের কারণে।
স্বাগত বক্তব্যে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. জামাল উদ্দিন ভূঞা বলেন, বিজ্ঞান মানুষকে অনুসন্ধিৎসু করে। বিজ্ঞান আমাদের জীবিনের প্রতিটা ক্ষেত্রে জড়িত। বিজ্ঞান নিয়ে তাই চিন্তা করতে হবে আমাদের। এতে করে দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার মিলবে সমাধান। আমাদের কাজ হলো বৈজ্ঞানিক চিন্তার মাধ্যমে সমস্যার সহজ সমাধান করা। বিজ্ঞান নিয়ে চিন্তার মাধ্যমেই অনেক বড় বিজ্ঞানীর হতে পারবে তোমরা একদিন।
‘বিজ্ঞানে বিকাশ’ স্লোগান সামনে রেখে সাতটি বিভাগীয় শহরে হবে আঞ্চলিক উৎসব। ইতিমধ্যই ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিজ্ঞান উৎসবের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর একে একে অনুষ্ঠিত হবে, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে। সবশেষে জাতীয় পর্বের মাধ্যমে শেষ হবে এ আয়োজন। ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে আঞ্চলিক উৎসবের বিজয়ীরা।
বিজ্ঞান উৎসবে উৎসবে স্কুলের ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রজেক্ট প্রদর্শনী ও কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। প্রজেক্ট প্রদর্শনীতে ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একটি ক্যাটাগরিতে অংশ নেবে। আর কুইজ প্রতিযোগিতায় থাকবে দুটি ক্যাটাগরি। নিম্নমাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে অংশ নেবে ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, আর মাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে অংশ নেবে ৯ম-১০ম শ্রেণি ও চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। শুধু নিবন্ধনকারী শিক্ষার্থীরা এই দুই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে।
বিজ্ঞান উৎসবের যেকোনো খবর জানতে চোখ রাখুন bigganchinta.com-এ, বিকাশ-বিজ্ঞানচিন্তা বিজ্ঞান উৎসব ও বিজ্ঞানচিন্তার ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে, প্রথম আলোয় এবং বিজ্ঞানচিন্তার প্রিন্ট সংস্করণে।