বিশ্বসেরার তালিকায় রাশেদুল হক, ফেরদৌসী কাদরীসহ দেশের ৯২৬৩ বিজ্ঞানী

বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় বাংলাদেশের ৯২৬৩ বিজ্ঞানীর মধ্যে সেরা বিজ্ঞানী নির্বাচিত হয়েছেন রাশিদুল হক। তিনি আইসিডিডিআর,বি-র জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং সংক্রমণ ও পরজীবীবিজ্ঞান গবেষণাগারের প্রধান বিজ্ঞানী। দ্বিতীয় সেরা গবেষক আইসিডিডিআর,বির আরেক জ্যেষ্ঠ গবেষক ফেরদৌসী কাদরী। আর তৃতীয় সেরা বাংলাদেশি গবেষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইয়োডা) লাইফ সায়েন্স বিভাগের ডিন মোহাম্মেদ রাহমাতুল্লাহ।

বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় বাংলাদেশের ৯২৬৩ বিজ্ঞানীর মধ্যে সেরা বিজ্ঞানী নির্বাচিত হয়েছেন রাশিদুল হক। তিনি আইসিডিডিআর,বি-র জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং সংক্রমণ ও পরজীবীবিজ্ঞান গবেষণাগারের প্রধান বিজ্ঞানী। দ্বিতীয় সেরা গবেষক আইসিডিডিআর,বির আরেক জ্যেষ্ঠ গবেষক ফেরদৌসী কাদরী। আর তৃতীয় সেরা বাংলাদেশি গবেষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইয়োডা) লাইফ সায়েন্স বিভাগের ডিন মোহাম্মেদ রাহমাতুল্লাহ।

সম্প্রতি বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী ও গবেষকদের তালিকা প্রকাশ করেছে আলপার ডজার (এডি) সায়েন্টিফিক ইনডেক্স র‍্যাংকিং। সারা বিশ্বের ২২ হাজার ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৫৯ জন বিজ্ঞানী ও গবেষক এই র‍্যাংকিংয়ে জায়গা পেয়েছেন। এ তালিকায় বাংলাদেশের ২০১টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার ২৬৩ জন বিজ্ঞানী ও গবেষক জায়গা পেয়েছেন।

তালিকায় দেশের সেরা বিজ্ঞানী হিসেবে নির্বাচিত রাশেদুল হক প্রায় ২৫ বছর ধরে অন্ত্রীয় সংক্রমণ নিয়ে গবেষণা করছেন। বর্তমানে তিনি অন্ত্রীয় প্রোটোজোয়া পরজীবী, এর শনাক্তকরণের র‍্যাপিড টেস্ট বা দ্রুততর পরীক্ষা, এসব পরজীবী সংক্রমণের ওষুধের কার্যকারীতা পরীক্ষা, বাংলাদেশে ওরাল (মুখসংশ্লিষ্ট) পোলিও সংক্রমণ ও রোটাভাইরাসের ভ্যাকসিন এবং ডেঙ্গু ভ্যাকসিনের কার্যকারীতা পরীক্ষা (ট্রায়াল) নিয়ে কাজ করছেন। এ ছাড়াও শিশুদের অন্ত্রে, বিশেষ করে ক্ষুদ্রান্ত্রে বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, এর ফলাফল ও প্রভাব, নোংরা পরিবেশে শিশুদের ক্ষুদ্রান্ত্রে এ ধরনের সংক্রমণের ফলে তাদের খর্বাকৃতি হওয়ার সম্ভাবনা ইত্যাদি নিয়ে কাজ করছেন তিনি।

রাশেদুল হক
ফেরদৌসী কাদরী

দ্বিতীয় সেরা বাংলাদেশি গবেষক ফেরদৌসী কাদরী আইসিডিডিআর,বির ইনফেকশাস ডিজিস ডিভিশন বা সংক্রমণ রোগ বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দক্ষতার সঙ্গে। ১৯৮৮ সাল থেকে বিভিন্ন সংক্রমক রোগ, যেমন কলেরা, টাইফয়েড, ডায়রিয়া ইত্যাদির রোগতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা এবং এগুলো প্রতিরোধে টিকা—এসব নিয়েই আইসিডিডিআর,বিতে কাজ করছেন তিনি। বিশেষ করে কলেরার টিকা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। বের করেছেন লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানোর উপায়। ২০২১ সালে কলেরা জীবাণু শনাক্ত করার দ্রুত নির্ণয় পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এর নাম কলকিট। এটা বাংলাদেশে লাইসেন্স পেয়েছে এবং এটি বাজারে ব্যাপক উৎপাদনের অপেক্ষায় আছে। কলকিট উদ্ভাবন ফেরদৌসী কাদরীর অন্যতম সেরা গবেষণা। ফলে অল্প সময়ে, অল্প খরচে বাংলাদেশের মানুষ কলেরা শনাক্ত করার সুযোগ পাবে। ২০১৮ সালে ফেরদৌসী কাদরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে টাইফয়েডের ভ্যাক্সিনের সফল ট্রায়াল হয়। ভ্যাকসিনটির নাম টাইফয়েড ভ্যাকসিন এক্সিলারেশন কনসোর্টিয়াম (টাইভ্যাক)-বাংলাদেশ। এই ট্রায়ালের গবেষণার ফল বিশ্বখ্যাত জার্নাল ল্যানসেট-এ প্রথম প্রকাশিত হয়। এ ছাড়াও ২০২১ সালে র‍্যামন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ফেরদৌসী কাদরী। এশিয়ার নোবেলখ্যাত এ পুরস্কার দেয় ফিলিপাইনের র‍্যামন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন। ১২তম বাংলাদেশি হিসেবে এই পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

মোহাম্মেদ রাহমাতুল্লাহ

তৃতীয় সেরা বাংলাদেশি গবেষক মোহাম্মেদ রাহমাতুল্লাহ বর্তমানে সিলিকো স্টাডি, অর্থাৎ কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ আবিষ্কারের লক্ষ্যে কাজ করছেন।

বিজ্ঞানী ও গবেষকদের গুগল স্কলারের রিসার্চ প্রোফাইলে আগের ৬ বছরের গবেষণার এইচ-ইনডেক্স, আই১০ ইনডেক্স ও সাইটেশন স্কোরের ভিত্তিতে এ তালিকা প্রকাশ করে এডি সায়েন্টিফিক। বিশ্বের সেরা গবেষক, মহাদেশভিত্তিক সেরা গবেষক এবং দেশভিত্তিক সেরা গবেষকের তালিকা প্রকাশ করা হয় এ র‍্যাংকিংয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫২৪ জন তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন এ তালিকায়। একক বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি সর্বোচ্চ।

এবারের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরই আছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। দেশের এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ৫০৫ জন। এরপর আছে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪৮৩ জন তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৯২ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৪০, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২২৫, আইসিডিডিআরবি থেকে ২১৩, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৭২ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৭৬ জন এ তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।

সূত্র: এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স র‍্যাংকিং ২০২৩, প্রথম আলো