প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক জলবায়ু অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ
প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিষয়ক অলিম্পিয়াডে (IOCE 2025) অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। ১৩ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার সোচি শহরে শুরু হয়েছে এই অলিম্পিয়াড। চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
আন্তর্জাতিক জলবায়ু অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিচ্ছেন পাঁচ শিক্ষার্থী। তারা হলো ভাসানটেক সরকারি কলেজের মাহদী বিন ফেরদৌস, বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তাসিন মোহাম্মাদ, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের মো. নুর আহমাদ এবং হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. আশিকুর রহমান। এই দলের সঙ্গে দলনেতা হিসেবে রয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহান মাসুদ তাসিন।
অলিম্পিয়াডে ১৪-১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারে। ২-৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে গঠিত হয় দল। প্রতিযোগিতা হয় দুটি ভাগে। একটি তাত্ত্বিক পরীক্ষা, অন্যটি ব্যবহারিক। দুটি পরীক্ষা আলাদা আলাদা দিনে নেওয়া হয়। তাত্ত্বিক অংশে শিক্ষার্থীরা একা এবং দলগতভাবে অংশ নেয়, আর ব্যবহারিক অংশে মাঠপর্যায়ে বা ল্যাবরেটরিতে কাজ করতে হয় হাতে-কলমে।
এই মূল পরীক্ষার পাশাপাশি কর্মশালা এবং ফেস্টিভ্যাল অব প্রজেক্টস নামে একটি বিশেষ প্রতিযোগিতা হয়। ফেস্টিভ্যালে প্রতিটি দল তাদের পরিবেশবান্ধব ও উদ্ভাবনী সমাধান সবার সামনে উপস্থাপন করে। এ অলিম্পিয়াডে ২০টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতা করছে।
এবারের অলিম্পিয়াডে জন্য বাংলাদেশ দল এআইভিত্তিক ওয়াইল্ডফায়ার প্রেডিকশন সিস্টেম তৈরি করেছে। বন বা খোলা জায়গায় আগুন লাগার আগেই তা বুঝতে পারে যন্ত্রটি। সৌরশক্তি ব্যবহার করা স্মার্ট আইওটি সেন্সর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাহায্যে এটি তৈরি করা হয়েছে। সেন্সরগুলো পরিবেশের তাপমাত্রা ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে। পরে এআইয়ের মাধ্যমে সেগুলোকে বিশ্লেষণ করে আগুনের ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়। এই পদ্ধতিটি প্রচলিত ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং ব্যায়সাপেক্ষ।
আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিষয়ক এই অলিম্পিয়াড আয়োজন করছে সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরি ও ট্যালেন্ট অ্যান্ড সাকসেস এডুকেশনাল ফাউন্ডেশন। এ আয়োজনে সহযোগিতা করছে রুশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ দলের ফ্লাইট স্পন্সর করছে ফ্লাইদুবাই। ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে রয়েছে কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা।