অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় জীবপ্রযুক্তি থিসিস উপস্থাপন প্রতিযোগিতা

জাতীয় জীবপ্রযুক্তি থিসিস উপস্থাপন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সঙ্গে অতিথিরা

জীবপ্রযুক্তিবিষয়ক থিসিস উপস্থাপন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হলো। গত ২০ ডিসেম্বর, শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কেন্দ্রীয় কচি কাঁচার মেলা কার্যলয়ে ‘জাতীয় জীবপ্রযুক্তি থিসিস উপস্থাপন প্রতিযোগিতা-২০২৪’ শিরোনামের এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। নেটওয়ার্ক অব ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্টস অব বাংলাদেশ (এনওয়াইবিবি) এটি আয়োজন করে। এতে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা নিজেদের থিসিস পেপার (গবেষণাপত্র) উপস্থাপন করেন। শুক্রবার প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার দেওয়া হয়।

এ আয়োজনের চূড়ান্ত পর্বে বিচারক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আইসিসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও ওয়ান হেলথ গবেষণাগারের পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক মিরাজ কোবাদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক এবং এনওয়াইবিবির পরিচালক আদনান মান্নান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জাহিদ হাসান এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হামিদ হোসেন। এ ছাড়া পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক, আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও এনওয়াইবিবির সাবেক সভাপতি আরিফ খান এবং ইভেন্ট বিভাগের সহ-সভাপতি রাগিব মুত্তাকীসহ আরও অনেকে।

এ প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে দেশের ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁদের থিসিস পেপার উপস্থাপন করেন। সেখান থেকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য ৭টি দল নির্বাচিত হয়

এর আগে, এ প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে দেশের ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁদের থিসিস পেপার উপস্থাপন করেন। সেখান থেকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য ৭টি দল নির্বাচিত হয়। নিজ নিজ দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত পর্বে থিসিস পেপার উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহমেদ জুবায়ের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহ জামিল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আল বিরুনী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিন বরকতউল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানবিম সামিন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ইমতিয়াজ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদা হক। কেউ গবেষণা করেছেন ক্যান্সার নির্ণয়ের নতুন পদ্ধতি নিয়ে, কেউ-বা কাজ করেছেন অটিজম শনাক্তের উপায় নিয়ে; কেউ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর উপায়, মশা নিধনের উপায় বা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে পোষাক শিল্পে ব্যবহৃত রং উৎপাদনের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন। ডায়রিয়া প্রতিরোধে সামুদ্রিক শেওলার ব্যবহার ও রান্না করা ব্রয়লার মুরগির দেহে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি নির্ণয় নিয়ে গবেষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিকেলে অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্বে শিক্ষার্থীরা প্রথমে নিজেদের থিসিস পেপার উপস্থাপন করেন বিচারকদের সামনে। বিচারকেরা গবেষণার বিষয়বস্তু, গবেষণা পদ্ধতি, গবেষণার মান ইত্যাদি বিবেচনা করে ফলাফল নির্ধারণ করেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আল বিরুনী। তিনি অটিজম শনাক্তের নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন। চ্যাম্পিয়ন হয়ে তিনি ‘মুনিরা বকুল বেস্ট প্রেজেন্টেশন এওয়ার্ড’ পেয়েছেন। দ্বিতীয় হয়েছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিন বরকতউল্লাহ। মশা নিধনের উপায় নিয়ে থিসিস উপস্থাপন করেন তিনি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহমেদ জুবায়ের তৃতীয় হয়েছেন। ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে পোষাক শিল্পে ব্যবহৃত রং উৎপাদনের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন এ ছাড়া বাকি সবাইকে তৃতীয় রানার আপ ঘোষণা করা হয়।

থিসিস উপস্থাপন করছেন এক শিক্ষার্থী; শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কেন্দ্রীয় কচি কাঁচার মেলা কার্যলয়ে।
ফলাফল ঘোষণার আগে দেশে জীবপ্রযুক্তি গবেষণার প্রয়োজনীয়তা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন অতিথিরা। তাতে উঠে আসে তরুণ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা

ফলাফল ঘোষণার আগে দেশে জীবপ্রযুক্তি গবেষণার প্রয়োজনীয়তা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন অতিথিরা। তাতে উঠে আসে তরুণ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা। অধ্যাপক আদনান মান্নান তাঁর বক্তৃতায় এনওয়াইবিবির কার্যক্রম সম্পর্কে জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অর্থ বরাদ্দ না পেলেও গবেষণা থেমে নেই। যার যতটুকু সুযোগ আছে, সেটুকু কাজে লাগিয়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা বিশ্বমানের গবেষণা করার চেষ্টা করছে। সব জায়গাতেই কাজ হচ্ছে। কিন্তু একজনের কাজ সম্পর্কে আরেকজন ঠিকভাবে জানতে পারছে না। আমরা সেই বাধাটা দূর করতে চাই। আজ এখানে সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আছে। ঢাকার একটা ছেলে জানছে চট্টগ্রামে কেমন গবেষণা হচ্ছে, চট্টগ্রামের ছেলেটাও পরিচিত হচ্ছে এখানকার গবেষণার সঙ্গে। এটা খুব দরকারি। করোনা অতিমারির কারণে মাঝে অনেকটা সময় আমরা এ আয়োজন করতে পারিনি। ভবিষ্যতে নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন করতে চাই।’

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হকসহ আরও অনেকে। সবশেষে চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারী বিজয়ী ৭টি দলের হাতেই তুলে দেওয়া হয় সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট।

নেটওয়ার্ক অব ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্টস অব বাংলাদেশ (এনওয়াইবিবি) আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় সহযোগী হিসেবে ছিল ডিজিজ বায়োলজি অ্যান্ড মলিকিউলার এপিডারমিওলজি রিসার্চ গ্রুপ, চট্টগ্রাম এবং ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ট্রাস্ট বাংলাদেশ (সিসিআরটি)।