অজানা আইজ্যাক আসিমভ

বিজ্ঞান কল্পগল্পের গ্র্যান্ড মাস্টার বলা হয় আইজ্যাক আসিমভকে। এখন সাইফাইয়ের প্রতিশব্দ যেনো আসিমভ। অসংখ্য কল্পগল্প লেখকের কাছে তিনি অনুসরণীয়। ফাউন্ডেশন সিরিজ, নাইটফল কিংবা আই, রোবটসহ অসংখ্য গল্প-উপন্যাসে তিনি ভবিষ্যতের পৃথিবী, তথা মানবসমাজের চিত্র এঁকেছেন। তাঁর এসব লেখায় অনুপ্রাণিত হয়ে বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকরা একসময় সেগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে চেষ্টা করেছেন। শুধু কল্পবিজ্ঞানেই নয়, সাধারণ পাঠকদের জন্য বিজ্ঞানেরও বেশকিছু বই লিখেছেন তিনি। তাঁর বিজ্ঞান কল্পগল্পের মতোই সেগুলোও জনপ্রিয়। সর্বকালের অন্যতম সেরা এই বিজ্ঞান কল্পগল্প লেখকের মৃত্যু আজকের এই দিনে, ১৯৯২ সালের ৬ এপ্রিল। বিজ্ঞানচিন্তার পক্ষ থেকে রইল আইজ্যাক আসিমভের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

১. পাঁচ বছর বয়সে নিজেই পড়তে শিখেছেন

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে আইজ্যাক আসিমভ পড়তে শিখে গিয়েছিলেন। যদিও তাঁকে ইংরেজি বলতে শেখান তাঁর বাবা-মা। কিন্তু ইংরেজি পড়তে শেখেন তিনি নিজেই। আসিমভ ছোটবেলা থেকেই বই ও লাইব্রেরি ভালোবাসতেন। নিজে শিখেই তিনি থেমে যাননি, শিখিয়েছিলেন বোন মার্সিয়াকেও।

২. নিউমোনিয়ায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র শিশু

আসিমভের জন্ম ১৯২০ সালের রাশিয়ার পেট্রোভিচিতে। তার পরের বছর ওই শহরে ১৭ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আসিমভও। ওই শিশুদের মধ্যে মাত্র একজনই বেঁচেছিলেন। তিনি আইজ্যাক আসিমভ। অবশ্য, আসিমভ সেরে ওঠার পর তাঁর পরিবার রাশিয়া ছেড়ে পাড়ি জমায় যুক্তরাষ্ট্রে।

৩. যুদ্ধক্ষেত্রে দেখা করেছিলেন দুই লেখকের সঙ্গে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আসিমভ সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগ দেন। সেখানে তিনি দুই কল্পগল্প লেখক—রবার্ট হেইনলিন ও স্প্রাগ ডি ক্যাম্পের দেখা পান। ওই দুই লেখকের সঙ্গে তিনি কাজও করেছেন। তবে সৌভাগ্যক্রমে আসিমভকে টাস্ক ফোর্স থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কারণ, টাস্ক ফোর্স ‘অপারেশন ক্রসরোড’ পারমাণবিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

৪. বিজ্ঞানেও অবদান রেখেছিলেন আসিমভ

কল্পগল্প লিখে জনপ্রিয় হওয়া আসিমভ অবদান রেখেছিলেন বিজ্ঞানেও। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে প্রাণরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক থাকার সময় তিনি একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। এ ছাড়াও পদার্থবিজ্ঞান, গণিত ও ইতিহাস নিয়ে একাধিক বই লিখেছেন তিনি।

৫. উড়তে ভয় পেতেন আসিমভ

না, আসিমভের ডানা ছিল না। আসলে বিমানে চড়তে ভয় পেতেন। তাই খুব বেশি ভ্রমণ করেননি। মাত্র দুই বার বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন তিনি। নেভাল এয়ার এক্সপেরিমেন্ট স্টেশনে কাজ করার সময় প্রথমবার বিমানে ওঠেন। আর দ্বিতীয়বার ভ্রমণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই থেকে বাড়ি ফেরার পথে। 

৬. আসিমভ একজীবনে ৯ হাজার চিঠি লিখেছেন

পুরো জীবনের প্রায় ৫০০-এর বেশি উপন্যাস ও ছোটগল্প লিখেছেন আইজ্যাক আসিমভ। চিঠিও কম লেখেননি। সারা জীবনে প্রায় ৯০ হাজার চিঠি বা পোস্টকার্ড লিখেছেন তিনি।

৭. ভিনগ্রহীদের নিয়ে খুব বেশি লেখেননি  

কল্পগল্পের জনপ্রিয় লেখক আর এলিয়েন বা ভিনগ্রহীদের নিয়ে লিখবেন না, তা হয় না। কিন্তু আসিমভ এখানে ছিলেন অন্যদের চেয়ে কিছুটা আলাদা। তিনি মানুষ ও রোবট নিয়ে অনেক বেশি লিখেছেন। তাঁর সময়ে রোবটকে মানুষের শত্রু হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। কিন্তু আসিমভ তাঁর কল্পগল্পের মাধ্যমে রোবটকে মানুষের বন্ধুতে পরিণত করেছিলেন। তবে তাঁর ‘দ্য গড দেমসেলভস’ বইয়ে এলিয়েন ছিল।

৮. আসিমভের নামে গ্রহাণুর নামকরণ

‘৫০২০ আসিমভ’ একটি গ্রহাণুর নাম। আইজ্যাক আসিমভের নামের সঙ্গে মিলিয়ে এমন নামকরণ। মঙ্গলগ্রহের একটি খাদের নামও রাখা হয়েছে আসিমভ। সায়েন্স ফিকশন ও রোবটিকসে অপরিসীম অবদানের জন্য হোন্ডা তাঁদের মানবাকৃতির রোবটের নাম রেখেছিল আসিমভ।

লেখক: সদস্য, সম্পাদনা দল, বিজ্ঞানচিন্তা

সূত্র: বুক অ্যানালাইসিস ডট কম