আন্তর্জাতিক জলবায়ু অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের স্বর্ণপদক

অতিথিদের সঙ্গে বাংলাদেশ টিম

আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিষয়ক অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তাসিন মোহাম্মাদ এই পুরস্কার অর্জন করেছেন। রাশিয়ার সোচি শহরে অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় এটিই বাংলাদেশের একমাত্র একক স্বর্ণপদক। দলগতভাবেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ‘আউটস্ট্যান্ডিং প্রেজেন্টেশন অ্যাওয়ার্ড’।

এবারের অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। দলটি ১৩-২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাশিয়ার সোচি শহরে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। বাংলাদেশ দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ভাসানটেক সরকারি কলেজের মাহদী বিন ফেরদৌস, বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তাসিন মোহাম্মাদ, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের মো. নুর আহমাদ এবং হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. আশিকুর রহমান। এই দলের সঙ্গে দলনেতা হিসেবে ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহান মাসুদ তাসিন।

অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদকজয়ী তাসিন মোহাম্মাদ

অলিম্পিয়াডে প্রতিযোগীদের মূলত তিনটি ধাপে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়েছে। প্রকল্প উপস্থাপনা, ব্যবহারিক পর্ব এবং তাত্ত্বিক পর্ব। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ‘ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্টিফিক কনফারেন্স অন ইকোলজি অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক একটি বিজ্ঞান সম্মেলনেও অংশ নেন।

স্বর্ণপদকজয়ী তাসিন মোহাম্মাদ মনে করেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী। নিয়মিত এমন আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশ নিলে দেশ আরও অনেক উদ্ভাবনী তরুণ পাবে।’

অলিম্পিয়াডের ‘ফেস্টিভ্যাল অব প্রজেক্টস’ পর্বে বাংলাদেশ দল তাঁদের প্রকল্পটি উপস্থাপন করেন। প্রকল্পের নাম ‘ওয়াইল্ডফায়ার রিস্ক মনিটরিং সিস্টেম’। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি প্রযুক্তি। বনাঞ্চলে আগুন লাগার সম্ভাবনা আগেভাগেই শনাক্ত করতে পারে এই যন্ত্র। এর জন্য স্মার্ট আইওটি সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। সেন্সরগুলো বনের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, মাটির অবস্থা এবং ধোঁয়ার মাত্রা বিশ্লেষণ করে। পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে ২০ মিনিট পরপর আগুনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাঠায়।

চূড়ান্ত প্রেজেন্টেশনে বাংলাদেশ দল আরও দুটি উদ্ভাবনী সমাধান তুলে ধরে। একটি হলো বায়ো-পিক্সেল। এটি শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে শহরের ফাঁকা জায়গাগুলোতে ক্ষুদ্র সবুজ এলাকা তৈরি করে বাতাস ঠান্ডা রাখা যায়। অন্যটি সোলার-অ্যাকুয়াট্রনিক্স। এই ব্যবস্থায় সৌরশক্তি ব্যবহার করে লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধ করা হয়। এরপর সেই পানি ব্যবহার করে একই সঙ্গে মাছ ও সবজি চাষ করা যায়। এটি উপকূলীয় এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট সমাধানে সহায়ক।

পুরস্কার হাতে বাংলাদেশ টিম

.এবারের আন্তর্জাতিক জলবায়ু অলিম্পিয়াড আয়োজনে সহযোগিতা করেছে রাশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটি পরিচালনা করেছে সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরি এবং ট্যালেন্ট অ্যান্ড সাকসেস এডুকেশনাল ফাউন্ডেশন। এই অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দলের ফ্লাইট স্পন্সর করেছে ‘ফ্লাইদুবাই’। ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে ছিল ‘কিশোর আলো’ ও ‘বিজ্ঞানচিন্তা’।