ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে কম্পিউটেশনাল বায়োলজিবিষয়ক কর্মশালা

শুরু হয়েছে কম্পিউটেশনাল বায়োলজি বিষয়ক কর্মশালা। রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৮-১০ জানুয়ারি চলবে এই কর্মশালা। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ডেটা অ্যান্ড সায়েন্স এবং ম্যাথেমেটিকস অ্যান্ড ন্যাচারাল সায়েন্স বিভাগের আয়োজনে এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশগ্রহণকারীরা অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়োলজিক্যাল ডেটা অ্যানালাইসিস শেখার সুযোগ পাবেন।

কম্পিউটেশনাল বায়োলজি জীববিজ্ঞানের একটা শাখা। এখানে ফলিত গণিত, পরিসংখ্যান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রসায়ন এবং জৈব রসায়ন ব্যবহার করে জীববিজ্ঞানের সমস্যা সমাধান করা হয়। বর্তমানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে পড়ানো হয়। কম্পিউটেশনাল বায়োলজিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবদান এবং প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছর পদার্থবিদ্যা ও রসায়নে নোবেল দেওয়া হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর ভিত্তি করে। এই কর্মশালার লক্ষ্য, হাতে-কলমে কম্পিউটেশনাল বায়োলজির মূল বিষয়গুলোর সঙ্গে পরিচিত করা।

তিন দিনব্যাপী এ কর্মশালায় প্রথমদিনের কম্পিউটেশনাল বায়োলজির প্রাথমিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মন্টানার ডিপার্টমেন্ট অব বায়োমেডিকেল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক অমিতাভ রায় এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ডেটা অ্যান্ড সায়েন্সেসের অধ্যাপক ও সহযোগী ডিন তীব্র আলী। এতে প্রশিক্ষক হিসেবে আরও ছিলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের সেন্টার ফর কম্পিউটেশনাল অ্যান্ড ডেটা সায়েন্সের জুনিয়র রিসার্চ সায়েন্টিস্ট মীর সাজ্জাত হোসেন এবং রাফাত হাসান খান, জিভ্যাল ইনকর্পোরেশনের (Geval Inc) কম্পিউটেশনাল বায়োলজিস্ট সাকিবুল ইসলাম এবং মো. শাহাদৎ হোসেন।

দ্বিতীয় দিনের কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক আমিন আহসান। মেশিন লার্নিং বিষয়ে তিনি অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এরপর ১০ জানুয়ারি দলীয় প্রজেক্ট করার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের ফলাফল যাচাই করা হবে। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা তৃতীয় ও শেষদিন দলীয় প্রজেক্ট শেষে সার্টিফিকেট পাবেন। আর দূর থেকে আগত শিক্ষার্থীদের যাতায়াত খরচ বহন করবে একতা ফাউন্ডেশন।

পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী, বায়োলজিস্ট, কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ২৫ জন এতে অংশ নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বা পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন, এমন সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল এই নিবন্ধন। নিবন্ধন শেষে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে অংশগ্রহনকারীদের নির্বাচন করা হয়।

এবারই প্রথমবারের মতো এ কর্মশালা আয়োজিত হচ্ছে। পরে এ ধরনের আয়োজন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে করার ইচ্ছে রয়েছে আয়োজকদের। এ কর্মশালার সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অভিতাভ রায় এবং তীব্র আলী। সংগঠকেরা বলেছেন, ‘বাংলাদেশে এখন বায়োলজিক্যাল ডেটা নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে। সারা পৃথিবীতে এধরনের বড় ডেটা অ্যানালাইসিস করার জন্য এআই বা মেশিন লার্নিংয়ের মতো প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা যদি আমাদের ছেলেমেয়েদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিই, তাহলে তারা পৃথিবীর বুকে নিজেদের মেধার সাক্ষর রেখে যেতে পারবে। আমরা চাইলে প্লাজমা ল্যাবের মতো বড় আকারের কোনো আয়োজন হয়তো করতে পারি না। কিন্তু কম্পিউটেশনাল বায়োলজি শেখাতে পারি। একটা কম্পিউটার হলেই ছেলেমেয়েরা কাজ শুরু করতে পারে। ভালো সাড়া পেলে এধরনের আয়োজন দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও করা যেতে পারে।’

এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য তিনটি। কম্পিউটেশনাল বায়োলজি ও প্রোটিনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করা, হাতে-কলমে প্রোটিনের স্ট্রাকচার মডেলিং ও মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে ডেটা অ্যানালাইসিস শেখানো এবং কম্পিউটেশনাল বায়োলজি ও এআইয়ের প্রয়োগে বর্তমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা নিয়ে আলোচনা করা।

কর্মশালার আয়োজক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে রয়েছে দেশের জনপ্রিয় বিজ্ঞানবিষয়ক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তা।